12/03/2026
প্রণাম:গুরবে নমঃ
প্রণাম জানাতে হবে
মম গুরুদেবে।
মনেপড়ে যায়
এক সুপ্রভাতের কথা।
কেমনে ডাকিব তাঁরে
এই ছিল মোর ব্যাথা।
এক্ষণে তাঁর চিকিৎসালয়ের
দরজা খুলিলেন নিজে।
প্রণাম জানালে পর
হাস্য বদনে বুকে
জড়ায়ে ধরিলেন মোরে
বসালেন নিজ পাশে।
কত গল্প করিলেন
ভাবিলে চোখে জল আসে ।
তিনি যে আর কেউ নন
সূর্যপদ দে ওরফে এস পি দে।
হোমিও গগনের ভানু সিংহ
প্রাত স্মরণীয় যে।
স্বর্ণকারের কাজ শিখতে
গিয়েছিলেন কাজে
বরযাত্রী যাচ্ছি বলে
কলকাতাতে এলেন লাজে।
হোমিও জগতে প্রবেশের
অদম্য ইচ্ছা মনে
টিউটর হিসেবে প্রবেশিলেন
গৃহস্থ এক পরিবার জনে।
হোমিওপ্যাথি পাশ করিলেন
স্বর্ণপদক জিতে নিয়ে,
যাত্রা শেষ হল তাঁর, ডি ,এফ (হোম)
রয়াল লন্ডন হসপিটালে গিয়ে।
মায়াজমের ব্যখ্যা দিলেন,
অ্যানামনেসিস করে ।
অঙ্কের মতো মিলিয়ে দিলেন
জীবনীশক্তির গ্রাপ টেনে।
প্রমান করে দেখিয়ে দিলেন
নোজোড প্রয়োগ করে।
তোমাকেইতো করিয়াছি তাই
জীবনের একমাত্র ধ্রুবতারা
তোমার নীতিধারা রাখিব মনে,
মানব কল্যাণের মুক্তধারা।
ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর দেবতাদি
জানিনা কোথায় আছে,
তুমিই আমার পরম ব্রহ্ম
তুমিই গুরবে নমঃ।
তোমার চরণ কমল ধোরি
কাঁদি যে আমি শয়ণে স্বপনে,
করুনার ধারা বর্ষাও
এই অধম সন্তানেরে।
।। আমরা হোমিওপ্যাথ।।
ডাঃ পান্নালাল সাধুখাঁ।
হ্যানিম্যানের শিষ্য মোরা,
আমরা হোমিও প্যাথ।
রোগ ব্যামোরে নিপাত করি,
ব্যাধির সর্বনাশ।
ব্যাধি মোদের শত্রু শ্রেষ্ঠ,
রোগী মোদের লক্ষ।
রোগীচিত্র আঁকি মোরা,
করতে কার্য্য সিদ্ধ।
আনবিক বোমা সম মোদের ,
আছে কত অস্ত্র ।
জীবনীশক্তির উপর আঘাত হানি ,
জেনে ভেষজ শাস্ত্র ।
অ্যান্টিসোরিক আছে মোদের,
করতে নিধন সোরা।
সিফিলিস দোষটাকেও নষ্ট,
করতে পারি মোরা।
বাত ব্যাধিরে করতে ভাল,
খুঁজি সাইকোসিস।
কায়দা কানুন জানি মোরা,
করতে অ্যানামনেসিস।
শক্তি আছে বস্তু নাই,
এমন অস্ত্রের আঘাত ভাই।
নির্মল করি জীবনীশক্তি ,
শৃঙ্খলা নাই যেথা।
গড়মিলটা সইতে নারি,
সূত্র ধরে চলতে পারি।
আত্মপ্রসাদ লাভ করি,
অর্থ লক্ষ্য নয়।
কেন্ট, হেরিং, মহেন্দ্রলাল ,আর কাঞ্জীলাল,
চেয়েছিলেন হোমিওপ্যাথির,
করতে অবস্থা বেহাল।
বিতাড়িত হয়েছিল গুরুদেব মম,
অত্যাচার হয়েছিল যীশুখৃষ্ট সম।
বাসতে ভাল হয়েছিল সকল বিরোধীকে,
আত্মনিয়োগ করেছিলেন শাস্ত্র প্রচারিতে ।
বিদ্যাসাগর, শরৎচন্দ্র, আর বীভূতিভূষণ,
আমাদেরই সতীর্থ যে হন,
গান্ধীজীও পড়েছিলেন মধুর অর্গানন।
অ্যালোপ্যাথি ছেড়েছিলেন,
কত মহারথী ।
পৃথিবীতে নজীর আছে,
হোমিওপ্যাথির গতির।
অগতির গতি হোমিওপ্যাথি,
সব চিকিৎসা শেষ,
অবশেষে এই প্যাথিতে,
আছেন রোগী বেশ।
স্থূল, সূক্ষ্ম, কারণ স্তর,
কত তত্ত্ব মনোহর।
ভারতীয় দর্শনেও আছে,
দর্শন, বিজ্ঞান একসাথে,
মিলেমিশে গেছে।
তইতো পরমহংস দেব,
করেছিলেন আশীর্বাদ,
রঙ্গমঞ্চ সম।
বঙ্গভূমির হোমিওপ্যাথি মম।
বিজ্ঞান সভার প্রতিষ্ঠাতা,
মহেন্দ্রলাল সরকার। জগদীশ বোস, সি. ভি. রমণ,
মেঘনাদ বাবুর দরকার।
হয়েছিল অনেক কেচ্ছা,
হোমিওপ্যাথির স্বীকৃতি নিতে ।
সরকার বাহাদুর পারেনিকো,
ধামা চাপা দিতে ।
দেশের মানুষ ভুলে গেছেন,
এমন উৎসন্ন মতি।
তাইতো বলি ব্যাহত আজ,
দেশের উন্নতি ।
কৃত্রিমতা ছেড়েদিয়ে প্রকৃতিকে ধর ,
বলি শোন দেশের নেতা।
জগতে তোমার দেশ,
হবে সবার বড়।
হোমিওপ্যাথ হলেও মোরা ,
দেশকে ভাল বাসি।
রোগপ্রতিরোধ করতে পারি,
আছে নোষড রাশি রাশি।
গড় পড়তা ওষুধ দিয়ে ,
হয়না ভোলা মন।
সক্রিয় যার আছে ওরে,
ষষ্ঠ ইন্দ্রীয় ধন।
সেই পারে নইলে আরে,
বিফল মন রথ।
যাবে ঝড়ে অকালেতে,
কত দেশের ভবিষ্যত।
শুধু বই পড়ে যে হবে না ভাই,
গুরু ধরতে হয়।
দ্রোনাচার্য্য করে গেছেন,
একলব্য কয়।
ভয় করিনা, ভয় করিনা ,
আছে মনবল।
খিদের জ্বালায় মড়তে পারি,
সূত্র ধরে চলতে পারি,
বিদ্রোহী অবিচল।
গবেষণা কর ভাই ,
হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চাই।
করতে বাজী মাত্র,
আমরা হোমিওপ্যাথ। ।
---------- 卐 ---------