28/08/2026
দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ; বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া প্রকৃতির রুদ্ররূপ উপেক্ষা করে থাকি কি করে ? সমাজতন্ত্র , জাতীয়তাবাদ ,ক্রোনি ক্যাপিটালিজম , বেদ-বেদান্ত থেকে ইসলামিক মৌলবাদ সব সমান এই প্রকৃতির মৌলবাদের কাছে । সব নিমিষে পুড়ে ছাই হয়ে যায় । আমরা কেন বুঝেও বুঝতে চাইনা সভ্যতার লক্ষ সমস্যার থেকে বড় বিষয় #প্রকৃতির_ভারসাম্য ।
আমাদের অনেকে নেপালের ঘটনা নিয়ে অবাক হচ্ছেন? আমি কিন্তু হচ্ছি না। বিশেষজ্ঞরা অনেক আগেই এই ব্যাপারে বিপদ সংকেত শুনিয়েছিলেন --- প্রথমবার ২০১১ সালে এবং দ্বিতীয়বার ২০১৫ সালে। ২০১৫ সালে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছিল চীন এবং ভারত যদি হিমালয় জুড়ে এরকম দক্ষযজ্ঞ চালিয়েই যেতে থাকে তাহলে নেপাল উত্তরাখন্ড মায় আমাদের দার্জিলিং সহ চীনেরও বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডে বিপর্যয় নেমে আসবে বারংবার।
নেপালের আগে এই যে এত বড় বিপর্যয় হয়ে গেল উত্তরাখণ্ড জুড়ে । এটা যে প্রথমবার হচ্ছে তা নয় দু'বছর আগেও হয়েছে। উত্তরবঙ্গ সিকিমেও হচ্ছে। উত্তর ভারতের হিমালয় কেন্দ্রিক অঞ্চল জুড়ে বছরে দুই থেকে তিনবার করে বিপর্যয় হচ্ছে । হচ্ছে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানি । তবে শুধু ভারতের দিকে নয় একই জিনিস হয়ে চলেছে চীনের দিকেও । একটা আশ্চর্য জিনিস দেখবেন এই যে পরিবেশ নিধনের ফলেই এগুলো হচ্ছে সেই ব্যাপারে কিন্তু সমস্ত রাজনৈতিক দল চুপ।
পূর্ব হইতে পশ্চিমাবধি
দুই হাতে ধরি দুই মহোদধি
পৃথিবীর ভার ধরিছে যেন রে
বিধাতার মানদন্ড
কুমারসম্ভব / যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
২০১১ সালে সাহিত্য একাডেমী একটি সর্বভারতীয় কবি সম্মেলনের আয়োজন করেছিল গ্যাংটকে । দেশের দক্ষিণাংশ থেকে যারা এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে অনেকের সেটাই ছিল প্রথমবার হিমালয় দর্শন । খুব স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন হিমালয়ের বিশালতায় মহিমায় এবং অলৌকিকপ্রায় সৌন্দর্যে । তাঁদের মধ্যে একজন মালয়লি কবি সুগথাকুমারী কবিতা পড়তে উঠে কয়েক মুহূর্ত রুদ্ধবাক হয়ে থাকার পর বললেন ," The Himalaya is our last hospital .Please do not destroy it ." অনেকেই হয়তো জানেন না ভারতের পরিবেশ কর্মীদের কাছে সুগথাদেবী একটি সশ্রদ্ধ সম্মানের নাম ।
ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরু হিমালয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন --- ' Himalayas ..... They are not only physically present in India, dominating the vast Indian plain, but for every Indian, they convey a deeper message .They have been entwined in the life of our race from the dawn of history and have not only affected our politics but have been an intimate part of the art and literature , mythology and religion of our people .I suppose nowhere else in the world have any mountains or mountain ranges played such an important part in the development of a race as the Himalayas done in India for thousands of year past ."
