29/08/2026
ইউরোপের তিন দেশ থেকে ৪০ বাংলাদেশি ফেরত! কী কারণে এমন হলো?
ইউরোপের তিন দেশ থেকে একসঙ্গে ৪০ বাংলাদেশি নাগরিককে একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট সকালে ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সকাল পৌনে ৮টার দিকে বিমানটি ঢাকায় পৌঁছানোর পর শুরু হয় প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা।
তবে এই ৪০ জনের দেশে ফেরার ঘটনা শুধু বিমানবন্দরে পৌঁছে শেষ হয়নি। তাদের গ্রহণ করা থেকে শুরু করে দেশে ফেরার পর প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
🇨🇾🇬🇷🇧🇬 কোন কোন দেশ থেকে ফিরেছেন?
ফেরত আসা ৪০ জনের মধ্যে:
🇨🇾 সাইপ্রাস থেকে ২৪ জন
🇬🇷 গ্রিস থেকে ১৫ জন
🇧🇬 বুলগেরিয়া থেকে ১ জন
অর্থাৎ, এই বিশেষ ফ্লাইটে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি ফিরেছেন সাইপ্রাস থেকে। এরপর গ্রিস এবং বুলগেরিয়া থেকে বাংলাদেশি নাগরিকরা দেশে ফিরেছেন।
বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অধীন এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক)–এর সহযোগিতায় ফেরত আসা ব্যক্তিদের গ্রহণ করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের একটি দল।
এ সময় বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেবিচক, এভসেক, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পর ফেরত আসা ব্যক্তিরা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।
দেশে ফেরার পরও ছিল সহায়তার ব্যবস্থা
দেশে ফিরে আসা এই ৪০ জনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
ফেরত আসা প্রত্যেককে ২৯ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ৪০ জনের জন্য দেওয়া হয়েছে প্রায় ১১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, তাদের খাবার দেওয়া হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দেশে ফিরে আসা এসব ব্যক্তিকে দীর্ঘমেয়াদে পুনর্বাসনের লক্ষ্যেও সহায়তা দেওয়া হবে।
প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের কাউন্সেলিং, প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এর আগে কি এমন ঘটনা ঘটেছে?
সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি একেবারে বিচ্ছিন্ন কোনো প্রক্রিয়া নয়। এর আগেও একই ধরনের বিশেষ ফ্লাইটে ইউরোপ থেকে বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এর আগে ২১ মে ২০২৬ একই ধরনের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ইউরোপ থেকে আরও ২৭ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।
অর্থাৎ, ইউরোপ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আগেও হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এ ধরনের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম চলতে পারে।
কিন্তু এবার প্রশ্ন হচ্ছে, এই ৪০ জনকে কেন ইউরোপ থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হলো?
এবার আসা যাক মূল কারণটিতে
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের পক্ষ থেকে ফেরত আসা ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে কথা বলে জানা গেছে, ইউরোপে বৈধভাবে অবস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাদের কাছে ছিল না।
আর প্রয়োজনীয় বৈধ নথিপত্র না থাকার কারণেই তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছাড়া ইউরোপে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করতে বাংলাদেশ ২০১৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে একটি Standard Operating Procedure (SOP) সই করে।
এই ব্যবস্থার আওতায় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাংলাদেশি নাগরিকত্ব যাচাই ও নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
🇧🇩 ইউরোপে যেতে আগ্রহীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
এই ঘটনা থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি সামনে আসে, তা হলো ইউরোপে যাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু কোনোভাবে একটি দেশে পৌঁছানোই শেষ কথা নয়।
সেখানে বৈধভাবে থাকা, কাজ করা বা বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা, রেসিডেন্স পারমিট এবং অন্যান্য নথিপত্রের বৈধতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে দালাল বা অননুমোদিত ব্যক্তির কথায় ভুল তথ্য, ভুয়া কাগজপত্র কিংবা অনিয়মিত পথে ইউরোপে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এর সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো ভালোভাবে বোঝা জরুরি।
কারণ ইউরোপে পৌঁছানোর পরও যদি বৈধ অবস্থানের শর্ত পূরণ করা না যায়, তাহলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠানোর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তাই ইউরোপে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে সঠিক ভিসা, বৈধ কাগজপত্র এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক এই ৪০ বাংলাদেশির দেশে ফেরত আসার ঘটনা তাই ইউরোপে যেতে আগ্রহী এবং বর্তমানে ইউরোপে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। বিদেশে যাওয়ার আগে যেমন সঠিক তথ্য জানা জরুরি, তেমনি বিদেশে যাওয়ার পর বৈধ অবস্থান নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপ..