Meditation for Soul

Meditation for Soul Meditation is a Magic. Eliminating depression out of ones life .Enhancing and enlighting the path

19/02/2022

ক.) কিছু মানুষ নদীর মতো, তাদের পাশে গিয়ে বসলে শান্তি আসে। মনে হয় আরো কিছুক্ষণ বসি।

খ.) কিছু মানুষ আকাশের তারাদের মতো, দূর থেকে সুন্দর। কাছে গেলেই দূরত্ব বেড়ে যায়।

গ.) কিছু মানুষ বৃষ্টির মতো, যাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদা যায়। শুধুই কাঁদা যায়।

ঘ.) কিছু মানুষ চলন্ত ট্রেনের মতো, প্রয়োজনে আপনার স্টেশনে দাঁড়াবে। অযাচিত স্টেশনে দাঁড়াবে না।

ঙ.) কিছু মানুষ ঝিঁঝি পোকার মতো, রাতের অন্ধকারে বিষাদের সংসার ছেড়ে উড়ে যায়।

চ.) কিছু মানুষ পাহাড়ের মতো, ধ্বনি দিলে প্রতিধ্বনি শুনতে পাওয়া যায় যাদের বুকে।

ছ.) কিছু মানুষ বৃত্তের স্পর্শকের মতো, ছুঁয়ে যায় চিরকাল। ভেতরে প্রবেশ করবে না কখনো।

জ.) কিছু মানুষ বটগাছের মতো, চিরকাল ছায়া দিয়ে যাবে, তবু অন্যের ছায়া পড়তে দেবে না জীবনে।

ঝ.) কিছু মানুষ দাঁড়িপাল্লার মতো, চিরকাল আপনার ওজন মাপতে থাকবে। সাফল্য-ব্যর্থতা-সুখ-দুঃখ সবকিছুর ওজন।

ঞ.) কিছু মানুষ মা এর মতো আশ্রয় দেয়, বাবার মতো আত্মবিশ্বাস দেয়, বোনের মতো স্নেহ দেয়। সেই মানুষটাই আমাদের আস্ত সংসার হয়ে ওঠে জীবনে।

😊

10/02/2022

❤️💚বয়স বাড়ার সাথে সাথে দুটো জিনিস নিয়মিত চেক করুন।
১) ব্লাড প্রেসার।
২) ব্লাড সুগার।

🔸চারটি জিনিস একেবারেই ভুলে যান৷
১) বয়স বাড়ছে এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করা,
২) অতীত নিয়ে সর্বদা অনুশোচনা করা,
৩) সবসময় দুঃখে কাতর হয়ে থাকা,
৪) মানসিক উৎকণ্ঠা বা উদ্বেগ।

🔸পাঁচটি জিনিস খাবার থেকে যত পারুন এড়িয়ে চলুন।
১) লবন,
২) চিনি,
৩) অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার ।
৪) অতিরিক্ত ভাজা ভূজি খাবার
৫) বাইরের কেনা খাবার বা প্রসেসেড ফুড।

🔸পাঁচটি জিনিস খাবারে যত পারুন বাড়িয়ে নিন।
১) সব রকমের সবুজ শাক
২) সব রকম সবুজ সব্জি, সীম বা মটরশুটি ইত্যাদি
৩) ফলমূল,
৪) বাদাম,
৫) প্রোটিন জাতীয় খাবার।

🔸মানসিক শান্তি বা সুখী হতে সাতটি জিনিস সবসময় সাথে রাখার চেষ্টা করুন।
১) একজন প্রকৃত ভালো বন্ধু,
২) নিজের সমগ্ৰ পরিবার,
৩) সবসময় সুচিন্তা,
৪) একটি নিরাপদ ঘর কিংবা আশ্রয়,
৫) অল্পেতে খুশি হওয়ার চেষ্টা,
৬) অতিরিক্ত অর্থ চিন্তা থেকে নিজেকে দূরে রাখা,
৭) কিছু সময় আধ্যাত্মিক চর্চায় বা সৎসঙ্গ দেওয়া।

🔸ছয়টি জিনিষের চর্চা রাখুন।
১) অহংকার না করা,
২) সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলা,
৩) মানুষের সাথে ভালো আচরণ করা,
৪) নিয়মিত শরীর চর্চা করা ।কিছুক্ষণ হাঁটা নিয়মিত ।
৫) ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।
৬) সরল ও সৎ জীবন যাপন

🔸সাতটি জিনিস এড়িয়ে চলুন।
১) কর্য,
২) লোভ,
৩) আলস্য,
৪) ঘৃণা,
৫) সময়ের অপচয়,
৬) পরচর্চা,পরনিন্দা
৭) কোনো রূপ নেশা বা আসক্তি

🔸পাঁচটি জিনিষ কখনোই করবেন না।
১) অতিরিক্ত ক্ষুধা নিয়ে খেতে যাওয়া,
২) অতিরিক্ত পিপাসায় কাতর হয়ে জল পান করা,
৩) অতিরিক্ত দূর্বল হয়ে ঘুমোতে যাওয়া,
৪) অতিরিক্ত দূর্বল হয়ে বিশ্রাম নেওয়া,
৫) একেবারে অসুস্থ হয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়া,

সব সময় নিজেকে সুস্থ রাখতে সচেতন হোন

“সুস্থ্য থাকুন - ভাল থাকুন - ভাল রাখুন”