জহরলাল নেহেরু ব্যক্তিগতভাবে চীনা প্রধানমন্ত্রী চৌ-এন-লাইকে অনুরোধ করেছিলেন যাতে হিমালয়কে রাজনীতির অঙ্গনের বাইরে রাখা হয় । অথচ কমিউনিস্ট চীন সেই হিমালয়কে যথেচ্ছ ভাবে ব্যবহার করে প্রবল প্রাকৃতিক সংকটের সামনে আমাদের প্রতিনিয়ত দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে । কালিদাসের ভাষায় যে হিমালয় সর্ব রত্নভান্ডার শ্রী রাজৈশ্বর্য ধন্য , যার গুরুত্ব বুঝে স্তুতিতে মুখর ভারতের প্রাচীন থেকে সমকালীন সাহিত্য , জীবনচর্যা, শিল্পচর্চা, ভৌগোলিক ও বৈজ্ঞানিক অসংখ্য বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিৎসা ঈশ্বর --- সেই হিমালয়কে কেবল বাণিজ্যিক এবং সামরিক কাজে লাগানোর ফলে তৈরি হচ্ছে একের পর এক ভয়ানক সমস্যা । চীনের আগ্রাসন ঠেকাতে ভারত বাধ্য হল হিমালয় কে ব্যবহার করতে । তবু ভারত অনেক পরে এই যজ্ঞে শামিল হয় অটল বিহারী বাজপেয়ীর আমলে ।
ভারতের তথা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার জলবায়ু নির্ধারণের হিমালয়ের পর্বতের ভূমিকার কথা সবারই জানা । একটি প্রাকৃতিক অঞ্চলের জলবায়ু সুস্থিত রাখার প্রধান শর্ত হয় প্রাকৃতিক শক্তিগুলোর দোহন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা যা বাইরের বৃহৎ শক্তি তার সে বেসরকারিই হোক বা সরকারি কোনরকম নিয়ন্ত্রণ না করে ব্যবহার করার ফল হচ্ছে সুদূরপ্রসারী ভয়ংকর । উদাহরণ হিসেবে ৯০ এর দশকে বারবার ভূমিকম্পে উত্তরকাশীর বহুতল সৌধসহ জনপদ সমস্ত ধসে যাওয়া, ২০১২ সালে যমুনোত্রীর পথে ভয়াল ভূমিকম্প কিংবা ২০১৩ সালে কেদার বিপর্যয় , ২০১৬ সালে চীনে ভয়াল ভয়ংকর ভূমিকম্প অথবা নেপালে ২০১৭ সালে বিধ্বংসী ভূমিকম্প মানুষের সর্বগ্রাসী লোভেরই ফল । হিমালয়কে চিরকাল জলের অক্ষয় আকর বলে মনে করা হতো কারণ এর বিশাল সব হিমবাহ । ভারত এবং চীনের নির্মীয়মান রাস্তাগুলো প্রায়ই হিমবাহ অঞ্চলের মধ্যে ঢুকে পড়ছে । নির্মাণের কাজ হচ্ছে,বড় মেশিন চলছে,গাড়ি চলছে,আগুন জ্বলছে, তাপ বাড়ছে । ফলে হিমবাহ গলছে, ভয়াবহ হরকা বান বাড়ছে । এই দেখুন না হাতের সামনে সেবক থেকে রংপু অবধি রেললাইন বসানো হলো পরিবেশবিদ ভূতত্ববিদদের সমস্ত বারন অস্বীকার করে। মাঝখান থেকে প্রচুর জীববৈচিত্র নষ্ট হল বিলুপ্তপ্রায় ভাল্লুকদের আস্তানা ভাঙ্গা হলো। আর ফলাফল এই বছরের প্রথম বৃষ্টিতেই টানেল ভেঙে পড়ে বিপর্যয়।
