03/09/2026
দেবগ্রামের কথিত ‘মহাপুরুষ’(গৌর )কে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ—তদন্ত হবে কবে?
দেবগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রভাবশালী স্থানীয় নেতাকে ঘিরে নানা অভিযোগ মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে। অভিযোগ উঠছে, রেশন দোকান থেকে নিয়মিত টাকা তোলা, চাকরি দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া এবং বিভিন্ন অনৈতিক লেনদেনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, কালীগঞ্জ থানার এলাকায় হপ্তা তোলা, কাটমানি ও মানুষের টাকা আত্মসাতের মতো নানা কর্মকাণ্ডে তাঁর প্রভাব বা যোগসূত্র ছিল। বিভিন্ন ঘটনায় অনেকের নাম সামনে এলেও, তাঁদের পেছনে এই ব্যক্তির ভূমিকা ছিল কি না—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ভোটের সময় তাঁর ভূমিকা নিয়েও রয়েছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, বহিরাগত লোকজন ও স্থানীয় দুষ্কৃতীদের ব্যবহার করে বুথ দখল, ছাপ্পা ভোট এবং ভয় দেখিয়ে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। অতীতে নির্বাচনে পরাজয়ের পরও কীভাবে পরবর্তী সময়ে জয় এসেছে, সেই বিষয়েও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া দরকার।
রাজনৈতিক জীবনের ক্ষেত্রেও তাঁর দলবদল নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে—কখনও DYFI, পরে RSP, এরপর কংগ্রেস এবং পরবর্তীতে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি পরিবারের সদস্যকে নির্বাচনে প্রার্থী করা এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে নির্বাচনী সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও শোনা যায়।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এত অভিযোগের পরও তদন্ত কোথায়?
এই ব্যক্তির নামে ও তাঁর পরিবারের নামে থাকা সম্পত্তি, আয়ের উৎস এবং সম্পদের হিসাব কি প্রকাশ্যে আনা হবে? যদি অভিযোগগুলি মিথ্যা হয়, তাহলে তদন্তের মাধ্যমে তা পরিষ্কার হোক। আর যদি সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
বর্তমানে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণেই কি তিনি এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন—এমন প্রশ্নও সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে।
মানুষ সবকিছু দেখছে, সবকিছু মনে রাখছে।
সময়ই শেষ উত্তর দেবে।
দাবি একটাই—নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, সত্য সামনে আসুক এবং দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।