Nurse and Nursing

Nurse and Nursing নার্সিং ভালোবেসে, নার্সদের পাশে,
সঙ্গবদ্ধ অঙ্গীকারে, মর্যাদার লড়াইয়ে,
আমরা একজোট,করব,লড়ব জিতব।

নার্সিং পেশা শুধু একটি চাকরি নয়, এটি মানবিকতা, ধৈর্য এবং দায়িত্ববোধের এক গভীর অভিজ্ঞতা। সরকারি হাসপাতাল শুরু করে জেলা ...
25/12/2025

নার্সিং পেশা শুধু একটি চাকরি নয়, এটি মানবিকতা, ধৈর্য এবং দায়িত্ববোধের এক গভীর অভিজ্ঞতা। সরকারি হাসপাতাল শুরু করে জেলা হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ ও বেসরকারি নার্সিং হোম সব ক্ষেত্রেই নার্সদের ভূমিকা অপরিসীম গোটা বিশ্বের ইতিহাসে।পশ্চিমবঙ্গের সরকারি হাসপাতালে কাজ করার অভিজ্ঞতা বোধহয় একটু আলাদা।এটি যেমন সম্মানজনক, তেমনি চ্যালেঞ্জে ভরা। রোগীর চাপ অত্যন্ত বেশি, বিশেষ করে মেডিক্যাল কলেজ ও জেলা সদর হাসপাতালের চিত্র আরোই ভয়াবহ। এক একজন নার্সকে একসঙ্গে অনেক রোগীর যত্ন নিতে হয়। কখনো পর্যাপ্ত স্টাফ না থাকা, কখনো সীমিত রিসোর্স, এই সবের মধ্যেও রোগীর সেবা নিশ্চিত করাই এখানে নার্সিংয়ের এক কঠোর বাস্তবতা।

গ্রাম ও মফস্বল এলাকার হাসপাতালে কাজ করার অভিজ্ঞতা আবার ততোধিক ভিন্ন।এখানে শুধু চিকিৎসা সেবা নয়, রোগী ও তার পরিবারের মানুষদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করাও নার্সদের দায়িত্ব। অনেক সময় অল্প সুবিধা নিয়ে জরুরি পরিস্থিতি সামলাতে হয়, যা একজন নার্সকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে শেখায়। কিন্তু
বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিং হোমে কাজের পরিবেশ তুলনামূলকভাবে আধুনিক হলেও কাজের চাপ কম নয় সেখানেও। ডিউটির সময় মর্নিং , ইভিনিং,নাইট শিফটের পেশেন্ট কেয়ার, ডকুমেন্টেশন সব কিছুতেই পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হয়। পাশাপাশি রোগীর আত্মীয়দের মানসিক চাপ সামলানোও তাদের প্রতিদিনের কাজের অংশ। সব চ্যালেঞ্জের মাঝেও নার্সিং চাকরির সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা। একজন অসুস্থ মানুষ সুস্থ হয়ে উঠলে, তার চোখের কৃতজ্ঞতা সমস্ত ক্লান্তি মুছে দেয়। এই পেশা ধৈর্য শেখায়, মানবিক হতে শেখায় এবং জীবনের বাস্তব ঘটনার মুখোমুখি দাঁড়াতে সাহায্য করে। নার্সিং চাকরির অভিজ্ঞতা তাই শুধুই কাজের নয়; এটি প্রতিদিন মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক নিঃশব্দ সম্মানজনক সংগ্রামের গল্প।

ডিউটি শুরু হয় হ্যান্ড ওভার নিয়ে, শেষ হয় হ্যান্ড ওভার দিয়ে, কিন্তু বাস্তবে সময়মতো কাজ শেষ করা খুবই দুঃসহ চাপের। নার্সদের মর্নিং, ইভিনিং ছয়ঘন্টার ডিউটি শুনে প্রায়ই লোকে বলেন এত কম সময়ে ডিউটি আর কোনো চাকরিতে হয় না। তারা হয়তো নাইট ডিউটির বারো ঘন্টার কথা জানেন নচেৎ জানেন না এই ছয় ঘণ্টা কী বীভৎস!একজন নার্সকে ও.টি'র ভিতর এবং ও.টি'র বাইর দুইই সামলাতে হয় টানা ছয়ঘন্টার যুদ্ধ দৌড়ে।স্পেশাল ওয়ার্ড, ক্রিটিক্যাল ইউনিটগুলোর যুদ্ধ তারা দেখেননি বলেই হয়তো এমন মন্তব্য করে থাকেন।কতদিন রোগীর চাপ, স্টাফের ঘাটতি,জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে সব মিলিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বাড়তি সময় চলে যায় জীবন থেকে নার্সদের সেসবের ইয়ত্তা নেই।

কদিন আগেই একটা ছবি দেখছিলাম,
ছবিটাতে একটা মানুষের উপর হাতি দাঁড়িয়ে আছে। চিত্র এঁকে বোঝানো হয়েছে নার্সের রেসপন্সিবিলিটি কী বা কতটা ! আমি শুধু সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের ওয়ার্ড ও স্পেশাল ইউনিটের দায়িত্বটুকু লিখবো এখানে : একজন নার্সের ডিউটি শুরু গুডমর্নিং দিয়ে হাসপাতাল চত্তরে প্রবেশ, হস্টেল থেকে ড্রেস পরে ডিপার্টমেন্টে যাবার পথ থেকেই ডিউটি শুরু, ঘড়িতে হয়তো ৮টা বাজতে তখনো ১০ মিনিট বাকি, তাহলে কি করে শুরু হল ডিপার্টমেন্টে না গিয়েও? আরে মশাই কাহানি মে টুইস্ট হ্যায়! ওই যে নার্সদের মাথায় বোঝা চাপানো একটা ১০গ্রামের ময়ূরের পুচ্ছ নার্সের টুপি আর ওই কাকের ময়ূর সাজার মতো সাদা ধবধবে চকচকে, তকতকে হাল্কা নীলের আভা যুক্ত পোশাক!এর যে কি দায়িত্ব!যেন রাজার মুকুট! শ্লা পরে রাস্তায় বেরোলেও সেখানেই হাসপাতাল তৈরি হয়ে যাবে এমন! তাই হাসপাতাল চত্তরে এই পোশাকটা পরে যখন ডিপার্টমেন্টে রওনা হয় কোনো নার্স তখন পোশাকটা দেখেই কয়েকটা চোখ এগিয়ে আসে দিদি মেডিসিন আউটডোরটা কোথায়? দিদি এক্সরে ঘরটা কোথায়? অমুক ওয়ার্ডটা কোথায়? ব্যস! আর কি ৮টা না বাজুক দায়িত্ব শুরু।ওয়ার্ডে ঢুকে যা দেখা যায় একটা ওয়ার্ডের চিত্র যখন প্রাইভেট হাসপাতালে কাজ অ্যালোকেশন নিয়ে কাজ একা এক নার্সের হাতে ৮ - ৯জন রোগী, কোনো কোনো প্রাঃ হাসপাতালে নার্স : রোগী ১ : ৭ বা ১ : ১০ সরকারি হাসপাতালে নার্স : রোগী ৪ : ১৩০। সকালে গুডমর্নিং দিয়ে বিছানা চাদর পাল্টানো, চা, ব্রেকফাস্ট, মেডিসিন, স্যালাইন (সরকারিতে রোগীকে চা দেয় না ) সব রোগীর ভাইটালস চেক, আউটপুট, ইনপুট কাউন্ট, ওদিকে, রোগীর অপারেশন NPM/NBM বোর্ড বারবার নজর রাখা, রিমাইন্ডার জল টুকুও খাবে না কিন্তু তার যাবতীয় সাজ তার অপারেশনের পোষাক, চুল বাঁধা, হাতে কোমরে দড়ি, মেটাল ,দাঁত নড়ছে কিনা, সব দেখা চাই, করা চাই O.T কেস। অন্যদিকে কিছু রোগী যাবে পরীক্ষা করাতে USG, E.C.G, MRI, CT, X-RAY etc তার গোছগাছ, Temporary D.O.R.B, LAMA, DISCHARGE, ইত্যাদি। সুগার চেক খাবারের আগে ৬জন , সুগার চেক খাবারের দুঘন্টা পরে ৩জন , ওহো খাবারটাই এলোনা দুশ্চিন্তা, তার মাঝে ৮-১০টা নতুন রোগী হাজির ৯টা Admission , ৪জনের স্ট্যাট ডোজ, ছোটোবড়ো বোতল ঝোলাও, ৫জনের নতুন অ্যডভাইস চেঞ্জ, ১৪টা (রিপোর্ট অ্যন্ড রেকর্ড মেইনটেইন) ডকুমেন্টসের খাতা মেনটেন করো তার সাথে ডাক্তার রাুউন্ড হবে সঙ্গে চলো, রোগী অবস্থা খারাপ এখুনি CCU ট্রান্সফার করতে হবে , ৮ টা রোগী ডিস্চার্জ, দুটো লামা ছাড়বো আবারো ১৪টা খাতা মেনটেন করো। উপরি পাওনা যদি ওইসময় কোনো একটিও পেশেন্ট ডেথ হয় তাহলে মরার উপর জুটলো খাঁড়ার ঘা। মৃত রোগীর মর্চারি কেয়ার সে এক আলাদাই ঝক্কি, এতক্ষণ পঞ্চাশ জনের জন্য যে ঝক্কি পোহাতে হচ্ছিল এখন এই এক মৃত রোগীর জন্য সেই সমতুল্য ঝক্কি। নিস্তার নেই। সবাইকে চাকরি বাঁচাতেও হবে লিগ্যাল ডকুমেন্ট তো রাখতে হবে। ওহো! এত কাজের ভিড়ে এখনো খাবার আসেনি রোগীপক্ষ মুখ ঝামটা দিয়ে গেলো।ডাক্তার বললেন অমুক বেডে ক্যাথিটার ওমিট, তমুক বেডের চার্টটা দিন, অমুক বেডের রোগীকে একটু ড্রেসিং করবো ট্রে রেডি করুন, ক্যাথিটার পরাতে হবে, চ্যানেল পরাতে হবে, চ্যানেল খুলতে হবে, রাইলস টিউব পরাতে হবে, ২hrly ফিড দিতে হবে, বাইপেপ রেডি রাখতে হবে। ও দিকে একটা ভেন্টিলেটর চলছে না, তার দায়ও নার্সের। দুজন বিছানা ভিজিয়ে দিলো ইউরিন করে , এই এতক্ষনে এবার খাবার এলো।এলো যদি বা খাবার ভালো নয় বা পছন্দ নয়, গাদা মাছটা দিলো ডায়েট দাদা নার্সকে ঝাড়ি। ইনজেক্শন, মেডিসিন রেডি করবো, তারমাঝে ৫০বার আমার রোগীর এই হল না, ওই হল না, ফ্যান ঘুরছে না, ডাক্তার এলো না , বেডশীট ছেঁড়া, নোংরা কেনো, তারমাঝে আবার ডাক্তারবাবু পুনরায় ১০জন রোগীর ডিরেকশন চেঞ্জ করেছেন, আবার জি ও বি ডকুমেন্ট খাতা মেইনটেন।তার মাঝে একশো বার এই অফিস, অমুক স্যার, ম্যাডামের ল্যান্ড লাইনে ফোন। রোজের মেডিসিন, ইনজেকশন, স্যালাইন, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ইনডেন্ট লেখা ও আনানো এবং রেডি করে রোগীকে দেওয়া, হিসেব করে গুছিয়ে রাখা , ধোবি খাতা লেখা, ডায়েট খাতা লেখা, রেকর্ড সেকশন লেখা। অপারেশনের রোগী ফিরল তার আবার পোস্ট-অপ-ডিরেক্শন ফলো করা, পরীক্ষা ঘর থেকে রোগী ফিরলো কিনা তার খোঁজ করা। দুঘন্টা পরের সুগার চেক বেমালুম মাথা থেকে হাওয়া হ্যান্ড ওভারে সিনিয়র দিলেন ঝাড়, সেই মুহূর্তে আরেকজন রোগী খারাপ হলো আপনি রোগীর আত্মীয় হুমড়ি খেয়ে নার্সকে দিলেন কষিয়ে থাপ্পড়, আমি(নার্স) সবার কাছে ঝাড় খেলাম শুধু এত দায়িত্বে ভিড়ে খাবার খেলাম না! মাত্র ছয়ঘন্টায় ব্লাডার ভর্তি ইউরিন তাও ইউরিনালে যাবার সময় পেলাম না , আপনি বললেন নার্স রোগীর আত্মীয়দের উদ্বেগ বুঝলো না দূর্ব্যবহার করলো। আমরা নার্স মাথা পেতে নিলাম।বাড়ি চলে গেলাম।

তাতেও কি নার্সের দায়িত্ব শেষ হলো?
না।বাড়ি ঢুকতে না ঢুকতেই, নিজের স্বামী সংসার অসুস্থ বাচ্চার মুখ দেখতে না দেখতেই, পায়ে হাতে জল লাগিয়ে বসতে না বসতেই হাসপাতাল থেকে কলিগের ফোন অথবা ইনচার্জের ফোন।কেন বলুন তো? এত কাজ গুছিয়ে করার মাঝেও বোধহয় নার্স আজকের ইনটেক আউটপুট চার্ট করতে ভুলে গেছে বা হয় তো হ্যান্ড ওয়াশের লিকুইড সোপটা ঢেলে রাখতে ভুলে গেছিলো বা হয়তো বলতে ভুলে গেছিলো সেনসাস খাতাটা মেট্রন অফিসে আছে। তাই আবার জুটলো ঝাড়! আমরা নার্স মাথা পেতে নিলাম।

শান্ত হয়ে পরের দিন আবার দায়িত্বযান চড়ে হাসপাতালে হাজির। আবার শুরু হাসপাতালের শেড বেয়ে হেঁটে যাওয়া নার্সের রেসপন্সিবিলিটি।

কারণ, নার্সিং যেমন কোনো সাধারণ চাকরি নয়, তেমনি এক ধরনের নিরব ত্যাগের নামও। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালে কাজ করার অভিজ্ঞতা একজন নার্সকে প্রতিদিন নতুনভাবে মানুষ হতে শেখায়।এখানে প্রতিটি দিনই অনিশ্চয়তার, প্রতিটি ডিউটিই দায়িত্বের।

✍️ অনিমা মাল

মানসিক স্বাস্থ্য আমাদের জীবনের এমন একটি অংশ, যা শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই গুরুত্বপূর্ণ, অথচ আমরা প্রায়ই এটিকে উপেক্ষা কর...
06/12/2025

মানসিক স্বাস্থ্য আমাদের জীবনের এমন একটি অংশ, যা শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই গুরুত্বপূর্ণ, অথচ আমরা প্রায়ই এটিকে উপেক্ষা করি। মানসিক সুস্থতা মানে কেবলমাত্র মানসিক রোগ না থাকা নয়; বরং আবেগ, চিন্তা, আচরণ—সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। একজন মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকলে তিনি নিজের জীবন, কাজ, সম্পর্ক এবং সিদ্ধান্ত—সবকিছুই আরও পরিপূর্ণভাবে পরিচালনা করতে পারেন।

আজকের যুগে উদ্বেগ, হতাশা, স্ট্রেস, একাকীত্ব, ট্রমা—এসব সমস্যা অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, মানসিক সমস্যাকে এখনও অনেকেই লজ্জা, দুর্বলতা বা সামাজিক কলঙ্ক হিসেবে দেখে। এজন্যই মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো অপরিহার্য।

মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি করা—যে মানসিক অসুস্থতা কোনো অপরাধ বা দুর্বলতা নয়, এটি চিকিৎসাযোগ্য একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। যেমন জ্বর হলে ডাক্তার দেখানো হয়, তেমনই মানসিক সমস্যায়ও বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া স্বাভাবিক এবং প্রয়োজনীয়।এছাড়া, কথা বলা, নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা, প্রয়োজন হলে বিশ্রাম নেওয়া, সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখা, এবং সময়মতো পেশাদারের সাহায্য নেওয়া—এসবই মানসিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার, বন্ধু এবং সমাজের সহানুভূতি একজন মানুষের পুনরুদ্ধারে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।

সবশেষে বলা যায়—মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা যত বাড়বে, তত কমবে ভয়, লজ্জা এবং ভুল ধারণা। একটি সুস্থ, মানবিক এবং সচেতন সমাজ গড়তে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা অপরিহার্য।

@অনিমা মাল

ধ্রুবতারা।পথপ্রদর্শক।আদর্শ।আলোর দিশা।মতাদর্শ।মানবিকতা।উদারতা।ধর্মনিরপেক্ষতা।মহীয়সী।তোমায় প্রণমী।
12/05/2025

ধ্রুবতারা।পথপ্রদর্শক।আদর্শ।আলোর দিশা।মতাদর্শ।মানবিকতা।উদারতা।ধর্মনিরপেক্ষতা।মহীয়সী।

তোমায় প্রণমী।



❇️ক্যালিস্টা রায়❇️সিস্টার ক্যালিস্টা রয়,সিএসজে (জন্ম ১৪ অক্টোবর, ১৯৩৯) একজন আমেরিকান সন্ন্যাসিনী, নার্সিং তাত্ত্বিক, অ...
12/05/2025

❇️ক্যালিস্টা রায়❇️
সিস্টার ক্যালিস্টা রয়,সিএসজে (জন্ম ১৪ অক্টোবর, ১৯৩৯) একজন আমেরিকান সন্ন্যাসিনী, নার্সিং তাত্ত্বিক, অধ্যাপক এবং লেখিকা।
তিনি নার্সিংয়ের অভিযোজন মডেল তৈরির জন্য পরিচিত। ২০১৭ সালে অবসর নেওয়ার আগে তিনি বোস্টন কলেজে নার্সিং অধ্যাপক ছিলেন। আমেরিকান একাডেমি অফ নার্সিং কর্তৃক রায়কে ২০০৭ সালের জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল ।

ক্যালিস্টা রায় জন্ম:
ক্যালিস্টা লোরেন রায় ১৪ অক্টোবর, ১৯৩৯ (বয়স ৮৫)।
শিক্ষা:এমএসএমইউ, ইউসিএলএ।
সক্রিয় বছর:১৯৬৩–বর্তমান(৮৫ বছর)।
পরিচিত:নার্সিংয়ের অভিযোজন মডেল ।
চিকিৎসা পেশা:পেশা নার্সিং অধ্যাপক।
প্রতিষ্ঠান:বোস্টন কলেজ।
গবেষণা:নার্সিং তত্ত্ব।

শিক্ষা:রায় ১৯৬৩ সালে মাউন্ট সেন্ট মেরি'স কলেজ থেকে নার্সিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের আগে বিশপ কোনাটি-আওয়ার লেডি অফ লোরেটো হাই স্কুল থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৬৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস অ্যাঞ্জেলেস (ইউসিএলএ) থেকে নার্সিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি ইউসিএলএ থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর এবং ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি সান ফ্রান্সিসকোর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নিউরোসায়েন্স নার্সিংয়ে পোস্টডক্টরাল ফেলো হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন । তিনি চারটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছেন।

কেরিয়ার:
রায় বোস্টন কলেজের কনেল স্কুল অফ নার্সিং- এর অধ্যাপক এবং নার্সিং তাত্ত্বিক ছিলেন । ১৯৯১ সালে, তিনি বোস্টন বেসড অ্যাডাপ্টেশন রিসার্চ ইন নার্সিং সোসাইটি (BBARNS) প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে রয় অ্যাডাপ্টেশন অ্যাসোসিয়েশন নামে পরিচিত হয়। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ত্রিশটিরও বেশি দেশে বক্তৃতা দিয়েছেন। তার কর্মজীবনের শেষের দিকে, তিনি হালকা মাথার আঘাত থেকে পুনরুদ্ধারে সাধারণ অধ্যয়ন অংশীদারদের ভূমিকা নিয়ে অধ্যয়ন করেছিলেন। তিনি ২০১৭ সালে বোস্টন কলেজ থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় ফিরে আসেন।তিনি ক্যারোন্ডেলেটের সেন্ট জোসেফের বোনদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন ।

রয় অভিযোজন মডেল:
স্নাতকোত্তর অধ্যয়নের সময়, রয়কে প্রশিক্ষক ডোরোথি ই. জনসন নার্সিংয়ের একটি ধারণাগত মডেল লিখতে বাধ্য করেছিলেন। রয় অভিযোজন মডেলটি প্রথম 1970 সালে নার্সিং আউটলুক- এ প্রকাশিত হয়েছিল । এই মডেলে, মানুষ (ব্যক্তিগতভাবে বা গোষ্ঠীগতভাবে) হল সামগ্রিক, অভিযোজিত ব্যবস্থা। পরিবেশ অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক উদ্দীপনা নিয়ে গঠিত যা একজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ঘিরে থাকে। স্বাস্থ্যকে একটি সুস্থ, অক্ষম অবস্থা হিসাবে দেখা হয় যা পূর্ণতার দিকে পরিচালিত করে। নার্সিংয়ের লক্ষ্য হল সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে সমর্থন করে এমন অভিযোজনের পদ্ধতিগুলিকে প্রচার করা।

অভিযোজনের চারটি পদ্ধতি অখণ্ডতাকে সমর্থন করে: শারীরবৃত্তীয়-শারীরিক , স্ব-ধারণা গোষ্ঠী পরিচয় , ভূমিকা ফাংশন এবং আন্তঃনির্ভরতা । রায়ের মডেল প্রয়োগে, নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি ঐতিহ্যবাহী নার্সিং প্রক্রিয়ার সাথে এটিকে একীভূত করতে সাহায্য করতে পারে: ক্লায়েন্ট আচরণের মূল্যায়ন; উদ্দীপনার মূল্যায়ন; নার্সিং রোগ নির্ণয়; লক্ষ্য নির্ধারণ; হস্তক্ষেপ; এবং মূল্যায়ন।

সম্মাননা এবং পুরষ্কার:
#২০০৬: বিশিষ্ট শিক্ষকতা পুরষ্কার, বোস্টন কলেজ।
#২০০৭: জীবন্ত কিংবদন্তি, আমেরিকান একাডেমি অফ নার্সিং।
#২০১০: সিগমা থেটা টাউ -এর নার্স গবেষক হল অফ ফেম -এর অন্তর্ভুক্তি।
#২০১১: মেন্টর অ্যাওয়ার্ড, সিগমা থেটা টাউ সোসাইটি।

প্রকাশিত রচনা:
#প্রস্তাবিত: নার্সিং হল জ্ঞানের একটি তাত্ত্বিক অংশ যা একজন অসুস্থ ব্যক্তির যত্ন নেওয়ার জন্য বিশ্লেষণ এবং পদক্ষেপের নির্দেশ দেয়।

#রয়, ক্যালিস্টা (১৯৮৮)। "সিস্টার ক্যালিস্টা রয়"। শোরে, থেলমা এম.; জিমারম্যান, অ্যান (সম্পাদক)। পছন্দ করা, সুযোগ নেওয়া: নার্স নেতারা তাদের গল্প বলেন । সেন্ট লুইস , মিসৌরি : সিভি মোসবি কোম্পানি । আইএসবিএন 0801646111 এর বিবরণ।

#রয়, সি. (২০০৯)। "মূল্যায়ন এবং রয় অভিযোজন মডেল", জাপানি নার্সিং জার্নাল।

#রয়, সি. (২০০৮)। "প্রতিকূলতা এবং তত্ত্ব: বিস্তৃত চিত্র", নার্সিং সায়েন্স কোয়ার্টারলি।

#হুইটমোর, আর. এবং রয়, সি. (২০০২)। "ডায়াবেটিস মেলিটাসের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া: একটি তত্ত্ব সংশ্লেষণ", নার্সিং সায়েন্স কোয়ার্টারলি।

❇️ নার্সিংয়ের অভিযোজন মডেল:
১৯৭৬ সালে, সিস্টার ক্যালিস্টা রায় নার্সিংয়ের অভিযোজন মডেল তৈরি করেন , যা একটি বিশিষ্ট নার্সিং তত্ত্ব । নার্সিং তত্ত্বগুলি নার্সিংয়ের অনুশীলনকে কাঠামোবদ্ধ করে, ব্যাখ্যা করে বা সংজ্ঞায়িত করে। রায়ের মডেল ব্যক্তিকে আন্তঃসম্পর্কিত ব্যবস্থার (জৈবিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং সামাজিক) একটি সেট হিসাবে দেখে। ব্যক্তি এই ব্যবস্থা এবং বাইরের বিশ্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য প্রচেষ্টা করে, কিন্তু ভারসাম্যের কোনও পরম স্তর নেই। ব্যক্তিরা এমন একটি অনন্য ব্যান্ডের মধ্যে বাস করার চেষ্টা করে যেখানে সে পর্যাপ্তভাবে মোকাবেলা করতে পারে।

#তত্ত্বেরসংক্ষিপ্তসার:
এই মডেলটিতে ব্যক্তি, স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং নার্সিং - এই চারটি ক্ষেত্র ধারণা রয়েছে; এটি ছয়-পদক্ষেপের নার্সিং প্রক্রিয়াও অন্তর্ভুক্ত করে। অ্যান্ড্রুজ এবং রয় (১৯৯১) বলেছেন যে ব্যক্তি একজন ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের একটি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।

🌀 রয়ের মডেল ব্যক্তিকে "পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে ক্রমাগত মিথস্ক্রিয়ায় থাকা একটি জৈব-সামাজিক সত্তা" হিসাবে দেখে।

🌀ব্যক্তি একটি উন্মুক্ত, অভিযোজিত ব্যবস্থা যা চাপ মোকাবেলা করার দক্ষতা ব্যবহার করে। রয় পরিবেশকে " ব্যক্তির বিকাশ এবং আচরণকে ঘিরে থাকা এবং প্রভাবিত করে এমন সমস্ত অবস্থা, পরিস্থিতি এবং প্রভাব" হিসাবে দেখেন।
রয় স্ট্রেসকে উদ্দীপনা হিসাবে বর্ণনা করেন এবং সেইসব চাপকে বর্ণনা করার জন্য অবশিষ্ট উদ্দীপনা শব্দটি ব্যবহার করেন যাদের ব্যক্তির উপর প্রভাব স্পষ্ট নয়। মূলত, রয় লিখেছেন যে স্বাস্থ্য এবং অসুস্থতা একটি ধারাবাহিকতায় রয়েছে যার অনেকগুলি ভিন্ন অবস্থা বা মাত্রা সম্ভব। অতি সম্প্রতি, তিনি বলেছেন যে স্বাস্থ্য হল একটি সমন্বিত এবং সম্পূর্ণ ব্যক্তি হওয়ার এবং হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া। নার্সিংয়ের ক্ষেত্রে রয়ের লক্ষ্য হল "চারটি পদ্ধতির প্রতিটিতে অভিযোজনকে উৎসাহিত করা, যার ফলে ব্যক্তির স্বাস্থ্য, জীবনযাত্রার মান এবং মর্যাদার সাথে মৃত্যুতে অবদান রাখা"। এই চারটি পদ্ধতি হল— "শারীরবৃত্তীয়, স্ব-ধারণা, ভূমিকা ফাংশন এবং আন্তঃনির্ভরতা।"

🌀রায় ছয়-পদক্ষেপের নার্সিং প্রক্রিয়া ব্যবহার করেন: আচরণের মূল্যায়ন; উদ্দীপনার মূল্যায়ন; নার্সিং রোগ নির্ণয়; লক্ষ্য নির্ধারণ; হস্তক্ষেপ এবং মূল্যায়ন। প্রথম ধাপে, চারটি পদ্ধতির প্রতিটিতে ব্যক্তির আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই আচরণটি নিয়মের সাথে তুলনা করা হয় এবং অভিযোজিত বা অকার্যকর বলে বিবেচিত হয়। দ্বিতীয় ধাপটি আচরণকে প্রভাবিত করে এমন কারণগুলির সাথে সম্পর্কিত। উদ্দীপনাগুলিকে ফোকাল, প্রাসঙ্গিক বা অবশিষ্ট হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। নার্সিং রোগ নির্ণয় হল সম্ভাব্য কারণ সনাক্তকরণের সাথে অকার্যকর আচরণের বিবৃতি। এটি সাধারণত ফোকাল উদ্দীপনার সাথে সম্পর্কিত নার্সিং সমস্যা হিসাবে বলা হয়, যা একটি সরাসরি সম্পর্ক তৈরি করে। চতুর্থ ধাপে, লক্ষ্য নির্ধারণ হল ফোকাস। লক্ষ্যগুলি বাস্তবসম্মত এবং অর্জনযোগ্য হওয়া প্রয়োজন এবং ব্যক্তির সাথে সহযোগিতায় সেট করা হয়। [ 1 ] নার্স রোগীর জন্য সাধারণত স্বল্পমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী উভয় লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। হস্তক্ষেপ পঞ্চম ধাপ হিসাবে ঘটে এবং এটিই যখন উদ্দীপনাগুলিকে কাজে লাগানো হয়। এটিকে 'করণীয় পর্যায়'ও বলা হয়।
[ 2 ] চূড়ান্ত পর্যায়ে, মূল্যায়ন ঘটে। আচরণের পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রমাণিত পরিবর্তনের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। অকার্যকর আচরণগুলি পুনর্মূল্যায়ন করা হবে এবং হস্তক্ষেপগুলি সংশোধন করা হবে।

১৯৬৪ সালে রয় যখন স্নাতকোত্তর স্তরের ছাত্রী ছিলেন, তখন এই মডেলটির সূচনা হয়। নার্সিং অনুষদের সদস্য ডরোথি ই. জনসন তাকে নার্সিং অনুশীলনের জন্য একটি ধারণাগত মডেল তৈরি করার জন্য চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। রয়ের মডেলটি মূলত একজন শারীরবৃত্তীয় মনোবিজ্ঞানী হ্যারি হেলসনের কাজের উপর নির্ভরশীল।

🌀রয় অভিযোজন মডেলকে সাধারণত একটি "সিস্টেম" মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়; তবে, এতে একটি "ইন্টারঅ্যাকশনাল" মডেলের উপাদানও অন্তর্ভুক্ত থাকে। মডেলটি বিশেষভাবে পৃথক ক্লায়েন্টের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, তবে এটি পরিবার এবং সম্প্রদায়ের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া যেতে পারে (রয়, ১৯৮৩) [ সম্পূর্ণ উদ্ধৃতি প্রয়োজন ] । রয় বলেন (ক্লিমেন্টস এবং রবার্টস, ১৯৮৩) [ সম্পূর্ণ উদ্ধৃতি প্রয়োজন ] যে "একজন অভিযোজিত সিস্টেম হিসেবে ব্যক্তির যেমন ইনপুট, আউটপুট এবং অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া থাকে, তেমনি পরিবারকেও এই দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণনা করা যেতে পারে।"

রয়ের মডেলের মূল ধারণা তিনটি: মানুষ, অভিযোজন এবং নার্সিং। মানুষকে একটি জৈব-সামাজিক সত্তা হিসেবে দেখা হয় যে ক্রমাগত পরিবেশের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে। এই মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষের লক্ষ্য হল অভিযোজন। রয় এবং রবার্টস (১৯৮১) অনুসারে , 'ব্যক্তির দুটি প্রধান অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াকরণ উপ-ব্যবস্থা রয়েছে, নিয়ন্ত্রক এবং জ্ঞানী।' এই উপ-ব্যবস্থাগুলি হল অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা মোকাবেলা করার জন্য মানুষ দ্বারা ব্যবহৃত প্রক্রিয়া। নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়াটি প্রাথমিকভাবে স্বায়ত্তশাসিত স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে কাজ করে এবং এতে অন্তঃস্রাবী, স্নায়ু এবং উপলব্ধি পথ অন্তর্ভুক্ত থাকে। এই প্রক্রিয়াটি ব্যক্তিকে পরিবেশগত উদ্দীপনার সাথে মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত করে। জ্ঞানী প্রক্রিয়াটিতে আবেগ, উপলব্ধি/তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, শেখা এবং বিচার অন্তর্ভুক্ত। উপলব্ধি প্রক্রিয়া দুটি প্রক্রিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে (রয় এবং রবার্টস, ১৯৮১) ।

#উদ্দীপকেরপ্রকারভেদ:
তিন ধরণের উদ্দীপনা একজন ব্যক্তির পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। এর মধ্যে রয়েছে ফোকাল উদ্দীপনা, প্রাসঙ্গিক উদ্দীপনা এবং অবশিষ্ট উদ্দীপনা। ফোকাল উদ্দীপনা হল সেইসব যা একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যক্তির মুখোমুখি হয়। একটি পরিবারের জন্য ফোকাল উদ্দীপনার মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত চাহিদা; পারিবারিক অভিযোজনের স্তর; এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে, সদস্যদের মধ্যে এবং পারিবারিক পরিবেশে পরিবর্তন (রয়, ১৯৮৩)। প্রাসঙ্গিক উদ্দীপনা হল সেই অন্যান্য উদ্দীপনা যা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করে। অবশিষ্ট উদ্দীপনার মধ্যে রয়েছে ব্যক্তির বিশ্বাস বা মনোভাব যা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। অনেক সময় এটি সমস্যাকে প্রভাবিত করতে পারে এমন অন্যান্য কারণ সম্পর্কে নার্সের "ধারণা"। একটি পারিবারিক ব্যবস্থার জন্য প্রাসঙ্গিক এবং অবশিষ্ট উদ্দীপনার মধ্যে রয়েছে লালন-পালন, সামাজিকীকরণ এবং সহায়তা (রয়, ১৯৮৩)। অভিযোজন তখন ঘটে যখন মোট উদ্দীপনা ব্যক্তি/পরিবারের অভিযোজন ক্ষমতা বা অভিযোজনের ক্ষেত্রের মধ্যে পড়ে। একটি পরিবারের জন্য ইনপুটগুলিতে সেই সমস্ত উদ্দীপনা অন্তর্ভুক্ত থাকে যা একটি গোষ্ঠী হিসাবে পরিবারকে প্রভাবিত করে।

পরিবার ব্যবস্থার ফলাফল তিনটি মৌলিক লক্ষ্য: বেঁচে থাকা, ধারাবাহিকতা এবং বৃদ্ধি (রয়, ১৯৮৩)। রয় বলেছেন (ক্লিমেন্টস এবং রবার্টস, ১৯৮৩)-
যেহেতু অভিযোজন স্তর অন্যান্য সমস্ত প্রাসঙ্গিক উদ্দীপকের সমষ্টিগত প্রভাবের ফলে উদ্ভূত হয়, তাই নার্স ফোকাল উদ্দীপকের সাথে সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক এবং অবশিষ্ট উদ্দীপনা পরীক্ষা করে কোন অঞ্চলে ইতিবাচক পারিবারিক মোকাবেলা ঘটতে পারে তা নির্ধারণ করে এবং ভবিষ্যদ্বাণী করে যে প্রদত্ত উদ্দীপনা কখন সেই অঞ্চলের বাইরে থাকবে এবং নার্সিং হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হবে।

#অভিযোজনের_চারটি_ধরণ:
লেভাইন বিশ্বাস করেন যে একজন ব্যক্তির অভিযোজন চারটি ভিন্ন মোডে ঘটে। এটি পরিবারের ক্ষেত্রেও সত্য (হ্যানসন, ১৯৮৪)। এর মধ্যে রয়েছে শারীরবৃত্তীয় মোড, স্ব-ধারণা মোড, ভূমিকা ফাংশন মোড এবং আন্তঃনির্ভরতা মোড।

ব্যক্তির নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া মূলত শারীরবৃত্তীয় মোডের সাথে জড়িত, যেখানে কোগনেটর প্রক্রিয়া চারটি মোডে জড়িত (রয় এবং রবার্টস, 1981)। পারিবারিক লক্ষ্যগুলি মডেলের অভিযোজনের পদ্ধতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ: বেঁচে থাকা = শারীরবৃত্তীয় মোড; বৃদ্ধি = স্ব-ধারণা মোড; ধারাবাহিকতা = ভূমিকা ফাংশন মোড। লেনদেনের ধরণগুলি আন্তঃনির্ভরতা মোডে পড়ে (ক্লিমেন্টস এবং রবার্টস, 1983)।

শারীরবৃত্তীয় পদ্ধতিতে, অভিযোজন শারীরিক অখণ্ডতা বজায় রাখার সাথে জড়িত। পুষ্টি, অক্সিজেন, তরল এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মতো মৌলিক মানবিক চাহিদাগুলি এই পদ্ধতির মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয় (ফসেট, ১৯৮৪)। একটি পরিবার মূল্যায়ন করার সময়, নার্স জিজ্ঞাসা করবেন যে পরিবার কীভাবে পরিবারের সদস্যদের শারীরিক এবং বেঁচে থাকার চাহিদা পূরণ করে। আত্ম-ধারণা পদ্ধতির একটি কাজ হল মানসিক অখণ্ডতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা। এই পদ্ধতিতে ব্যক্তির শারীরিক এবং ব্যক্তিগত স্ব সম্পর্কে ধারণাও অন্তর্ভুক্ত। পরিবারগুলির নিজেদেরকে একটি পারিবারিক ইউনিট হিসাবে ধারণাও রয়েছে। এই পদ্ধতিতে পরিবারের মূল্যায়নের মধ্যে পরিবারের সদস্যদের দেওয়া বোঝার পরিমাণ, পরিবারের সংহতি, পরিবারের মূল্যবোধ, সদস্যদের দেওয়া সাহচর্যের পরিমাণ এবং পরিবারের অভিযোজন (বর্তমান বা ভবিষ্যত) অন্তর্ভুক্ত থাকবে (হ্যানসন, ১৯৮৪)।

ভূমিকা ফাংশন মোডে সামাজিক অখণ্ডতার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। মানুষ যখন জীবদ্দশায় ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ভূমিকার পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়, তখন তারা এই মোডে খাপ খাইয়ে নেয়। হ্যানসন (১৯৮৪) অনুসারে , পরিবারের যোগাযোগের ধরণ পর্যবেক্ষণ করে পরিবারের ভূমিকা মূল্যায়ন করা যেতে পারে। মূল্যায়নে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সদস্যদের ভূমিকা এবং যোগাযোগের ধরণ, কীভাবে ভূমিকার পরিবর্তন সহ্য করা হয় এবং যোগাযোগের কার্যকারিতা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত (হ্যানসন, ১৯৮৪)। উদাহরণস্বরূপ, যখন কোনও দম্পতি পূর্ণ-সময়ের চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরে তাদের জীবনযাত্রাকে যথাযথভাবে সামঞ্জস্য করে, তখন তারা এই মোডে খাপ খাইয়ে নেয়।

আন্তঃনির্ভরশীলতা পদ্ধতিতে সামাজিক অখণ্ডতার প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। আন্তঃনির্ভরশীলতার মধ্যে রয়েছে অন্যদের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা এবং নির্ভরতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। নির্ভরশীল আচরণের মধ্যে রয়েছে স্নেহ অন্বেষণ, সাহায্য অন্বেষণ এবং মনোযোগ অন্বেষণ। স্বাধীন আচরণের মধ্যে রয়েছে বাধাগুলির উপর দক্ষতা অর্জন এবং উদ্যোগ গ্রহণ। হ্যানসন (১৯৮৪) এর মতে, পরিবারগুলিতে এই পদ্ধতি মূল্যায়ন করার সময়, নার্স নির্ধারণ করার চেষ্টা করেন যে পরিবারটি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে কতটা সফলভাবে বাস করে। নার্স প্রতিবেশী এবং অন্যান্য সম্প্রদায় গোষ্ঠীর সাথে পরিবারের মিথস্ক্রিয়া, পরিবারের সহায়তা ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্যদের মূল্যায়ন করবেন (হ্যানসন, ১৯৮৪)।