হিমালয় সংলগ্ন ভারত এবং চীনের মানুষজন এক বাক্যে বলছেন আজ হিমালয়ের পর্বতে সবচেয়ে বড় বিপদ 'চৌরি সড়ক' । অবিরাম ব্লাস্টিং করে পাহাড় কাটাই শুধু নয় পাহাড় কাটা সেই মাটি পাথর পড়ে থাকছে সেখানেই । এর প্রতিবিধান হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লোকসভায় ঘোষণা করেছিলেন 'হরিত নির্মাণ' র কথা । এই পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থানচ্যুত মাটি পাথর নামিয়ে এনে নদীতীরবর্তী পাথুরে জায়গা গাছ লাগিয়ে ভরাট করে নদী ভাঙ্গন রোধ করা । বাস্তবে কিন্তু এরকম কিছুই ঘটেনি । রাস্তা তৈরির জন্য কেটে ফেলা অকল্পনীয় পরিমাণ মাটি পাথর নির্মিয়মান সড়কের পাশেই পড়ে থাকছে -- ভুল বললাম পড়ে থাকছে না --- পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসছে ঢালের কোলে বসা ছোট ছোট গ্রাম ক্ষেত ঘরবাড়ি পশুচারণ মাঠ জঙ্গলের উপর --- পাহাডের পায়ের কাছে বয়ে যাওয়া নদীর খাত ভরে যাচ্ছে । ভেঙে পড়ছে হাজার হাজার বছরের বেশি সময় ধরে তিল তিল করে গড়ে ওঠা পাহাড়ের ঢাল এবং জলস্রোতের জটিল এবং অমোঘ শৃঙ্খলা । ব্রিটিশ আমলে পাহাড়ি অঞ্চলে দোতলার বেশি বাড়ি করা নিষিদ্ধ ছিল, কংক্রিট ব্যবহারের উপর অনেক নিয়ম কানুন ছিল। আজ দেখুন পাঁচ তলা ছতলা বাড়ি কিংবা হোটেল তাও আবার কংক্রিটের। পাহাড়ের গা দেখা যায় না, বাড়িতে বাড়িতে ভর্তি যেখানে ইচ্ছা হোম স্টে।
চারধাম যাবার বিখ্যাত অল ওয়েদার রোড তৈরির জন্য এখন আর জঙ্গল কেটে ফেলার কোন নিয়ন্ত্রণ নেই । হিমালয় প্রাইম ফরেস্ট বলে চিহ্নিত দেওদার খরসু ভুজ বাজ গুরাস ইত্যাদি চওড়া পাতাওয়ালা দুর্লভ গাছের যে অরণ্য তা কেটে সাফ করে সারি সারি ট্রাফিক করে নেমে আসছে প্রতিদিন । ২০০৫ সালে প্রবল বিক্ষোভের পর তৎকালীন সরকার গঠিত বিশেষ তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে ১৪১ জন ফরেস্ট অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রাইম ফরেস্টের গাছ বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার হতে দেবার জন্য । হিমালয়ের প্রাকৃতিক বনভূমি ক্রমশ বিলুপ্ত হওয়ার ফলে ঝরনা শুকিয়ে যাচ্ছে , পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে যাচ্ছে , ফলে বাড়ছে ধস ।
আসলে প্রকৃতির মধ্যে কোন কিছুই তো বিচ্ছিন্ন নয় প্রতিটা জিনিসে একে অন্যের সঙ্গে সূক্ষ্ম জটিল ভাবে জড়ানো । হিমালয় নিজস্ব চওড়া পাতার বন দ্রুত হ্রাস পাওয়ার ফলে বাড়ছে চির পাইনের জঙ্গল । এই সরলবর্গীয় বৃক্ষ হিমালয়ের নিজস্ব প্রজাতি নয় --- আমদানি হয়েছিল ব্রিটিশদের হাত ধরে । এই পাইন গাছের নীচে তেল বা রজন পদার্থ থাকার জন্য এর নীচে অন্য গাছ জন্মায় না। এদের জল ধরে রাখার ক্ষমতা নেই । এই কারণে এই গাছে সহজেই আগুন ধরে যায় এবং