Neuro Global - Dr. Joydeep Mukherjee, DM Neurology - Nimhans, Bangalore

  • Home
  • India
  • KOLKATA
  • Neuro Global - Dr. Joydeep Mukherjee, DM Neurology - Nimhans, Bangalore

Neuro Global - Dr. Joydeep Mukherjee, DM Neurology - Nimhans, Bangalore NEUROLOGY
STROKE
PARKINSON
DEMENTIA
SEIZURE
TREMOR
IMBALANCE
VERTIGO
MOVEMENT DISORDER
CONVULSION

30/08/2026

Neuro Global রোগী সচেতনতা

ভার্টিগো বা মাথা ঘোরার বিভিন্ন ধরন

ভার্টিগো মানে সাধারণ মাথা হালকা লাগা নয়। ভার্টিগোতে মনে হয় নিজে ঘুরছেন বা চারপাশ ঘুরছে। অনেক সময় এর সঙ্গে বমি বমি ভাব, বমি, হাঁটতে অস্থিরতা, কানে শব্দ, কানে কম শোনা বা মাথাব্যথা থাকতে পারে। ভার্টিগোর কারণ কানের balance system থেকেও হতে পারে, আবার brain/nerve-এর সমস্যার জন্যও হতে পারে। Johns Hopkins-এর vertigo guidance-এ BPPV, vestibular migraine, Ménière’s disease ও vestibular neuritis/labyrinthitis-কে সাধারণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। (Hopkins Medicine⁠)

১. BPPV — position বদলালে মাথা ঘোরা

এটি সবচেয়ে সাধারণ ধরনের vertigo-এর একটি। বিছানায় পাশ ফিরলে, মাথা নিচু করলে, উপরে তাকালে বা শোয়া থেকে উঠলে হঠাৎ ঘুরে যাওয়ার মতো লাগে। সাধারণত কয়েক সেকেন্ড থেকে এক মিনিটের মধ্যে কমে যায়। কানে কম শোনা বা হাত-পা দুর্বলতা সাধারণত থাকে না। BPPV-তে মাথার position বদলালে spinning vertigo হয়; Dix-Hallpike/Hallpike manoeuvre দিয়ে এটি পরীক্ষা করা যায়। (Hopkins Medicine⁠)

রোগী সাধারণত বলেন:
“বিছানায় পাশ ফিরলেই মাথা ঘুরে যায়।”
“উঠতে গেলেই চারপাশ ঘুরে ওঠে।”

২. Vestibular neuritis / Labyrinthitis — হঠাৎ দীর্ঘক্ষণ মাথা ঘোরা

এতে হঠাৎ তীব্র vertigo শুরু হয়, অনেক সময় বমি বমি ভাব বা বমি থাকে, হাঁটতে অস্থির লাগে। Vestibular neuritis সাধারণত vestibular nerve-এর inflammation-এর কারণে হয় এবং hearing loss সাধারণত উল্লেখযোগ্য থাকে না; labyrinthitis হলে কানের উপসর্গ বেশি থাকতে পারে। Johns Hopkins-এর তথ্য অনুযায়ী vestibular neuritis-এ prolonged vertigo হয় এবং dizziness/vertigo-এর ওষুধ অনেক দিন চালালে স্বাভাবিক vestibular compensation দেরি হতে পারে। (Hopkins Medicine⁠)

রোগী সাধারণত বলেন:
“সারাদিন মাথা ঘুরছে, হাঁটতে পারছি না।”
“বমি হচ্ছে, চোখ খুললেই বেশি ঘোরে।”

৩. Ménière’s disease — vertigo + কানে শব্দ + hearing সমস্যা

এই রোগে episodic vertigo-এর সঙ্গে কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, কানে চাপ/ভরাট ভাব এবং hearing কমে যাওয়া থাকতে পারে। NIDCD অনুযায়ী Ménière’s disease inner ear-এর disorder, যেখানে vertigo, tinnitus, hearing loss এবং ear fullness দেখা যায়। (NIDCD⁠)

রোগী সাধারণত বলেন:
“মাথা ঘোরার সঙ্গে কানে ভোঁ ভোঁ করে।”
“এক কান ভারী লাগে, কখনও কম শুনি।”