৷৷ সংগৃহীত।।

30/01/2022

সুইডেনে একজন দিনমজুরের খুব ইচ্ছা ছিল সে টাইটানিকে চড়বে,
এই উদ্দেশ্য সে ওভারটাইম করতো।
টাইটানিক যাত্রা শুরু হওয়ার মাত্র এক মাস বাকি,
পরিবারের সকলেই তাদের ভ্রমন নিয়ে খুব উৎসাহিত ছিল।।
হঠাৎ তার ছেলেকে কুকুর কামড় দেওয়ার ফলে জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়ে গেল।।।
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ছেলেকে ৬ মাস বাইরে কোথাও নেওয়া যাবে না।।।।
পরিবারের সকলেই খুব কষ্ট পেল।।। তাদের এতদিনের ইচ্ছার জন্য সে দিনরাত পরিশ্রম করেছিল,
এখন সব জলে।।।
১৯১২ সালে টাইটানিক যাত্রা শুরু করে, দিনমজুরটি প্রতিদিন তার সন্তানকে বকা দিত।তার স্বপ্ন ভাঙার জন্য অভিশাপ দিত।।।
১২ দিনের মাথায় টাইটানিক ডুবি হয়,
এরপর দিনমজুরটি তার সন্তানের কাছে ক্ষমা চায়।
২) প্রশান্ত মহাসাগরে একটি জাহাজ ডুবে যায়,জাহাজের সকল যাত্রী মারা যায়,কেবল একজন ছাড়া।
মানুষটা অনেক কষ্টে একটি দ্বীপে আশ্রয় নেয় এবং সেখানে থাকতে শুরু করে,ঘরবাড়ি বানিয়ে এবং ফল খেয়ে বেচেছিল অনেকদিন।।।
হঠাৎ একদিন তার ঘরে আগুন লেগে যায় এবং সে
কান্নায় ভেঙে পরে,
সৃষ্টিকর্তাকে সে অপবাদ দিতে শুরু করে,
'' আমার সবকিছু কেড়ে নিলে,এখন আমার এইটুকুও কেড়ে নিলে তুমি''
পরের দিন একটি জাহাজ তার হই হুল্লোরের শব্দ এবং আগুন দেখে তাকে উদ্ধার করতে আসে,
সে সৃষ্টিকর্তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে।।
৩) একটি গ্রামে প্রায় সকল মানুষই একটি মাল্টিন্যাশেনাল কোম্পানিতে চাকরি করতো।
তখনকার রীতি অনুযায়ী, সম্মানী ব্যক্তি মানেই মাল্টিন্যাশানাল কোম্পানিতে চাকরি করতে হবে।।।
সেই গ্রামের একটি লোক গ্রাম থেকে শহরে গেল চাকরি পাওয়ার আশায়, এত শিক্ষিত না হওয়ার কারণে সে বেশ সুবিধা করতে পারছিল না,
পরবর্তীতে সে একটি মাল্টিন্যশানাল কোম্পানিতে সুইপারে কাজ পায়,
সব ফর্মালিটি শেষ, এখন কেবল জয়েন করবে,
কোম্পানি তাকে তার ইমেইল এড্রেস দিতে বলে,
তখনকার সময় সকল কর্মকর্তাদের ইমেইল এড্রেস ছিল বাধ্যতামূলক।।
তার কোনো ইমেল ছিল না,ফলে সে চাকরিতে জয়েন দিতে পারেনি।
রাগে দুঃখে সে পণ করে বসে সে আর চাকরিই করবে না।।
গ্রাম থেকে নিয়ে আসা টাকা দিয়ে টমেটো কিনে সে ব্যবসা শুরু করে,,,
ব্যবসায় প্রচুর পরিশ্রমের ফলে সে ভাল টাকা ইনকাম করছিল।
একদিন একজন শিল্পপতি তার পরিশ্রম দেখে তাকে সাবানের কারখানা দিতে বলে,
সে ঋণ গ্রহন করে এবং তার জমানো টাকা দিয়ে সাবানের কারখানা স্থাপন করে।
কয়েকবছর পর তার সাবানের কারখানা দেশের প্রতিটি রাজ্যে শাখা খুলে ফেলে এবং তাকে বানিয়ে দেয় কোটিপতি।
এলিকো নামের একটি বীমা কোম্পানি তার বীমা করানোর জন্য তার কাছে যায়,
এলিকোর এজেন্ট তাকে ফর্ম পূরণ করতে বললে তিনি বলেন, আমার কোন ইমেইল এড্রেস নেই,,,
এই কথা শুনে এজেন্ট অবাক হয়ে যায়,
তিনি বলেন,আপনার ইমেইল এড্রেস ছাড়া আপনি কোটি টাকার মালিক,আপনার ইমেইল এড্রেস থাকলে তো আপনি বিশ্বের এক নাম্বার ধনীব্যক্তি হয়ে যেতেন।
তিনি হেসে জবাব দেন''আমার ইমেইল এড্রেস থাকলে আমি হতাম সুইপার,তাই আজ পর্যন্ত ইমেইল খুলিনি''।
ওয়াট গড উইলস ইস ফর গুড।।।
সৃষ্টিকর্তা যা করেন ভালোর জন্য করেন,
জলাতঙ্ক রোগাক্রান্ত না হলে দিনমজুরটি হয়তো তার গল্প বলার জন্য বেচে থাকতেন না,
বেড়ার ঘরে আগুন না লাগলে মানুষটি হয়তো কখনও উদ্ধার পেতেন না,
ইমেইল আইডি থাকলে লোকটি হয়তো শিল্পপতি না হয়ে সুইপারের চাকরি করতো।
সৃষ্টিকর্তা আমাদের কখনও নিরাশ করেন না,
আজকে ভাল কিছু পাইনি, ভবিষ্যৎ হয়তো আমাদের অপেক্ষা করছে।।।
চেষ্টা করে যেতে হবে,
ডু ইউর বেস্ট এন্ড লিভ দা রেস্ট।।।
যতক্ষণ ভাল কিছু না হয় অপেক্ষা করে যেতে হবে,
সৃষ্টিকর্তার নিকট বিনয়ী হতে হবে,চেষ্টা করে যেতে হবে।।।
সাফল্য আসবেই।।।।
সাফল্য তোমাকে ঠিকই খুজে নেবে।

( সংগৃহীত)

06/01/2022

হিন্দুধর্মে ঘট ব্যবহার করা হয় কেন?

