17/05/2026
এই প্রথম আমি এমন একজনের কেস হিস্ট্রি লিখতে বসেছি, যিনি তাঁর নিজের আসল নাম ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছিলেন। নামটি হল শর্মিষ্ঠা দে ব্যানার্জী। অনেকের মতোই সেও আমার লেখা পড়ে আমার কাছে পাস্ট লাইফ রিগ্রেশন থেরাপি নিতে আসে।
তার অনেকগুলো সমস্যা ছিল। প্রথমত, তার বাবা-মার সঙ্গে সম্পর্কে আন্তরিকতার অভাব ছিল। OCD ছিল এবং বাবা-মা ও মেয়ের মধ্যে কোনো proper emotional connection-ই ছিল না। শর্মিষ্ঠা ছিল খুবই anxiety-prone। মাঝে মাঝে ঘুমের ওষুধও খেতে হত ঘুমানোর জন্য। কোনো সম্পর্কের প্রতি গভীর আন্তরিক টান অনুভব না করাটাই ছিল তার Past Life Regression Therapy করার মূল কারণ। স্বামী, বাবা-মা, সংসার — কিছুতেই তার মন থেকে টান অনুভব হত না।
বিশদে counselling session করার পরে প্রথমে তার Inner Child Healing করা হয়। সেখানে তার মা-বাবার সঙ্গে energy cord change করে মা-বাবা ও সন্তানের মধ্যে “energy triangle of love and support” তৈরি করা হয় চিৎশক্তির মাধ্যমে। এরপর শুরু হয় মূল পূর্বজীবনের অভিজ্ঞতার session।
পূর্বজীবনে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই শর্মিষ্ঠা বুঝতে পারে তার নাম ছিল “রুলি”। তার পায়ের নিচে শুকনো, ফেটে যাওয়া মাটি। ক্ষরায় জর্জরিত মাঠ। আলতা পরা খালি পায়ে, ডোরাকাটা সাদা-লাল শাড়ি পরে রুলি সেই মাঠের উপর দিয়ে এগিয়ে চলেছে। পায়ে আঙটি, রূপোর নূপুর। গায়ে এলোমেলো করে জড়ানো শাড়ি, বাহুতে বালা, বড় লাল টিপ, নাকে নথ, মাথায় খোপা, গলায় রূপোর কয়েনা। বয়স বাইশ-তেইশ হবে।
রুলি একটি খড়ের চালের বাড়িতে থাকে। বাঁশের খুঁটি দেওয়া বাড়ি। একপাশে বাঁধা সাদা গরু। রান্নাঘরে মাটির উনুন, কাঁসার বাসন। একজন লাল শাড়ি পরা বয়স্ক মহিলা রান্না করছেন — যাকে দেখে মনে হয়, এই জীবনে তিনি মাসি হলেও ওই জীবনে তিনিই ছিলেন মা। রুলির বাবা লম্বা মানুষ, ধুতির উপর কোমরে গামছা বেঁধে কাজ করছেন।
দৃশ্য বদলে যায়। চারিদিকে অন্ধকার জঙ্গল। বড় বড় সাপ। কিন্তু রুলির ভয় লাগছে না। সে চলেছে কালী মন্দিরের দিকে। জঙ্গলে হিংস্র প্রাণীর আওয়াজ। গভীর রাতে ফাঁকা মন্দিরে যখন কেউ থাকে না, তখন রুলি পুজো করে। মায়ের মাথায় রূপোর চাঁদ ঝলমল করছে। মনে হচ্ছে মায়ের চোখের পাতা নড়ছে। ছোট্ট নূপুর পরা মেয়ের মতো মা কালী যেন হাসছেন।
এই মন্দিরের মা কালী ছাড়া রুলি আর কারও প্রতি গভীর টান অনুভব করত না।
যিনি এই জীবনের স্বামী, তিনিই সেই জীবনেও তার স্বামী ছিলেন। স্বল্পভাষী, খেটে খাওয়া মানুষ। রুলির প্রতি তাঁর দিক থেকে কোনো কমতি ছিল না। একসময় একটি সন্তানও হয় — কাজল পরা চোখের ছোট্ট ছেলে। সারাদিন “মা, মা” বলে ডাকে। মায়ের হাতের রুটি খেতে চায়। সংসারের নানা কাজে স্বামী ডাকে।
কিন্তু ভরাভর্তি সংসারও রুলির মনকে বেঁধে রাখতে পারে না। তার মন ছটফট করতে থাকে মা কালীর কাছে যাওয়ার জন্য। মন্দিরে যাওয়ার অবকাশ না পাওয়ায় সংসারের প্রতি ধীরে ধীরে অনীহা জন্মায়।
দিন যায়, মাস যায়, বছর কেটে যায়। রুলির বাবা মারা যায়। ধীরে ধীরে ধুলো জমে মা কালীর মূর্তির গায়ে। রুলির জীবন সংসারের বৃত্তেই ঘুরপাক খেতে থাকে।
প্রায় ৬০-৬৫ বছর বয়সে মৃত্যুশয্যায় একদিন হঠাৎ রুলি দেখতে পায় দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন সেই ছোট্ট নূপুর পরা পায়ের মা কালী। মায়ের চোখে জল। মা হাত বাড়িয়ে ডাকছেন। কিন্তু রুলির আর ওঠার ক্ষমতা নেই। শরীর ভারী হয়ে এসেছে।
সেই মুহূর্তে রুলি বুঝতে পারে — এতদিন সে কাউকে সত্যিকারের ভালোবাসতে পারেনি। তার মন পড়ে থাকত শুধু কালী মন্দিরে। সংসারে কন্যা, স্ত্রী, মা — যে ভূমিকা মা কালী তাকে দিয়েছিলেন, সেই ভূমিকা পালনে তার আন্তরিকতার অভাব ছিল। সে কারও প্রতি মনোযোগী ছিল না।
মৃত্যুর মুহূর্তে মা কালী যখন তাকে নিতে এসেছেন, তখন নিজের ভুল বুঝতে পেরে রুলি কান্নায় ভেঙে পড়ে।
মৃত্যুর পর আত্মিক জগতে প্রবেশ করে সে অনুভব করে — জাগতিক সম্পর্কগুলোকে গুরুত্ব না দেওয়ার কারণেই এই জীবনে সে বাবা-মা, স্বামী, বন্ধু — সকলের কাছ থেকেই এমন পরিস্থিতি পেয়েছে, যা তাকে বারবার কষ্ট দিয়েছে।
শর্মিষ্ঠা অনুভব করে, এই জীবনে তার soul purpose হল — সকলকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসা এবং সংসারের সমস্ত কর্তব্য মন দিয়ে পালন করেও আধ্যাত্মিক জীবনে এগিয়ে চলা।
Session শেষ হয় তার বাবা, মা, স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে পূর্বজীবনের detachment-এর energy cord পরিবর্তন করে নতুন energy cord স্থাপনের মাধ্যমে — যেখানে ভালোবাসা, মনোযোগ ও আন্তরিক বন্ধন অটুট থাকবে।
🌺 মজার ব্যাপার হল এই case history ২০২৩ সাল থেকে পোস্ট করব করব করে করা হয়নি।কিন্তু শেষ পর্যন্ত আজ হল যখন গত কাল মন্দিরে মন্দিরে রাত জেগে ফলহারিণী অমাবস্যায় মা কালীর পুজো হয়েছে সমগ্র ভুবন জুড়ে।এই সমাপতন হিসেব কষে করা সম্ভব বলে মনে হয় না।
শুভ ফলহারিণী অমাবস্যা 🌑 🌺