19/02/2024
ভার্সিটি থাকা অবস্থায় বিজনেস শুরু করছিলাম ৮ জন মিলে। ছয় মাস না যেতেই দেখি ৫ জন নাই। বাকি আছি তিনজন। এই তিনজন মিলে খুঁজতে খুঁজতে কাজ পেলাম হাতিল ফার্নিচারের। কাজ ফিনিশ করার পর বিল আনতে গিয়ে দেখি সময়মতো টাকা দিচ্ছে না। বরং টাকা দিতে ঘুরায়। আবার দিলেও যত টাকা দেয়ার কথা তার অর্ধেক দিয়ে বলে পরের সপ্তাহে আসেন। প্রথম প্রথম এইগুলা খারাপ লাগলেও তখন বুঝিনি b2b (বিজনেস টু বিজনেস) সার্ভিসের হরর সিন এইটা না। হরর সিন আরো সামনে।
সেই হরর সিন টের পাই ইউনিলিভারের কাজ করে। সার্ফ এক্সেলের ফ্যাক্টরি, গাজীপুরে। সেখানে সময়মতো কাজ জমা দিয়ে বিল পাঠালাম ইউনিলিভার এর চট্টগ্রাম অফিসে। বিল গেছে ঠিকই কিন্তু টাকা আর আসে না। আসে না তো, আসেই না।
এই দিকে মাস শেষ। টিম মেম্বারদের বেতন দিতে হবে। বাধ্য হয়ে স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক এর ক্রেডিট কার্ড থেকে টাকা তুলে বেতন দিলাম। আর সপ্তায় সপ্তায় ফোন দিচ্ছি: ইউনিলিভারকে। সেখান থেকে: এই এপ্রুভাল, সেই এপ্রুভাল বাকি। ভেন্ডর এনলিস্ট বাকি। ভেরিফিকেশন বাকি। এই মাস না, পরের মাস। এখন ক্লোজিং। একাউন্টস ছুটিতে। এমন, একটার পর একটা কারণ দেখিয়েই যাচ্ছে।
এইভাবে কয়েকমাস চলে যাচ্ছে। আর এই দিকে স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের টাকা দিতে না পেরে--ডিফল্টার হলাম। সাথে সাথে দেখতে পেলাম কোট পড়া ব্যাংকের হাফ প্যান্ট মার্কা রূপ। আমার বিস্তারিত তথ্য চলে গেলো ব্যাংকের টাকা উঠানোর কাল্কেটরদের কাছে। তারা হুমকি ধামকি দেয়। গালি গালাজ করে। সকাল বিকাল টাকা দেয়ার জন্য থ্রেট দেয়। প্রেসার দেয়। কাবুলিওয়ালা স্টাইলে: বাসায় লোক পাঠিয়ে যত টাকা পারে নিয়ে যায়।
বাধ্য হয়ে আমাদের একজন পার্টনার আবুল খায়ের কোম্পানিতে চাকরিতে ঢুকে। সেই চাকরির বেতন দিয়ে কয়েক মাসে ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করি। তারপর আমরা আশা ছেড়েই দেই ইউনিলিভারের টাকা আর আসবে না। এই আশা ছেড়ে দিয়ে যোগাযোগ করা বন্ধ করার দুই মাস পরে পেমেন্ট আসে।
এইটা শুধু ইউনিলিভারের না। বরং আমরা যে কয়েকটা কয়েকটা বিগ বিগ কর্পোরেট এর সাথে কাজ করছিলাম। ইউনিলিভার, রহিমআফরোজ, কম বেশি সবারই পেমেন্ট রিলেটেড এই অবস্থা। তাদের মধ্যে কাওরান বাজারে বিশাল ভবনওয়ালা: TK গ্রূপ আরো দুই ডিগ্রি এগিয়ে। তারা তিনটা পেমেন্ট এর একটা দিছে। বাকি দুইটা দেয়ই নাই। মেরে দিছে।
তারপরেও বিজনেস করতে যেহেতু নেমেছি-- হাল ধরে রেখেছি। চেষ্টা চালিয়ে গেছি।
Copied