ছোটবেলা থেকে অনেকের মনে প্রশ্ন হতে পারে,যেকোনো পুজোয় ঘট কেন ব্যবহার করা হয় ? দুর্গা পুজা, লক্ষ্মী পুজা, সরস্বতী পুজা , মনসা পুজা প্রায় সব পুজায় দেখা যায় যে প্রতিমা থাকুক আর না থাকুক ঘট থাকবেই।

যে কোন পুজোর সময় ঘট স্থাপন করতে হয়। ঘট কোন দেবী বা দেবতার প্রতিমা নয়। ঘট ভগবানের নিরাকার অবস্থার প্রতীক। হিন্দুরা পুজোর সময় যেমন ভগবানের সাকার স্বরূপ কে পুজো করে তেমনি নিরাকার স্বরূপকেও পুজো করেন। তাই ঘট স্থাপন প্রতি পুজোতে একান্ত আবশ্যক। ঘট স্থাপন ছাড়া পুজো অসম্পূর্ণ বলে মনে করা হয়। প্রায় সব পুজোয় ঘট লাগে।

যারা পুজোর কাজের সাথে জড়িত আমরা জানি ঘটের মধ্যে অনেক উপাদান ব্যবহার হয়। যেমন- পঞ্চশস্য, পঞ্ছগুড়ি,পঞ্চপল্লব,পঞ্চরত্ন, জল,মাটি,
নারিকেল,গামছা,কান্ডকাঠি ইত্যাদি।

আজকে আমরা এসব উপাদানগুলোর তাৎপর্য সম্পর্কে জানব।

ঘট আমাদের দেহের প্রতিরুপ
পুজোর সময় পঞ্চগুড়ি দিয়ে পিঠ তৈরি করা হয় ।
এই পঞ্ছগুড়ি_পঞ্চমহাভুত (অর্থাৎ ক্ষিতি , অপ , তেজ , মরুৎ , ব্যোম ) এর প্রতিক।
এই পঞ্চমহাভুত এর উপর মৃত্তিকা দিয়ে পিঠ তৈরি করা হয়।
মৃত্তিকা বেদীর উপর পঞ্চশস্য দেওয়া হয়।
এই পঞ্চশস্য আমাদের পঞ্চবৃত্তি (কাম,ক্রোধ , লোভ, মোহ ও মাৎসর্য) এর প্রতীক ।
এর ওপর ঘট উপস্থাপন করা হয় ।
ঘট আমাদের দেহের প্রতিক। আধ্যাত্মিক ভাষায় দেহকে দেহঘটও বলা হয়।
ঘটের ভেতর পঞ্চরত্ন দেওয়া হয়।
পঞ্চরত্ন হল এই পঞ্চইন্দ্রিয়ের (চক্ষু, কর্ন, নাসিকা, ত্বক ও জিহ্বা) প্রতিক।
এর পর ঘটে জল ঢেলে পূর্ণ করা হয়।
জল হল দেহরস বা রক্ত।
ঘটে এবার পঞ্চপল্লব দেওয়া হয়।
এই পঞ্চপল্লব এই পঞ্চবায়ু (পান, অপান, উদ্যান, সমান , ব্যান)এর প্রতিক ।
এর উপর ডাব বা নারিকেল দেয়া হয়। আমরা জানি নারিকেল এ আমাদের মুখের মত চোখ, মুখ ,নাক দেখা যায়।
সেই কারনে নারিকেল আমদের মুখমন্ডলের প্রতিরুপ।
মস্তক থাকলে তাতে আচ্ছাদন দিতে হয়। তাই নারিকেল এর উপর গামছা বা বস্ত্র দেওয়া হয়।
এই হল আমাদের দেহের প্রতিরুপ।
আর কান্ডকাঠি হল চারবেদের প্রতীক।

Courtsey Sudip Das

★ *যদি মৃত্যু না হতো* ★যদি এমন হয় যে 'আমার' মৃত্যু হবে না, বা 'আমি' অমর তাহলে কি হবে!আলেকজান্ডার চেয়েছিলেন অমর হতে। তাই ...
04/01/2022

★ *যদি মৃত্যু না হতো* ★

যদি এমন হয় যে 'আমার' মৃত্যু হবে না, বা 'আমি' অমর তাহলে কি হবে!

আলেকজান্ডার চেয়েছিলেন অমর হতে। তাই তিনি ভারতে এসেছিলেন অমরত্বের সন্ধানে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর এক যোগীর সন্ধান পান তিনি। সম্রাটের আদেশে তাঁর সৈন্যরা সেই যোগীকে গিয়ে বলল, "আমাদের সাথে এক্ষুনি যেতে হবে"। "আমি কোথাও যাই না, সম্রাটের ইচ্ছে হলে এখানে আসতে পারে", যোগী জানায়।

এই কথা শুনে সৈন্যরা মূহুর্তে তরবারি বের করে বলে চল নাহলে তোমার মুন্ডু নিয়ে যাব। যোগী নির্বিকার, হাসল, বলে তাহলে তাই কর। সৈন্যরা এরকম আশ্চর্য জিনিস দেখে নি যার মৃত্যুভয় নেই। কিছুক্ষণ অবাক হয়ে থেকে তারা ফিরে গেল এবং সম্রাটকে সমস্ত জানাল।

আলেকজান্ডার অগত্যা নিজেই এলেন কারণ অমরত্ব বড় বালাই। যোগীকে জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কি আমায় অমরত্বের সন্ধান দিতে পারো?" যোগী তাকে এক স্বচ্ছ জলের সরোবরের সন্ধান দিলেন এবং সেই জল পান করতে বললেন।

আলেকজান্ডার যোগীর নির্দেশিত পথে যাত্রা শুরু করলেন এবং যেমন যেমন বলেছিল যোগী, তেমন তেমন মিলে গেল। তিনি সেই স্বচ্ছ জলের সরোবরের সন্ধান পেলেন।

কিন্তু যেইমাত্র তিনি হাতে আঁজলা করে জল নিয়ে পান করতে যাবেন, আওয়াজ এল, "খেয়ো না, খেয়ো না"! অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখলেন একটা কাক, তাকে সতর্ক করছে। কাকটা বলল জানো আমার কি কষ্ট! আমি অমর। আমার মৃত্যু নেই কারণ আমি এই জল পান করেছিলাম কত হাজার বছর আগে। আমার একটুও বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে না। কিন্তু কি করব! আমার সাধ, আহ্লাদ কিছু নেই! এইভাবে বেঁচে থাকা যে কি কষ্ট তা কল্পনাও করতে পারবে না! আমি আত্মহত্যাও করতে পারি না!