নার্সিংয়ের লক্ষ্য হল স্বাস্থ্য এবং অসুস্থতা উভয় ক্ষেত্রেই ক্লায়েন্টের অভিযোজনকে উৎসাহিত করা। নার্সের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন প্রক্রিয়া দিয়ে শুরু হয়, পরিবারকে দুটি স্তরে মূল্যায়ন করা হয়। প্রথমে, নার্স খারাপ অভিযোজনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি সম্পর্কে একটি রায় দেন। তারপরে, নার্স পরিবারের খারাপ আচরণকে প্রভাবিত করে এমন উদ্দীপনার উপর মূল্যায়নকে কেন্দ্রীভূত করেন। অভিযোজনকে উৎসাহিত করার জন্য নার্সকে পরিবেশ, ক্লায়েন্ট সিস্টেমের একটি উপাদান বা উপাদান, অথবা উভয়কেই কাজে লাগাতে হতে পারে।

অনেক নার্স, সেইসাথে নার্সিং স্কুল, নার্সিং অনুশীলনের কাঠামো হিসেবে রয় অভিযোজন মডেল গ্রহণ করেছে। মডেলটি ক্লায়েন্টকে একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে এবং নার্সিং জ্ঞানে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। লেখক দ্বারা মডেলটি ব্যাখ্যা এবং বিকাশের মধ্য দিয়ে চলেছে।

#পারিবারিক_মূল্যায়নে_রায়েরমডেল_প্রয়োগ_করা
রয়ের মডেলকে তাত্ত্বিক কাঠামো হিসেবে ব্যবহার করার সময়, নিম্নলিখিত বিষয়গুলি পরিবারের মূল্যায়নের জন্য একটি নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করতে পারে।

I. অভিযোজন মোড:

A. শারীরবৃত্তীয় মোড
১. পরিবারটি তার সদস্যদের মৌলিক বেঁচে থাকার চাহিদা কতটা পূরণ করতে সক্ষম?
২. পরিবারের কোন সদস্যের কি মৌলিক বেঁচে থাকার চাহিদা পূরণে অসুবিধা হচ্ছে?

B. স্ব-ধারণা মোড
১. পরিবার তাদের লক্ষ্য অর্জনের এবং সদস্যদের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করার ক্ষমতার দিক থেকে নিজেকে কীভাবে দেখে? তারা নিজেদের কতটা স্ব-পরিচালিত বলে মনে করে? অন্যভাবে পরিচালিত?
২. পরিবারের মূল্যবোধ কী কী?
৩. পরিবারের সদস্যদের প্রতি কতটা সাহচর্য এবং বোঝাপড়া দেখানো হয়েছে তা বর্ণনা করুন।

C. ভূমিকা ফাংশন মোড
১. পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা বর্ণনা করো।
২. দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে, পরিবারের ভূমিকা কতটা সহায়ক, ভূমিকার অতিরিক্ত চাপের প্রতিফলন ঘটায়?
৩. পারিবারিক সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়?

D. আন্তঃনির্ভরতা মোড
১. পরিবারের সদস্য এবং পরিবারের মধ্যে থাকা উপ-প্রণালীগুলিকে লক্ষ্য সনাক্তকরণ এবং অর্জনের ক্ষেত্রে (যেমন, কিশোর-কিশোরীদের) কতটা স্বাধীন থাকার অনুমতি দেওয়া হয়?
২. সদস্যরা একে অপরের প্রতি কতটা সহায়ক?
৩. পরিবারের সহায়তা ব্যবস্থা কী? উল্লেখযোগ্য অন্যান্য?
৪. পরিবারের বাইরের তথ্য এবং সহায়তার জন্য পরিবার কতটা উন্মুক্ত? পরিবারের বাইরের অন্যান্য পরিবারকে সহায়তা করতে ইচ্ছুক?
৫. সম্প্রদায়ের মধ্যে পরিবারের মিথস্ক্রিয়ার ধরণ বর্ণনা করো।

II. অভিযোজিত প্রক্রিয়া:

A: নিয়ন্ত্রক: স্বাস্থ্যের দিক থেকে পরিবারের শারীরিক অবস্থা? অর্থাৎ, পুষ্টির অবস্থা, শারীরিক শক্তি, শারীরিক সম্পদের প্রাপ্যতা
B. জ্ঞানী: শিক্ষাগত স্তর, পরিবারের জ্ঞানের ভিত্তি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের উৎস, ক্ষমতার ভিত্তি, ইনপুট দেওয়ার জন্য সিস্টেমে উন্মুক্ততার মাত্রা, প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা।

III. উদ্দীপনা:

ক. ফোকাল
১. এই সময়ে পরিবারের প্রধান উদ্বেগগুলি কী কী?
২. সদস্যদের প্রধান উদ্বেগগুলি কী কী?
৩. এটি সাধারণত নার্সিং রোগ নির্ণয় বা সমস্যাযুক্ত আচরণের মূল উদ্দীপনার সাথে সম্পর্কিত। সমস্যাযুক্ত আচরণগুলি একে অপরের সাথে সম্পর্কিত হওয়ায় ঠিক করার আগে নার্সের পক্ষে এটি ঠিক করার চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ।
খ. প্রাসঙ্গিক
১. পারিবারিক কাঠামো, গতিশীলতা এবং পরিবেশের কোন উপাদানগুলি পরিবার তাদের প্রধান উদ্বেগগুলির (যেমন, আর্থিক ও শারীরিক সম্পদ, সহায়তা ব্যবস্থার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি, ক্লিনিকাল পরিবেশ ইত্যাদি) মোকাবেলা এবং খাপ খাইয়ে নেওয়ার পদ্ধতি এবং মাত্রার উপর প্রভাব ফেলছে?
এগুলো নেতিবাচক অথবা ইতিবাচক হতে পারে কারণ এটি মূল নার্সিং সমস্যার সাথে সম্পর্কিত।
গ. অবশিষ্টাংশ
১. পরিবারটি যখন খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে (যেমন, বিকাশের পর্যায়, সাংস্কৃতিক পটভূমি, আধ্যাত্মিক/ধর্মীয় বিশ্বাস, লক্ষ্য, প্রত্যাশা) তখন এই পরিবারের কোন জ্ঞান, দক্ষতা, বিশ্বাস এবং মূল্যবোধ বিবেচনা করা উচিত? এটি সাধারণত একটি ধারণা যে নার্সের এমন কিছু আছে যা যত্নের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এটিকে রোগীর জীবনে এমন কিছু ঘটছে যা সমস্যাটিকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে সে সম্পর্কে তার শিক্ষাগত অনুমান হিসাবে বর্ণনা করা যেতে পারে।

প্রতিটি মোডে পরিবারের ক্রিয়াকলাপ কতটা ইতিবাচকভাবে মোকাবেলা এবং ফোকাল উদ্দীপনার সাথে অভিযোজনের দিকে পরিচালিত করছে তা নার্স মূল্যায়ন করেন। যদি মোকাবেলা এবং অভিযোজন স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক না হয়, তাহলে উদ্দীপকের ধরণ এবং নিয়ন্ত্রকদের কার্যকারিতা মূল্যায়ন অভিযোজনকে উৎসাহিত করার জন্য নার্সিং হস্তক্ষেপের নকশার ভিত্তি প্রদান করে।

প্রতিটি মূল্যায়নে এই প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে, একজন নার্স রোগীর সমস্যা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা পেতে পারেন। প্রতিটি উদ্দীপনাকে চিনতে পারা গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি ছাড়া, ব্যক্তির সমস্যার প্রতিটি দিক মোকাবেলা করা এবং সমাধান করা সম্ভব নয়। একজন নার্স হিসেবে, রোগীর যত্ন নেওয়ার সময় এই সমস্ত পদ্ধতি, প্রক্রিয়া এবং উদ্দীপনাকে চিনতে পারা তাদের কাজ। তারা নার্সিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদের উন্নত জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যক্তি এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে এটি করেন।

ক্যালিস্টা রায় মনে করেন যে চারটি প্রধান অভিযোজন ব্যবস্থা রয়েছে, যাকে তিনি অভিযোজনের ধরণ বলে অভিহিত করেন। তিনি এগুলোকে বলেন ১. শারীরবৃত্তীয়-ভৌত ব্যবস্থা। ২. স্ব-ধারণা গোষ্ঠী পরিচয় ব্যবস্থা।
৩. ভূমিকা আয়ত্ত/কার্য ব্যবস্থা।
৪. আন্তঃনির্ভরশীলতা ব্যবস্থা।





