02/06/2026
no to to***co..
ধূমপান ছাড়তে চাই বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি-
ধূমপান ছাড়তে গিয়েও অনেকে ‘উইথড্রয়াল সিনড্রোম’-এর কারণে ফের নেশা শুরু করেন। এ ক্ষেত্রে নেশা ছাড়ার জন্য সদিচ্ছার পাশাপাশি নির্দিষ্ট কতগুলি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও ওষুধ অবলম্বন করা প্রয়োজন। জানালেন চিকিৎসক অরিত্র চক্রবর্তী
প্রশ্ন: প্রতি বছর ৩১ মে পালিত হয় ‘ওয়ার্ল্ড নো টোব্যাকো ডে’ বা তামাকমুক্তি দিবস। এই দিনটি পালনের উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব ও আসক্তি সম্পর্কে জন সচেতনতা বাড়াতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এই দিনটি পালন করে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর, আট মিলিয়নেরও বেশি মানুষ তামাকের কারণে মারা যায়। প্রায় এক মিলিয়ন প্রাণহানি তামাকের পরোক্ষ সংস্পর্শে আসার কারণে হয়। সাত মিলিয়নেরও বেশি মৃত্যু সরাসরি তামাক ব্যবহারের কারণে ঘটে। তামাকের প্রভাবে মুখ ও জিভে আলসার, দাঁতের ক্ষতি হতে পারে। ফুসফুসে ক্ষতি হলে নিশ্বাসের সমস্যা হতে পারে। ফুসফুস, মুখ, গলা ও পাকস্থলীতে ক্যানসারও হতে পারে। রক্তনালী ব্লক হয়ে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে স্ট্রোক হতে পারে যা থেকে মানুষ পঙ্গু হতে পারে।
প্রশ্ন: কোনও ব্যক্তি হঠাৎ তামাকের অথবা সিগারেটের নেশা ছেড়ে দিলে কী হবে?
উত্তর: সে ক্ষেত্রে তিনি কিছু শারীরিক ও মানসিক সমস্যা অনুভব করতে পারেন। এগুলিকে ‘উইথড্রয়াল সিম্পটম’ বলা হয়। এ ক্ষেত্রে মন খারাপ, বিরক্তি, অস্থিরতা, মাথাব্যথা, প্রেসার কমে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা, খিদে বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি। উপসর্গ দেখা যায়। সাধারণত শেষ সিগারেট খাওয়ার দু’ঘণ্টার মধ্যে এগুলি শুরু হয় ও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এগুলি সর্বোচ্চ হয়।
প্রশ্ন: কোনও ব্যক্তি কী ভাবে সিগারেটের নেশা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন?
উত্তর:সবার আগে দরকার নেশা ছাড়ার সদিচ্ছা। প্রথমে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনকে ঠিক করে নিতে হবে। ধরা যাক, নিজের অথবা ছেলে মেয়ের জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী ইত্যাদি বিশেষ দিনকে ‘কুইট ডেট’ হিসেবে ঠিক করা যেতে পারে। সেই দিনটি থেকে সিগারেট ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবতে হবে। এর পরে দরকার বন্ধুদের আড্ডা, দুশ্চিন্তা, একা থাকার মতো যে পরিস্থিতিতে ধূমপান বেশি হয় সেই পরিস্থিতিগুলিকে এড়িয়ে চলতে হবে। চা ও কফির সঙ্গে ধূমপানের অভ্যাস থাকলেও তা ত্যাগ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথম দু’সপ্তাহ খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এই সময়ে সিগারেট খাওয়ার মারাত্মক আসক্তি জেগে উঠলে তা মোটামুটি ৫-১০ মিনিট স্থায়ী হয়। তার পরে সেটা কমতে থাকে। যখন খুব সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছা হবে তখন চিউয়িং গাম খাওয়া, জল খাওয়া, গভীর শ্বাস নেওয়া, হাঁটা, গান শোনা ইত্যাদির মাধ্যমে নিজেকে অন্য কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে। এ ভাবে কাজ না হলে নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (এনআরটি) দরকার হয়। এ ক্ষেত্রে দু’টি কার্যকরী উপায় হল নিকোটিন গাম ও নিকোটিন প্যাচ ব্যবহার করা।
প্রশ্ন: এই নিকোটিন গামগুলি কী সাধারণ চিউইং গামের মত খেতে হয় না কি এটি ব্যবহার করার কোনও নিয়ম আছে?
উত্তর: এই গামগুলি ব্যবহারের একটি বিশেষ পদ্ধতি আছে। তাকে ‘চিউ অ্যান্ড পার্ক টেকনিক’ বলা হয়। এ ক্ষেত্রে একটি নিকোটিন গাম মুখের মধ্যে নিযে ধীরে ধীরে কয়েক বার চিবোতে হবে। যখন মুখে ঝাঁঝ অথবা চিনচিন ভাব অনুভব হবে তখন থেমে নিকোটিন গামটি গাল ও মাড়ির মাঝখানে রাখতে (‘পার্ক’) হবে। ওই চিনচিন অথবা ঝাঁঝালো ভাব কমে গেলে আবার কয়েক বার চিবোতে হবে ও কিছুক্ষণ পরে আবার রাখতে হবে। এ ভাবে একটি নিকোটিন গাম প্রায় ৩০ মিনিট ব্যবহার করে সেটিকে কাগজে মুড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হবে। যাঁরা রোজ ২৫টি বা তার কম সিগারেট খান তাঁরা দুই মিলিগ্রাম ‘নিকোটিন গাম’ ব্যবহার করবেন। যাঁরা রোজ পঁচিশের বেশি সিগারেট খান তাঁরা চার মিলিগ্রাম মাত্রা ব্যবহার করবেন। প্রথম ছ’সপ্তাহ প্রতি ১-২ ঘণ্টা অন্তর একটি করে গাম ব্যবহার করতে হবে। সপ্তম থেকে নবম সপ্তাহে ২-৩ ঘণ্টা অন্তর একটি করে গাম ব্যবহার করতে হবে। ১০-১২ সপ্তাহের মধ্যে প্রতি ৪-৬ ঘণ্টা অন্তর একটি করে গাম ব্যবহার করার চেষ্টা করতে হয়। মোটামুটি ১২ সপ্তাহ পরে গাম ব্যবহার বন্ধ করা হয়।
প্রশ্ন: নিকোটিন প্যাচ কী ভাবে ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: নিকোটিন প্যাচ চামড়ার সঙ্গে লাগিয়ে দেওয়া হয়। সেটি থেকে সারা দিন একটু একটু করে নিকোটিন শরীরে প্রবেশ করে। যাঁরা সারাদিনে দশটির বেশি সিগারেট খান তাঁদের ক্ষেত্রে ২১ মিলিগ্রাম প্যাচ দিয়ে শুরু করা হয়। দশটির কম সিগারেট খেলে ১৪ মিলিগ্রাম প্যাচ দিয়ে চিকিৎসা শুরু করা যায়।
প্রশ্ন: কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে?
উত্তর: যদি কেউ বহুবার চেষ্টা করেও নেশা ছাড়তে না পারেন, ধূমপানের সঙ্গে অ্যালকোহল অথবা অন্য কোনও নেশা থাকে, যদি অন্য কোনও মানসিক রোগ থাকে সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অনেক সময়ে শুধু নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি কাজ করে না। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো বুপ্রোপিয়োন, ভেরেনিক্লিন জাতীয় ওষুধ প্রয়োজন হয়।
Copied.