আলেকজান্ডার কিঞ্চিত থমকে গেলেন। জীবনে এই প্রথম দোর্দন্ডপ্রতাপ সম্রাট ঘাবড়ে গেলেন, হাতের জল গলে পড়ে গেল। কি একটা ভেবে প্রচন্ড ভয় পেলেন। উঠে দাঁড়ালেন এবং ধীরে ধীরে পিছন ফিরে চলে গেলেন। — (গ্রীক লোককথা)

মৃত্যু সুন্দর, খুব সুন্দর। একটা পূর্ণ জীবন কাটিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়াটা যে কত সুন্দর ও বাঞ্ছনীয়, তা যারা সেই সুযোগ দেরীতে পায় তারাই একমাত্র অনুভব করতে পারে। সবথেকে আনন্দের জিনিস হলো আমরা জানি যে আমাদের একদিন মৃত্যু হবে। তাই যতদিন আছি আনন্দ করে বাঁচি, এটাই আশা করা উচিত। জীবন দীর্ঘ নয়, আনন্দের হোক।

মৃত্যু নেগেটিভ নয়, বরং অনেক বেশি পজিটিভ। মৃত্যু আছে বলেই জীবন আনন্দের। আমরা যখন পৃথিবীতে আসি তখন আধা মৃত্যু সাথে নিয়েই আসি। মানে আধা জন্ম আধা মৃত্যু। জন্ম হয় প্রশ্বাস (inhalation) গ্রহণ দিয়ে, মৃত্যু হয় নিঃশ্বাস (exhalation) ত্যাগ দিয়ে।

অমরত্ব লাভ হোক ভাবনায়, কর্মে, অনুভবে, চেতনায় ....শরীরে নয়। যোগীদেরও মৃত্যু হয়। যোগ মানে অমরত্ব নয়, যোগ মানে সংবেদনশীল জীবনযাপন Yoga is not about eternal life, Yoga is about sensible life.

যুধিষ্ঠির কে যক্ষ জিজ্ঞাসা করেছিল,পৃথিবীর সবচেয়ে আশচর্য বস্তু কি? যুধিষ্ঠির, উত্তর দিয়েছিল, মানুষ জানে সে একদিন মারা যাবে, তবুও আনন্দ করে, ভালবাসে, বিবাহ করে, সন্তানের জন্ম দেয় ।
(সংগৃহীত)
সুপ্রভাত
সুস্থ থাকুন।। ভালো থাকুন।।

22/12/2021

(বাস্তবিজ্ঞান প্রসঙ্গে আলোচনা)
উত্তরমুখী বাড়িতে অত্যন্ত দারিদ্র্য থাকে---দেখে নিস, বলে দিচ্ছি। উত্তর--পশ্চিম দিকের বাড়ির লোকের মধ্যে Disharmony (অসাম্য ভাব ) থাকে। পরিবারের মধ্যে ঝগড়া--অশান্তি লেগেই থাকে এবং প্রায়ই রোগ--ব্যাধি দেখা দেয়। তাই পূর্ব ও দক্ষিণমুখী গৃহ করতে হয়। এতে পরিবারস্থ লোকের মনের সাম্যভাব যেমন বজায় থাকে, তেমনি তা স্বাস্থ্যপ্রদও। আমাদের দেশ ভারতবর্ষ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত সেইজন্য চৌম্বকক্ষেত্র অনুসারে উত্তর--পশ্চিম দিকে মাথা করে শুতে নেই, তাতে ঘুমে জড়তা থাকে। আর পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে মাথা করে শয়ন করলে সুনিদ্রা হয়। তবে শবাসনে পেশীর রেষ্ট হয়--একমাত্র সুষুপ্তি বা Sound sleep--এ ব্রেন রেষ্ট পায়। আর গভীর ধ্যানের মধ্যেই মাথা বা ব্রেন রেষ্ট পায়--শরীর ও মন শান্ত হয়।
ধ্যান এবং মনঃশক্তি দ্বারাই মন বশে আসে---শান্ত ও একাগ্র হয়। তাই কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে জলপড়া, তেলপড়া, নুন--পড়া, ধুলো--পড়া, ঝাঁড়-ফুঁক, -----ইত্যাদির প্রতি আকৃষ্ট হওয়া উচিত নয়। এসবের মধ্যে ধর্ম বা আধ্যাত্মিকতাও কিছু নেই। সদগুরুর প্রতি শরণাগত হয়ে সৎ ও সুন্দরভাবে জীবনযাপন করলেই মানুষ শান্তি ও আনন্দের দিকে অগ্রসর হয়।
স্বামী পরমানন্দ
শ্রীগুরুর পদচ্ছায়ে-চরৈবেতি পত্রিকা তৃতীয় সংখ্যা--2013

06/12/2021
ষট-চক্র–––শ্রীবামলীলাশাস্ত্রী হরিচরণ গঙ্গোপাধ্যায়মুলাধার চক্র–গুহ ও মেঢ়ের অন্তরালে যােনিমণ্ডল—ইহাই কন্দ স্থান, ইহা পশ্চ...
05/10/2021