#অজানাকেজানারজন্যদিলাম

05/05/2025

A baby's arrival after birth marks the beginning of an incredible journey ♥️

।।যাঁকে আমি চিনি না।।—রাত ডিউটি। আমার টেবিলে বসে যিনি ব্লাড রিকুইজিশন লিখছিলেন তাঁকে আমি চিনি না। বলা ভালো চিনতে পারার ক...
05/05/2025

।।যাঁকে আমি চিনি না।।

—রাত ডিউটি। আমার টেবিলে বসে যিনি ব্লাড রিকুইজিশন লিখছিলেন তাঁকে আমি চিনি না।
বলা ভালো চিনতে পারার কোনো সুযোগ ছিলো না।রাত প্রায় নয়টা। একজন পুরুষ ডাক্তারবাবু তিন জন মহিলা ডাক্তার নিয়ে এসেছেন। পুরুষ ডাক্তারবাবু বললেন "দিদি, এঁরা আমার ইন্টার্ন, ওদের একটু কাজ শেখাবো"।

—বেশতো। শেখান। নতুনদের সিনিয়র দাদা,দিদিরা না শেখালে ওঁরাই বা শিখবে কোথা থেকে? (আমি আমার কাজ করতে করতে)

—দিদি , ফিক্সার কোথায় পাবো?

—ওই তো আলমারীতে একটা কৌটোতে ফিক্সার লিখে লেবেল করে রাখা আছে।
(ফিক্সার নিয়ে চলে যাবার কিছুসময় পর চারজনে টেবিলের কাছে আবার।)

—দিদি, ওদেরকে ধরে ধরে কাজ শেখাচ্ছি।

—দারুণ তো।

—আর তোরা কিন্তু জেনে রাখ কোনো কিছু না পারলে এই দিদিকে জিজ্ঞাসা করবি দিদি সব জানে।

—আমি? সব? না । সব জানিনা, যা জানি তা অবশ্যই শেয়ার করবো।

এখানেই বলি , যে ডাক্তারবাবু তাঁর তিনজন ইন্টার্ন নিয়ে এসেছেন সেই ডাক্তারবাবুকে প্রতিনিয়ত দেখি মুখ পরিচিতি হয়ে উঠেছে পূর্বেই। বাকি তিন ইন্টার্নের দুই ইন্টার্ন কে সেই রাতে প্রথম দেখা তবে পরেও যেকোনো সময় দেখা হলেই চিনতে পারবো ইন্টার্ন হিসেবে বা বিগত দিনে পূর্ণ ডাক্তার হিসেবে। কিন্তু যাকে চিনলাম না, তিনি হলেন মাথার চুল থেকে পায়ের নোখ, নাক, মুখ ঢাকা পর্দানশীন ডাক্তার। মহিলা বা নারী কোনকিছু নিশ্চিৎ করে বলতে পারছিনা এখন ই।

আমি রাত দশটার পেশেন্টের ইঞ্জেকশন প্রস্তুত করতে করতে উনার উল্টোদিকের টেবিলে বসেও সোজাসুজি তাঁর মুখ বোঝার চেষ্টা করলাম কিন্তু পারলাম না। এরপর আমি ইঞ্জেকশন দিয়ে ফেরত আসি।উনারা চারজনে চলে যান।

"আমি রাতের কাজ গুছোতে গুছোতে ভাবি, ওরম বস্তার মতো জামার ভিতর যিনি ছিলেন তিনি কি আদৌ ইন্টার্ন বা মানুষ? আমি কিভাবে নিশ্চিত হতে পারি তিনি ইন্টার্ন এবং এই হাসপাতালেরই? আমি কি করে নিশ্চিত হতে পারি যে শুধু চোখ দুটো বাহিরে থাকা পুরো শরীর কাপড়ে মুড়ে রাখা ব্যক্তি একজন পুরুষ নয় নারীই বা সে মানুষ বা অর্ধ নারী নয়? আর হাসপাতালে কিভাবে একজন পারে এরকম পোশাক পরে ডিউটি করতে?

ওয়ার্ড তো সাধারণ ব্যপার আইসিউ,সিসিইউ, পিআইসিউ , এইচডিইউ সবজায়গাতে এমনকি অপারেশন থিয়েটারেও দেখি মাথার চুল থেকে পায়ের নোখ অব্দি ঢাকা লম্বা বুননের বোরকা ,নিকাব, হিজাব (আনস্টেরাইল) পোশাক পরে ঢুকে যাচ্ছে। ওই হিজাব পরেই পেশেন্ট এর পেট কেটে অপারেশন করে যাচ্ছে, কেউ বা লম্বা লম্বা দাড়ি নিয়ে মাথায় ঝাঁকড়া ঝাঁকড়া চুল নিয়ে অপারেশন করে যাচ্ছে। কিচ্ছু বলা যাবেনা, আর যে বলতে পারে বা বলবে তাকেই অপারেশন থিয়েটার, সিসিইউ , পিআইসিউ, এইচডিইউ, আইসিইউ থেকে সরিয়ে অন্য ডিপার্টমেন্ট এ দিয়ে দেওয়া হবে।

অবাক লাগে সরকার থেকে শুরু করে স্বাস্হ্যভবনের হর্তাকর্তারা তৎসঙ্গে হাসপাতালের নার্সিং অথরিটিরাও পর্যন্ত ফর্দ নিয়ে বসে থাকে তিন বেলায় নার্সের কি কি করা যাবে না, কি কি পরা যাবে না, মাইক্রোস্কোপ নিয়ে বসে থাকে কার হাতে নোখ আছে কার হাতে নেইল পলিশ আছে,কার কানে কত বড় দুল আছে কার নাকে কত সোনা আছে সেসব চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে খুলিয়ে, মুছিয়ে দেবার জন্য। কিন্তু বোধকরি তাঁকেই এসব খোলাতে পারেননি যে ছেলে-মেয়েটি বলেছে আমি অহিন্দু।

আইসিউ ,সিসিইউ,পিআইসিউ,অপারেশন থিয়েটার গুলোতে রাউন্ড দিতে গেলেও "এই নার্স এটা কেন পরেছে,এই নার্স এটা কোথাকার জুতো পরেছো, জুতো কেনো বাইরের,মাথার ক্যাপের ফাঁক দিয়ে চুল কেনো উঁকি মারে চুল ঢোকাও, হাতে কেনো বড় নখ, ওটি ড্রেসের ভিতরে কেনো বাড়ির জামা পরেছো—পানিশমেন্ট ,শোকজ, অপমান ইত্যাদি। বোধকরি তিনারা কোনোদিন অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে, সিসিইউ,আইসিইউ, পিআইসিউ,এইচডিইউ এর মতো ক্রিটিক্যাল অথচ লোডেড স্টেরিলিটি ১০০% সুনিশ্চিত করার মতো জায়গা গুলোতে যে অনিয়ম আনস্টেরিলিটি টা চোখের সামনে ধর্মের দোহাই দিয়ে পাগড়ি পরা , চুলদাঁড়ি রাখা, হিজাব পরা, নেইল আর্ট করা,কানে বড় বড় দুল পরা অপারেশনে মগ্ন থাকা পাব্লিকটি করছেন সেটা তাঁরা দেখেও ওটা ওঁদের ধর্ম বলে চুপচাপ এড়িয়ে যেতে দেখেছি। সব স্টেরিলিটি আনস্টেরিলিটি, ইনফেকশন কন্ট্রোল এর দায় কেবল নার্সদের। ইত্যাদি ইত্যাদি আমার ভেতরের মন চিন্তা করতে করতে রাতের কাজ শেষ করে বারোটায় নার্সেস রুমে ডিনারে বসেছে কিছুক্ষণ হলো।"

হঠাৎ, নার্সেস রুমের দরজায় ঠকঠক!

—কে? কেএএ?

—দিদি, আমি আমি ইন্টার্ন।

—দরজা ঠেলে মুখ বের করে দেখি এক ইন্টার্ন মেয়ে আর সাথে সেই অহিন্দু সিনিয়র দাদা। কি লাগবে?