সেই আগুন নেভানো রীতিমত কঠিন । ভারতীয় সামরিক বাহিনীর থেকে ঐ জন্য সমস্ত পাইন গাছ তুলে ফেলে হিমালয়ের নিজস্ব চওড়া পাতার গাছ লাগানোর সুপারিশ করা হয়েছে । এর পাশাপাশি চওড়া রাস্তা আর বহুতল বাড়ি কোনটি পাহাড়ে নিজস্ব প্রাকৃতিক শৃঙ্খলারক্ষার সহায়ক নয়। উত্তরকাশী কেদার গৌরীকুণ্ড প্রতি জায়গাতেই বিরাট সব দুর্ঘটনার পর বহু সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হলেও কিছুই করা হয়নি । এটা তো গেল আমাদের দিক । চীনের দিকের অবস্থা আরও ভয়াবহ ।
আপনারা যদি পূর্ব হিমালয়ের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণ করেন তাহলে দেখবেন প্রাকৃতিক জলাশয় গুলো ক্রমে শুকিয়ে আসছে । আশার কথা যে ভারতের বন ও পরিবেশ মন্ত্রক সত্যিকারের উদ্যোগ নিয়েছে জলাশয়েগুলো কে রিভাইভ করার । একটু খেয়াল করলে দেখবেন প্রতিটা পূর্ব হিমালয়ের জলাশয়ের একটি নিজস্ব চিত্র রয়েছে । এদিক থেকে অধিক জলের উপর দিয়ে টাঙানো রয়েছে প্রার্থনা পতাকা ঝোলানো দড়ি । জলের কিনারায় একটা ছোট্ট দেবী মূর্তি বসানো , জালে ঘেরা ছোট্ট আসন সিঁদুরে মাখামাখি । বৌদ্ধ এবং হিন্দু ধর্মীয় চরিত্র মিলেমিশে একাকার । পাহাড়ের মাথায় থাকা সমস্ত ছোট বড় জলাশয় স্থানীয়দের কাছে পূণ্যস্থান । এই জলাশয়গুলোর প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষণের দায়িত্ব শতাব্দী ধরে বহন করে চলেছে স্থানীয় মানুষেরা ।
আচ্ছা কেন শুকিয়ে যাচ্ছে এই বহু শতাব্দীর জলাশয়গুলো । পাহাড় কেটে বন কেটে রাস্তা হচ্ছে, রেললাইন বসছে ---- কাটা পড়ছে পাহাড়ের বিশাল মহীরুহগুলো । এই মহীরুহগুলোর গায়ে জড়িয়ে থাকে মস-শ্মশ্রু । পাহাড়ের গায়ে জমে থাকা কুয়াশাকে তারা ছাঁকনির মতো আটকায়, জন্ম নেয় জল বিন্দু । আমরা যদি গাছগুলোকে কেটে নিই কিংবা ডিজেল পেট্রোলের দূষণে মসগুলোকে হাওয়া করে দেই তাহলে কুয়াশাও জমবে না , জলবিন্দুও ধরা যাবে না । জলাশয় শুকোবে , নদী নালা শুকাবে, মাটি আলগা হবে, ধস বাড়বে ।
নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে যারা জয়পুরিয়া কলেজে পড়েছেন তাঁদের ঐ অঞ্চলের একটি পাগলের কথা স্মরনে থাকার কথা । অদ্ভুত ছিল তার পাগলামি । সোজা হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ নিজেই নিজের পিঠে টোকা লাগাত । যেন পিছন থেকে কেউ তাকে ডাকছে । সঙ্গে সঙ্গে পিছনে ফিরে হাঁটা লাগাতে সে । আবার কিছুক্ষণ পরে সেই একই কাজ । নিজের হাতে নিজের পিঠে টোকা । নিজেকে পিছন থেকে ডাকা এবং অ্যাবাউট টার্ন । একসময় ওর ঐ পিছুটানের খেলা