ষট-চক্র
–––শ্রীবামলীলা
শাস্ত্রী হরিচরণ গঙ্গোপাধ্যায়

মুলাধার চক্র–গুহ ও মেঢ়ের অন্তরালে যােনিমণ্ডল—ইহাই কন্দ স্থান, ইহা পশ্চিমাভিমুখী। তাহারই মুলদেশে কুণ্ডলিনীশক্তি অধিষ্ঠিতা, সুষুম্নাকে সাড়ে তিন পাকে বেষ্টন করিয়া নাড়ী সমুহে বেষ্টিত হইয়া স্বীয় পুচ্ছদেশে সুষমার মুখে অর্থাৎ ব্রহ্ম রন্ধে নিবেশ করিয়া সুষুম্নারর বিবরে অবস্থান করিতেছেন। কুণ্ডলিনীশক্তি নাগরূপে নিদ্রিত আছেন। অপর একটি মুখ খােলা আছে, সেইটি দিয়া নিঃশ্বাস প্রশ্বাস বহে। এই মুখে তিনি সদা জাগ্রত। তাই জীবের বাহ্যজ্ঞান আছে ও বিভেদবােধ আছে। অন্তর্মুখবন্ধ থাকায় আত্মজ্ঞানের অভাবে একত্ববােধ নাই। ইনি বাক্ দেবী স্বরূপিনী ; কাঞ্চনবৎ প্রভাবশালিনী ;সত্ত্বরজস্তম গুণপ্রসবিনী বিষ্ণুশক্তি।

সুবর্ণ চতুদ্দল পদ্ম ব, স, শ, ষ, এই মাতৃকাবর্ণ বিরাজিত। এই যােনি-
মণ্ডলে কামকলারূপ রক্তবর্ণ ত্রিকোণ মণ্ডল ও তন্মধ্যে রক্তবর্ণ কামবীজ ক্লীং ও কন্দর্প নামক রক্তবর্ণ স্থিরতর বায়ুর বসতি। এই বীজকে ধৌত সােনার ন্যায় বর্ণরূপে ধ্যান করিতে হয়। তাহার মধ্যে ঠিক ব্রহ্মনাড়ীর মুখে স্বয়ম্ভ-লিঙ্গ অধােমুখে আছেন। ইনি রক্তবর্ণ কোটি সূর্যের ন্যায় তেজোময় । এই কুলকুণ্ডলিনীর অভ্যন্তরে চিৎশক্তি অবস্থিত, তাই ইনি সকলেরই ইষ্টদেবী স্বরূপিনী। এবং মূলাধার চক্র মানবদেহের আধার স্বরূপ। সাধন ভজনের মুল এইখানে। তাই ইহাকে মুলাধার কহে। ইহার ধ্যানে গদ্য পন্য সিদ্ধি ও আরােগ্য ও দাদুবী সিদ্ধি লাভ হয়। অশ্রুতপূর্ব শাস্ত্র সরহস্য জ্ঞাত হন, ত্রিকালজ্ঞ ও সৰ্ব্ব কারণ।ভিজ্ঞ হন ও মনােজয় বিন্দুরণশক্তি ও বায় ধারণ ক্ষমতা জন্মে। ইহলােক ও পরলোক উভয়ে সিদ্ধি লাভ হয়। এইস্থানেই ব্রহ্মগ্রন্থি। সাধক এই গ্রন্থিভেদ করেন । এখানে ক্ষিতিতত্ত্ব, পৃথীবীজ—লং আছে। এই তত্ত্ব খুলিলে নানা প্রকার গন্ধ পাওয়া যায় । দেবতা ব্ৰহ্ম, শক্তি ডাকিনী ।

স্বাধিষ্ঠান—পদ্ম—লিঙ্গমূলে যে দ্বিতীয় পদ্ম তাহাই স্বাধিষ্ঠান পদ্ম।
সুপ্রদীপ্ত ছয়টি দল বিশিষ্ট রক্তবর্ণ পদ্ম। ব, ভ, য, র, ল, এই মাতৃকা বর্ণ । কর্ণিকা মধ্যে শ্বেতবর্ণ অদ্ধচন্দ্রাকার বরুণ মণ্ডল ও বরুণ বীজ রং। রক্তপাণ্ডুর বাণলিঙ্গ। চতুভুজ বিষ্ণ, ক্রোড়ে চতুর্ভুজা গৌরবর্ণ রাকিনী শক্তি। এই পদ্মধ্যানে অণিমাদি
সিদ্ধিলাভ হয়। মৃত্যুঞ্জয় হওয়া যায়। এখানে অপতত্ত্ব।

মণিপুর চক্র—নাভিদেশে নবীন মেঘের বর্ণ দশদল পদ্ম। দশদলে ড, ঢ, ণ, ত, থ, দ, ধ, ন, প, ফ মাতৃকা বর্ণ আছে। কর্ণিকা মধ্যে ত্রিকোণ বহ্নিমণ্ডল ও রক্তবর্ণ রং বহ্নিবীজ। চারিহাত রক্তবর্ণ অগ্নিদেব মেযে আরূঢ়। তাহার ক্রোড়ে সিন্দুরবর্ণ—ব্যাঘ্রচর্ম আসীন—দুই হস্তে বর ও অভয়, ত্রিনয়ন পরিধানে ব্যাঘ্রচর্ম, ক্রোড়ে পীতবসনা, চতুর্ভুজ। সিন্দুরবর্ণা লাকিনী শক্তি।
ধ্যানে আরােগ্য ঐশ্বৰ্য্যলাভ ইত্যাদি ক্ষমতা লাভ হয়। এখানে তেজ তত্ত্ব।

অনাহত চক্র– হৃদয়ে। কাঞ্চনবর্ণ। দ্বাদশদল পদ্ম। দলে ক, খ, গ, ঘ, ঙ,
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, ট, ঠ, এই দ্বাদশ মাতৃকা বর্ণ আছে। বাণ ও পিনাকী লিঙ্গ, কাকিনী শক্তি। এই পদ্ম মধ্যে ধুম্রবর্ণ বায়ুতত্ত্ব ও বায়বীজ যং। বায়, দেবতা কৃষ্ণসারে আসীন, চতুভুজ।
পদ্মের অধিপতি ঈশ্বান বা ঈশ্বর—শুভ্রবর্ণ, দুই হাত। ক্রোড়ে কাকিনী শক্তি পীতবর্ণা, সালঙ্কারা, ত্রিনেত্রা, কঙ্কালমালা ধারিণী, চারি হাতে পাশ, কপাল বর ও অভয়। ঐ বাণ লিঙ্গের মস্তকে তেজোময় মণি অতিসূক্ষ্ম । তাহার মধ্যে নিবাত দীপ শিখাকার
শ্বেতর্ণ হংস বীজ প্রতিপাদ্য তেজবিশেষ আছে। এই জীবের
জীবাত্মা, এই অনাহত পদ্মে জীব সর্বদা হংস মন্ত্র জপ করেন । শব্দব্রহ্মরূপ ওঁ কার’ অনাহত ধ্বনি এইখানে শােনা যায় । পদ্ম ধ্যানে সৃষ্টি, স্থিতি, সংহার শক্তি, বাক্‌পতিত্ব, পরকায় প্রবেশ শক্তি ইত্যাদি লাভ হয়।