— দিদি, টিটি লাগবে।

—কাকে দেবেন? মানে ইন্ডোর কাউকে নাকি ইমার্জেন্সী কাউকে?

—ইমার্জেন্সী।

—টিটি ফ্রিজ থেকে বের করে সিরিঞ্জ এ টানতে টানতে কি মনে হলো আমি বললাম — দিদি আপনারা কেউ আমাকে ডাকবেন না। রাতে কারোর কিছু লাগলে পিঙ্ক ড্রেস পরা ছেলে মেয়েদের বলবেন ওঁরা আমাকে ডেকে দেবে বা ডেকে নিয়ে যাবে ইমার্জেন্সী তে। বলে ফেললাম কারণ, বোধহয় খানিকটা অসুরক্ষিত বোধ করেছি ততক্ষণে তাই। কারণ, একা ডিউটি, নার্সেস স্টেশনে আমি একা ছাড়া পুরো ফাঁকা। ফিমেল ওয়ার্ড লাগোয়া নার্সেস স্টেশন থেকে মেল ওয়ার্ড যেতে গেলে বিস্তর ফাঁক জায়গা তার উপর নার্সেস রুম ফিমেল ওয়ার্ড এর সাথে এটাচ্ড। রাত দশটার পর নার্সেস স্টেশনে আমি ছাড়া মহিলা পেশেন্ট রা ঘুমিয়ে গেলে সব ফাঁকা নির্জন। এমনিতেই অসুরক্ষিত বোধ করার মতো জায়গাটি তার উপর যিনি পুরো শরীর মুড়ে রেখে হিজাব ঢেকে পাশে বসে রিকুইজিশন লিখছিলেন তাঁর মুখের সাথে আমার কোনো সংযোগ তৈরি হয়নি,সে কে সেটা নিশ্চিত করা যায় নি। বাকি তিনজন কে হিন্দু,কে অহিন্দু,কে অবাঙালি সেটা নিশ্চিত না করা গেলেও তারা যে মানুষ এর মতো এটা নিশ্চিত করা গেছে কিন্তু যিনি নিজেকে পুরোপুরি মুড়ে রেখেছেন সেই মোড়ানো ফটকের ভিতরে যিনি আছেন তিনি নারী নাকি পুরুষ না তৃতীয় ব্যক্তি নাকি এলিয়েন নাকি মানুষ সেটা সুনিশ্চিত করা যায়নি। সে যদি পরের দিন সকালে বা দুপুরে বা রাতে হিজাব,নিকাব ছাড়া আমার সামনে এসে দাঁড়ায় আমি তাঁকে চিনতে পারবো না। আমার কি অনিশ্চয়তা বোধ বা অসুরক্ষিত বোধ অমূলক??

তারমানে কি আমি সকল অহিন্দু থেকে অসুরক্ষিত বা প্রাণঘাতী হবার ভয় পাচ্ছি? না। যে অহিন্দু পুরুষ ডাক্তার বিগত দিনেও আমার পাশে বসে কথা বলেছেন তার থেকে আমি অসুরক্ষিত বোধ করি নি। ওয়ার্ডের যে অহিন্দু দিদি আমার কপালে কপালে চুমু এঁকে দেয় তাঁর থেকে আমি অসুরক্ষিত বোধ করিনা।যে অহিন্দু দিদির সাথে এক থালায় টিফিন খাওয়া হয় তাঁর থেকে অসুরক্ষিত বোধ করি না। অহিন্দু হলেই যে আমি তাঁকে জঙ্গি ভেবে ফেলছি বা ঘৃণা পোষণ করছি? তা কিন্তু নয়।

কিন্তু যে তার চেহারা পুরো লুকিয়ে আছে সামান্যতম চোখ দুটোই দেখা যায় খালি ;মুখ পরিচিতি গড়ে ওঠে না, তাঁর দুটো হাত আছে নাকি চারটে আছে জানা যায় না ,সে যদি এসে বলে আমি ইন্টার্ন,আমি ডাক্তার,আমি নার্স,আমি সুইপার, আমি টেকনোলজিস্ট ইত্যাদি তাঁর থেকে কিভাবে সুরক্ষিত বোধ করা যায়? বিশ্বাসযোগ্য নির্ভরতা আসে কি?

যেখানে বাংলাদেশের মতো ছোট্টো দেশের অন্তর্ভূক্ত চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল নারী কর্মীদের হিজাব নেকাব বোরকা পরা নিষিদ্ধ করতে পারে সেখানে ভারত সরকার বা তার অন্তর্বর্তী কোনো রাজ্যেই কিন্তু তাঁর হাসপাতাল গুলোতে কর্মীদের পাগড়ি , দাঁড়ি, হিজাব, নেকাব, বোরকা, তুলসীর মালা পরা বা পরে ডিউটি করা নিষিদ্ধ করতে পারে না। কিন্তু স্বাস্থ্য ভবনগুলো পড়ে থাকে নার্সদের হাতের নেইলপলিশ নিয়ে।

ভারতবর্ষ সর্বধর্ম সমন্বয়ের দেশ। সকল ধর্মের প্রতি সমান আচরণ করাই যদি ধর্ম নিরপেক্ষতা তাহলে কোনো ধর্মেরই প্রতি কোনো আচরণই না পোষণ করাটা নিরপেক্ষতা নয় কেনো? আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো ধর্মেরই প্রতি উদারতা মহানুভবতা পোষণ করিনা। আমি কী নিরপেক্ষ নই? আমি কোনো বিশেষ ধর্মের প্রতিও পক্ষপাতদুষ্ট নই। আবার নিরপেক্ষতার বুলি আওড়ে কাউকে কাছের কাউকে পেটের, কাউকে লাথের,কাউকে পিঠের করিনা। হয় সকল ধর্মকে সমান আচরণ করতে হবে নয়তো সকল ধর্মকেই অনাচরণ বা অবমাননা করতে হবে। আর আমি কোনো ধর্মই মানিনা(সামাজিক)। আর তাই রোগী বা রোগের সাথে কম্প্রোমাইজ এর প্রশ্নই আসেনা।
আজকাল যারা সমাজ মাধ্যমে নিরপেক্ষতাকে গালি করে তারা আবার নিজ নিজ কাজের জায়গাতে এহেন আচার আচরণকে সাদরে বরণ করে নেন। এখন কথা হল অহিন্দু জঙ্গি যদি আমাকে মেরে দেয় সেটা অমুসলিম হবার কারনেই মারবে। আবার অমুসলিম জঙ্গি যদি আমাকে মেরে দেয় সেটা অধার্মিক নিরপেক্ষ হবার কারনেই মারবে। আর আমি কলমা এবং গীতার শ্লোক ও রামগান কোনটাই পারিনা। এবং আমার মুখস্থ বলার ক্ষমতা একদম শূন্য।মৃত্যু আমার সর্ব ধর্মের ধার্মিক জঙ্গিদের হাতে সুনিশ্চিত।

নাগরিক সুরক্ষা সরকারের দায়।আমি যে কাশ্মীর গেলেই হিন্দু হবার দায়ে জঙ্গির হাতে মারা পড়বো আর হাসপাতালে ডিউটি করতে গিয়ে মারা পড়বো না কোনো হিন্দু আততায়ীর হাতে একথা কি দেশের সর্বকালের কোনো সরকার সুনিশ্চিৎ করতে পারবেন? কিন্তু এখন কথা হচ্ছে , জঙ্গিদের হাতে সুনিশ্চিত মৃত্যু হবে বলে কি আগে থেকেই ধর্মের মধ্য দিয়ে মৃত্যু বীজ বপন করে রাখবো!এই সর্ব ধর্মকে সমান সম্মান আচরণ দিতে গিয়ে ভারতবর্ষ কি নিজেই পাগড়ি, দাঁড়ি, বোরকা, হিজাব,নিকাব, তুলসীর মালাকে একটু বেশিই গুরুত্ব দিয়ে ফেলছে না কি? সর্বধর্ম সমন্বয়ের দেশ মানে কি রোগের সাথে,রোগীর সাথে, অসুখের সাথে, জীবনের সাথে কম্প্রোমাইজ করা?

✍️ অনিমা মাল

Address

Kolkata

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nurse and Nursing posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share