04/04/2026
বিগ ব্রেকিং: দাইয়ান হোসেনের মান ভাঙাতে রাত ১০ ঘটিকায় রাজা তাপাদারের বাসভবনে উপস্থিত হন অতুল বরা
নির্বাচনের প্রাক্কালে দলীয় কোন্দল মেটাতে এবং অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখতে বড়সড় পদক্ষেপ নিলেন অসম গণ পরিষদের (AGP) সভাপতি শ্রী অতুল বরা। টিকিট না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট দাইয়ান হোসেনের সঙ্গে গতকাল রাত ১০টায় এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে মিলিত হন তিনি।
অসম গণ পরিষদের যুব শাখার ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট রাজা তাপাদারের বাসভবনে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। টিকিট বঞ্চিত হওয়ার পর দাইয়ান হোসেনের পদত্যাগ দলের অন্দরে বেশ অস্বস্তি তৈরি করেছিল। সেই ক্ষোভ প্রশমনে খোদ দলীয় প্রধানের তাঁর সাথে দেখা করতে যাওয়া রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বৈঠকটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে সভাপতি অতুল বরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন:
* এম.এইচ. তাপাদার, শ্রীভূমি জেলা সভাপতি।
* সুনীল ডেকা, জেনারেল সেক্রেটারি ইনচার্জ (বরাক উপত্যকা)।
* রেজাউল করিম, রাজ্য সম্পাদক, যুব শাখা।
* রহিম চৌধুরী, কৃষক পরিষদ ।
অতুল বরার বার্তা: "পদত্যাগপত্র গ্রহণ নয়"
বৈঠকে অতুল বরা দাইয়ান হোসেনকে আন্তরিক সান্ত্বনা দেন এবং তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আনুগত্য ও অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, দাইয়ান হোসেনের পদত্যাগপত্র তিনি গ্রহণ করছেন না।
দাইয়ান হোসেনের উদ্দেশ্যে সভাপতির বার্তা ছিল অত্যন্ত আবেগপূর্ণ:
"তোমার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তোমার পদত্যাগ আমি গ্রহণ করছি না। তুমি তোমার পদে থেকে দলের হয়ে কাজ চালিয়ে যাও। দলের বৃহত্তর স্বার্থে শীঘ্রই আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে দলের দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের ধরে রাখতে অতুল বরা যে পরিপক্ক নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা এই বৈঠকের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য আরও মজবুত হবে এবং বরাক উপত্যকায় দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় এজেপি কর্মীরা।
বৈঠক শেষে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী দিনে দাইয়ান হোসেনের সম্মান ও গুরুত্ব বজায় রাখতে দল বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
দাইয়ান হোসেনের বক্তব্যে
"আমি শুরু থেকেই অসম গণ পরিষদের আদর্শে বিশ্বাসী। টিকিট না পাওয়াটা ব্যক্তিগতভাবে কষ্টের ছিল ঠিকই, কিন্তু দলের সভাপতি নিজে যখন রাতে এসে আমার সাথে দেখা করেন এবং আমার কাজের মূল্যায়ন করেন, তখন দলের প্রতি দায়বদ্ধতা আরও বেড়ে যায়।"
"মাননীয় সভাপতি আমার বড় ভাইয়ের মতো। তিনি যখন আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে আমাকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন এবং আগামীতে দলের বৃহত্তর স্বার্থে ইতিবাচক পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন, তখন তাঁর অনুরোধ অমান্য করার প্রশ্নই আসে না। আমি দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই।"
"আমাদের মূল লক্ষ্য দলের শক্তি বৃদ্ধি করা। ব্যক্তিগত ক্ষোভ-অভিমান ভুলে আমি পুনরায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে আমার দায়িত্ব পালন করব এবং বরাক উপত্যকায় দলকে শক্তিশালী করতে ঝাঁপিয়ে পড়ব।"