বিশুদ্ধ চক্র–কণ্ঠে ঘােড়শ দল পদ্ম ধূম্রবর্ণ। ষােড়শ স্বরবর্ণ ষােড়শ দলে
আছে। শোন ফুলের বর্ণ বিশিষ্ট পদ্ম মধ্যে আকাশতত্ত্ব বৃত্তাকার আকাশ মণ্ডল আছে। কণিকা মধ্যে স্ফটিকের ন্যায় বর্ণের হং বীজ ও তৎ প্রতিপাদ্য আকাশ দেবতা শ্বেতহস্তীতে বসিয়া আছেন, চারি হতে পাশ, অঙ্কশ, বর অভয়। তাহার ক্রোড়ে পদ্মের অধিপতি সদাশিব, সদাশিবের দশহাত, পাঁচমুখ, প্রতিমুখে ত্রিনেত্র—ব্যাঘ্ৰ চৰ্ম পরিধানে, তাহার কোলে অর্ধাঙ্গিনী শাকিনী শক্তি চতুর্ভুজা পীতবসনা, রক্তবর্ণা—এই অর্ধনারীশ্বর মুর্ত্তি।

বিশুদ্ধাখ্য–পদ্মের কর্ণিকা মধ্যে বিশুদ্ধ চন্দ্রমণ্ডল বিদ্যমান আছে।
শাকিনীশক্তি সর্বদা চন্দ্রমণ্ডল বিগলিত সুধাপানে পুলকিত। এই স্থানে মনস্থির হইলে সাধকের মন আকাশের ন্যায় বিশুদ্ধ হয়। এই জন্য ইহাকে বিশুদ্ধপদ্ম বলে। পদ্মধ্যানে জরামৃত্যু পাশ বিরহিত হয়। এই স্থান জনলােক, জালন্ধর পীঠ।

ললনাচক্র—তালুমুলে রক্তবর্ণ দ্বাদশ দল বিশিষ্ট (কেহ বলেন ৬৪ দল)
পদ্মে অমৃতস্থলী আছে। এই চক্ৰধ্যানে উন্মাদ, জ্বর ও পিত্তাদি রােগ নষ্ট হয়।

আজ্ঞাচক্র বা মানসচক্ৰজ্ব–যুগলের মধ্যস্থানে আজ্ঞাচক্র ও দ্বিদল পদ্ম
অবস্থিত। এখানে মনঃস্থির হইলে আজ্ঞা বা দৈববাণী লাভ হয়, তাই ইহাকে আজ্ঞাচক্র বলে। এখানে শ্বেতবর্ণ দ্বিদলে হং ক্ষং বর্ণ আছে। দুই দলে প্রবৃত্তি ও নিবৃত্তি নামক দুই
বৃত্তি পদ্মের কর্ণিকামধ্যে শরচ্চন্দ্রের ন্যায় নির্মল শ্বেতবর্ণ। ত্রিকোণমণ্ডল যােনিরূপিণী ত্রিকোণের তিন কোণে।
রজঃ, তম এই তিন গুণ, ও এই তিন গুণ আশ্রয়ে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব আছেন। ত্রিকোণের মধ্যে শ্বেতবর্ণ চন্দ্ৰবীজ ঠং আছে। অধিপতি দেবতা জ্ঞানদাতা শিব। ইনি শ্বেতবর্ণ দ্বিভুজ ও ত্রিনেত্র। তাহার ক্রোড়ে বিদ্যামুদ্রা পাশ ও ডমরু ধারিণী চতুর্ভুজা হাকিনী শক্তি আছেন। আজ্ঞাচক্রের ধ্যানে যােগের চরম ফল নিৰ্ব্বাণ মুক্তি।

অজ্ঞাচক্রের উপর ঈড়া পিঙ্গলা ও সুষুম্না মিলন স্থানকে ত্ৰিকুঠী বা
ত্রিবেণী সঙ্গম বলে। এই ত্রিবেণীর উদ্ধে’ সুষুম্নমুখের নিম্নে অৰ্দ্ধচন্দ্রাকার
মণ্ডল আছে। তাহার উপর তেজঃপুঞ্জ একটি বিন্দু, মন বা জ্ঞান তাহার উপরিভাগে দণ্ডাকার নাদ (শিবলিঙ্গ) ইহার বা গুরুচক্র উপর ত্রিকোণমণ্ডল শ্বেতবর্ণ, তন্মধ্যে শক্তিরূপা শিবাকারা হকারাদ্ধ আছে। এই স্থানে বায়ুর ক্রিয়া শেষ। ইহার অপর সত্ত্ব, নাম জ্ঞানচক্র। ওখানে জ্ঞান ও জ্ঞেয়স্বরূপ অন্তরাত্মা আছেন। পরমাত্মা
ইহার অধিষ্ঠাতা, ইচ্ছা তাহার শক্তি। প্রদীপ শিখারূপিণী অন্তঃজ্যোতিঃ
সুপীত সােণার বেণুর ন্যায় আছে। এই যে জ্যোতিঃদর্শন ইহা সাধকের
আত্মপ্রতিবিম্ব। এই পদ্মের ছয়টি দল : শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধ ও স্বপ্ন এই ছয়টি বৃতি। দলগুলি সাদা, লাল, হলদে ইত্যাদি বর্ণের। মন এই
ছয়টী দলের যখন যে দলে ঘােরে তখন সত্ত্ব বা রজঃ বা তমঃ ভাবের
উদয় হয়।
ব্ৰহ্মরন্ধ্রে অষ্টদল বা শতদল গুরুচক্র শ্বেতবর্ণ। এই পদ্মের কর্ণিকায়
ত্রিকোণমণ্ডল হ, ল, ক্ষ, এই তিন বর্ণ। ইহার তিনদিকে সমুদায় মাতৃকাবর্ণ
আছে। এই মণ্ডলই যােনিপীঠ বা শক্তিপীঠ। এই শক্তিমণ্ডলমধ্যে
তেজোময়, কামকলা বিরাজমান। বীজ ঐং তাহার পাশ্বে গুরুদেব, হংস
পাদপীঠে গুরু-পাদুকা, হংসের দুই পক্ষ আগম-নিগম; চরণ দুটি শিব-
শক্তিময়। চঞ্চুপুট প্রণব, নেত্র ও কণ্ঠ কামকলারূপ। গুরুদেব শ্বেতবর্ণ
কোটিসূর্যসদৃশ তেজঃপুঞ্জ ; দুই হাতে বরাভয়। শ্বেতমালা, শ্বেতগন্ধ, শ্বেত
বস্তু, হাস্যবদন, করুণদৃষ্টি। তাহার বামক্রোড়ে রক্তবসনা, সৰ্বালঙ্কারা,
অরুণ রক্তবর্ণা গুরুপত্নী। তাহার বামকরে পদ্ম, দক্ষিণ করে শ্রীগুরু কলের বেষ্টন করিয়া আছেন । এই গুরু অখণ্ড মণ্ডলাকার চরাচর ব্যাপ্ত করিয়া আছেন। ইনি সকলের গুরু। এই গুরুপদ্ম ধ্যানে সর্বসিদ্ধি ও দিব্যজ্ঞান লাভ হয়।