আমাদের কাছে একঘেয়ে হয়ে যেত । আমরা অন্য কিছু দেখতাম । ও ক্লান্ত হতো না । ঘুরেই যেত । কিছুক্ষণ পরে খেয়াল হতে দেখতাম পাগল আর নেই । অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে । আমরা অবাক হয়ে যেতাম । ওর তো একই রাস্তা ঘুরপাক খেয়ে মরার কথা ছিল । তাহলে ও গেল কোথায় ? আগে গেল না পিছনে ? ও কি সরলরেখায় হিসেব করে পা ফেলে ? না কি ধীরে ধীরে বৃত্তের পরিধি ছোট করে আনে ? ছোট করতে করতে একটা বিন্দুতে পৌঁছে হঠাৎ করে ভ্যানিশ হয়ে যায় । ও কি মানুষ ? নাকি অন্য কোন ডাইমেনশন থেকে ভুল করে এসে আটকে পড়েছে এখানে ।
পাগলের গল্প কেন শোনালাম ? আসলে আমার আজকাল মনে হয় আমরা সবাই পাগল । আমাদের সভ্যতার মস্তিষ্ক বিকৃতি বিস্তর । তা না হলে ,দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ; বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া প্রকৃতির রুদ্ররূপ উপেক্ষা করে থাকি কি করে ? সমাজতন্ত্র , জাতীয়তাবাদ ,ক্রোনি ক্যাপিটালিজম , বেদ-বেদান্ত থেকে ইসলামিক মৌলবাদ সব সমান এই প্রকৃতির মৌলবাদের কাছে । সব নিমিষে পুড়ে ছাই হয়ে যায় । আমরা কেন বুঝেও বুঝতে চাইনা সভ্যতার লক্ষ সমস্যার থেকে বড় বিষয় প্রকৃতির ভারসাম্য । বারবার সে আমাদের সাবধান করে দেয় , আমরা হায় হায় করে উঠি । তবু বিস্ফোরণের আওয়াজ মিলিয়ে যেতেই আমরা ফিরে যাই আইপিএল বা রাজনৈতিক কুটকাচালিতে । এ যেন সেই উপরে বর্ণিত পাগলের মতো । নিজের পিঠে নিজেই টোকা মারি আবার পিছনে ফিরে হাঁটি । আমরা পাগল নই ? না হলে নিত্যদিন এত বিপর্যয় ঘটে যাওয়ার পরেও চীন গড়ে তুলেছে থ্রী গর্জেস ড্যাম, গড়ে তোলার পথে তিব্বতের সুবৃহৎ ড্যাম যার জন্য নাকি পৃথিবীর আহ্নিক গতি পর্যন্ত থমকে যাবে কিছুক্ষণের জন্য। এরই পাল্টা হিসেবে ভারত অরুণাচল প্রদেশে গড়ে তুলছে প্রায় সমতুল্য আর একটি ড্যাম।
পাহাড়কে দু চোখ দিয়ে অনুধাবন করলে দেখবেন কি সব প্রাচুর্য চারিদিকে । কত সব জীব বৈচিত্র্য প্রাণের জোয়ার । একে রুক্ষতা রিক্ততার পথে না দিয়ে হিমালয় কে চ্যালেঞ্জ না করে তার সঙ্গে সন্ধি করে মানব সভ্যতাকে বাঁচতে হবে । সেই অমর উটপাখি কবিতাটির ভাষা ব্যবহার করে বলতেই পারি হিমালয় তো বরাবরই মানুষকে আধ্যাত্মিকতার সন্ধান দিয়ে গিয়েছে , আজ মানুষেরও সময় এসেছে নিজের প্রাকৃতিক সুখ দুঃখ কে পাহাড়ের নিজস্ব প্রাকৃতিক ভারসাম্য কেন্দ্রিক লোকায়তের সঙ্গে এক সূত্রে বাঁধার ।
না হলে এই বিপর্যয় দিনকে দিন বাড়তে থাকবে। প্রকৃতিকে ধ্বংস করলে প্রকৃতি বড় ভয়ঙ্কর ভাবে প্রতিশোধ নেয় যে।
- সৌভিক বসু