সহস্রার—এই গুরুচক্রের উর্দ্ধে নিরালম্বপুরী বা শূন্যস্থান। এখানেই
ঈশ্বরের সাক্ষাৎ লাভ হয়। ইহার পরেই, সহস্রার পদ্ম, ব্ৰহ্মরন্ধ্রের উপর মহাশূন্যে শ্বেতবর্ণ সহস্রদল পদ্ম বিরাজিত চারিদিকে পঞ্চাশদল উপযুপরি স্তবকে সজ্জিত। প্রত্যেক স্তরে পঞ্চাশদলে ৫০ টি মাতৃকাবর্ণ। কর্ণিকার মধ্যে ত্রিকোণ চন্দ্রমণ্ডল বা শক্তিমণ্ডল তিন কোণে হ, ল, ক্ষ,
বর্ণ আছে ও তিন দিকে সমস্ত স্বর ও ব্যঞ্জনবর্ণ আছে। এই শক্তিমণ্ডলমধ্যে তেজোময় বিসৰ্গাকার মণ্ডল। তাহার উপর মধ্যাহ্নকালীন কোটি সূৰ্য্যসদৃশ তেজপুঞ্জঃ আর একটী বিন্দু- তাহা বিশুদ্ধ স্ফটিকসদৃশ শ্বেতবর্ণ। এই বিন্দুই পরমশিব নামে জগৎ উৎপত্তি ও নাশ করেন—ইনি পরমেশ্বর, ইনিই অজ্ঞান তিমির নাশকারী পরমাত্মা। ইহাকেই সাধনবলে প্রত্যক্ষ করাকেই ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকার বলে। অ হইতে বিসগান্ত ঘােড়শবর্ণযুক্ত ব্ৰহ্মরেখা প্রজাপতি, ককারাদি তকারান্ত ষােড়শবর্ণযুক্ত পরাৎপর বিষ্ণরেখা
থকারাদি সকারান্ত ষােড়শবর্ণযুক্ত শিবরেখা, সত্ত্ব, রজঃ তমযুক্ত রেখায় বিন্দুত্ৰয় হইতে উদ্ভূতা হইয়া যােনি
আকারে ভূষিতা। এই বিন্দুত্রয় ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বরাত্মক পরমতত্ত্ব, ত্রিকোণ বিতত্ত্ব হইতে উৎপন্ন । উক্ত ত্রিকোণের
মধ্যে মহাশূন্য অবকাশ গুণাতীত। পরমাপ্রকৃতি। আপন আপন সম্প্রদায়ের গুণাতীত জগদগুরু এই পরাপ্রকৃতির অধীশ্বর হইয়া তথায় বিরাজ করিতেছেন।

পরমশিব ঐ বিন্দু সতত গলিত সুধাস্বরূপ। ইহারই মধ্যে সমস্ত সুধার
আধার গােমূত্রবর্ণা অমা নামক কলা আছে। ইনিই আনন্দ ভৈরবী। ইহার মধ্যে অদ্ধচন্দ্রাকার নির্বাণ কামকলা আছেন। এই নির্বাণ কাম কলাই সকলের ইষ্টদেবতা, তাহার মধ্যেই পরম নিৰ্বাণশক্তি আছেন। তাহার পর নিরাকার মহাশূন্য। এই মহাশূন্য নিৰ্বাণতত্বে দিবারাত্র নাই ; তম ও প্রকাশভাব নাই ; আকাশ, বায়ু, অগ্নি, জল, পৃথী পঞ্চতত্ত্ব নাই। সুতরাং তত্ত্বসমূহ হইতে উৎপন্ন ইন্দ্রিয়বর্গের ও বুদ্ধির ও অগােচরের প্রাধানিক
ব্রহ্মস্বরূপ পরমপুরুষ বর্তমান আছেন। নির্বাণ শক্তির অধীশ্বর এই পরমপুরুষ হইতে শ্রেষ্ঠ কিছু নাই—ইনিই চরম সীমা ও পরমগতি। ইহাতে জ্ঞান হইলে জীব সংসার বন্ধন হইতে মুক্ত হয় ও অমৃতস্বরূপত্ব নিৰ্বার্ণ মােক্ষ প্রাপ্ত হয়। শৈবগণ এই নিৰ্বাণপদকে শিবপদ, কৃষ্ণভক্ত বৈষ্ণবগণ শ্রীহরির পরমপদ, ভগবতীর শ্রীচরণসেবী সুরসিক শাক্তগণ দেবীর পদ, সাংখ্যবাদিগণ প্রকৃতি পুরুষ স্থান বলেন। এই স্থানে উপলব্ধি হইলে যােগীর পরিচ্ছিন্ন দেহভ্রান্তি দূর
হইয়া বিশ্বসংসারই নিজ দেহরূপ মনে করেন ও আত্মানন্দ ও অমৃতের যুগপৎ অভেদ জ্ঞানের পূর্ণতায় পূর্ণানন্দময় হয়েন।

তথ্য সংগ্রহে:– শাস্ত্রী হরিচরণ গঙ্গোপাধ্যায় বীরোচিত শ্রীবামলীলা গ্রন্থ হইতে সংগৃহিত।

©️অনুলিপিকরণ সম্পূর্ণ বর্জনীয়, দরকারে শেয়ার করুণ।

★ যদি মৃত্যু না হতো ★যদি এমন হয় যে 'আমার' মৃত্যু হবে না, বা 'আমি' অমর তাহলে কি হবে!আলেকজান্ডার চেয়েছিলেন অমর হতে। তাই তি...
30/09/2021

★ যদি মৃত্যু না হতো ★

যদি এমন হয় যে 'আমার' মৃত্যু হবে না, বা 'আমি' অমর তাহলে কি হবে!

আলেকজান্ডার চেয়েছিলেন অমর হতে। তাই তিনি ভারতে এসেছিলেন অমরত্বের সন্ধানে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর এক যোগীর সন্ধান পান তিনি। সম্রাটের আদেশে তাঁর সৈন্যরা সেই যোগীকে গিয়ে বলল, "আমাদের সাথে এক্ষুনি যেতে হবে"। "আমি কোথাও যাই না, সম্রাটের ইচ্ছে হলে এখানে আসতে পারে", যোগী জানায়।

এই কথা শুনে সৈন্যরা মূহুর্তে তরবারি বের করে বলে চল নাহলে তোমার মুন্ডু নিয়ে যাব। যোগী নির্বিকার, হাসল, বলে তাহলে তাই কর। সৈন্যরা এরকম আশ্চর্য জিনিস দেখে নি যার মৃত্যুভয় নেই। কিছুক্ষণ অবাক হয়ে থেকে তারা ফিরে গেল এবং সম্রাটকে সমস্ত জানাল।

আলেকজান্ডার অগত্যা নিজেই এলেন কারণ অমরত্ব বড় বালাই। যোগীকে জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কি আমায় অমরত্বের সন্ধান দিতে পারো?" যোগী তাকে এক স্বচ্ছ জলের সরোবরের সন্ধান দিলেন এবং সেই জল পান করতে বললেন।

আলেকজান্ডার যোগীর নির্দেশিত পথে যাত্রা শুরু করলেন এবং যেমন যেমন বলেছিল যোগী, তেমন তেমন মিলে গেল। তিনি সেই স্বচ্ছ জলের সরোবরের সন্ধান পেলেন।

কিন্তু যেইমাত্র তিনি হাতে আঁজলা করে জল নিয়ে পান করতে যাবেন, আওয়াজ এল, "খেয়ো না, খেয়ো না"! অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখলেন একটা কাক, তাকে সতর্ক করছে। কাকটা বলল জানো আমার কি কষ্ট! আমি অমর। আমার মৃত্যু নেই কারণ আমি এই জল পান করেছিলাম কত হাজার বছর আগে। আমার একটুও বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে না। কিন্তু কি করব! আমার সাধ, আহ্লাদ কিছু নেই! এইভাবে বেঁচে থাকা যে কি কষ্ট তা কল্পনাও করতে পারবে না! আমি আত্মহত্যাও করতে পারি না!

আলেকজান্ডার কিঞ্চিত থমকে গেলেন। জীবনে এই প্রথম দোর্দন্ডপ্রতাপ সম্রাট ঘাবড়ে গেলেন, হাতের জল গলে পড়ে গেল। কি একটা ভেবে প্রচন্ড ভয় পেলেন। উঠে দাঁড়ালেন এবং ধীরে ধীরে পিছন ফিরে চলে গেলেন। — (গ্রীক লোককথা)

মৃত্যু সুন্দর, খুব সুন্দর। একটা পূর্ণ জীবন কাটিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়াটা যে কত সুন্দর ও বাঞ্ছনীয়, তা যারা সেই সুযোগ দেরীতে পায় তারাই একমাত্র অনুভব করতে পারে। সবথেকে আনন্দের জিনিস হলো আমরা জানি যে আমাদের একদিন মৃত্যু হবে। তাই যতদিন আছি আনন্দ করে বাঁচি, এটাই আশা করা উচিত। জীবন দীর্ঘ নয়, আনন্দের হোক।

মৃত্যু নেগেটিভ নয়, বরং অনেক বেশি পজিটিভ। মৃত্যু আছে বলেই জীবন আনন্দের। আমরা যখন পৃথিবীতে আসি তখন আধা মৃত্যু সাথে নিয়েই আসি। মানে আধা জন্ম আধা মৃত্যু। জন্ম হয় প্রশ্বাস (inhalation) গ্রহণ দিয়ে, মৃত্যু হয় নিঃশ্বাস (exhalation) ত্যাগ দিয়ে।

অমরত্ব লাভ হোক ভাবনায়, কর্মে, অনুভবে, চেতনায় ....শরীরে নয়। যোগীদেরও মৃত্যু হয়। যোগ মানে অমরত্ব নয়, যোগ মানে সংবেদনশীল জীবনযাপন Yoga is not about eternal life, Yoga is about sensible life.

( সংগৃহীত)

02/07/2021

মন্ত্র যখন প্রাণ বায়ুতে মেশে তখন হয় মন্ত্র সিদ্ধি। আর এই প্রাণ বায়ু আর অপান বায়ু যখন কুন্ডলিনী সহস্রারে মিলিত হবার পর মিলে যায় তখন হয় ইষ্ট সিদ্ধি।

Address

Calcutta Bara Bazar

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Meditation for Soul posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share