৪. Vestibular migraine — migraine-এর সঙ্গে মাথা ঘোরা

এতে মাথা ঘোরা ৫ মিনিট থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে। মাথাব্যথা থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে। আলো বা শব্দে অস্বস্তি, বমি বমি ভাব, migraine history বা motion sensitivity থাকতে পারে। NICE guidance-এ recurrent headache history সহ ৫ মিনিট থেকে ৭২ ঘণ্টা dizziness episode হলে vestibular migraine-এর কথা ভাবতে বলা হয়েছে। (Nice⁠)

রোগী সাধারণত বলেন:
“মাথা না ব্যথা করলেও migraine-এর মতো মাথা ঘোরে।”
“আলো-শব্দ সহ্য হয় না, বমি বমি লাগে।”

৫. Central vertigo — brain বা stroke-এর জন্য বিপজ্জনক vertigo

সব vertigo নিরীহ নয়। হঠাৎ তীব্র মাথা ঘোরা, হাঁটতে না পারা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, double vision, হাত-পা দুর্বলতা, মুখ বেঁকে যাওয়া, প্রচণ্ড নতুন মাথাব্যথা বা অজ্ঞান ভাব থাকলে brainstem/cerebellar stroke-এর সম্ভাবনা থাকে। Johns Hopkins উল্লেখ করেছে যে acute vertigo-এর কিছু presentation stroke-এর মতোই হতে পারে এবং eye movement-এর careful examination ছাড়া stroke বাদ দেওয়া কঠিন হতে পারে। NICE sudden-onset acute vestibular syndrome-এ BPPV বা postural hypotension দিয়ে ব্যাখ্যা না হলে urgent stroke pathway referral-এর কথা বলে। (Hopkins Medicine⁠)

রোগী সাধারণত বলেন:
“মাথা ঘোরার সঙ্গে হাঁটতেই পারছি না।”
“ডাবল দেখছি / কথা জড়িয়ে যাচ্ছে / হাত-পা দুর্বল লাগছে।”

৬. Cervical বা ঘাড়-সংক্রান্ত dizziness

ঘাড়ে ব্যথা, stiffness, posture problem, দীর্ঘক্ষণ মোবাইল/কম্পিউটার ব্যবহার বা বাইক চালানোর পরে মাথা ভারী লাগা, ঘাড় ঘোরালে অস্বস্তি বা balance খারাপ লাগতে পারে। তবে শুধু “ঘাড়ের জন্য” ধরে নেওয়া ঠিক নয়—প্রথমে neurological ও vestibular evaluation দরকার।

৭. Vertigo নয়, কিন্তু মাথা ঘোরার মতো লাগে

কখনও রোগী vertigo বললেও আসলে problem হতে পারে—BP কমে যাওয়া, sugar কমে যাওয়া, anemia, dehydration, heart rhythm problem, anxiety, sleep deprivation বা কিছু ওষুধের side effect। তাই “মাথা ঘোরা” শুনলেই শুধু ear medicine বা vertigo tablet খাওয়া ঠিক নয়।

বিপদের লক্ষণ — দ্রুত চিকিৎসা নিন

নিচের লক্ষণগুলির কোনওটি থাকলে দেরি করবেন না:

* হঠাৎ শুরু হওয়া তীব্র vertigo
* হাঁটতে না পারা বা বারবার পড়ে যাওয়া
* কথা জড়িয়ে যাওয়া, মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত-পা দুর্বলতা
* double vision, চোখে অস্বাভাবিক নড়াচড়া, গিলতে অসুবিধা
* নতুন তীব্র মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত, জ্বর
* খিঁচুনি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
* নতুন hearing loss বা কানে তীব্র ব্যথা
* বয়স্ক, diabetes/BP/heart disease থাকা রোগীর নতুন vertigo

Neuro Global-এ কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়?

Neuro Global-এ vertigo রোগীর history, trigger, duration, hearing symptoms, migraine history, BP, sugar, medication review, eye movement examination, balance পরীক্ষা এবং full neurological examination করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী Dix-Hallpike test, vestibular assessment, hearing test, blood test, MRI/CT বা specialist referral পরামর্শ দেওয়া হয়। সব vertigo-তে scan দরকার হয় না; কিন্তু neurological red flag থাকলে দ্রুত evaluation জরুরি।

চিকিৎসা কীভাবে হয়?

কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা আলাদা হয়। BPPV হলে canal repositioning manoeuvre/Epley-type exercise দরকার হতে পারে; vestibular neuritis-এ short-term symptom control ও vestibular rehabilitation helpful হতে পারে; Ménière’s disease-এ ear-related evaluation, lifestyle ও medicine planning দরকার হয়; vestibular migraine-এ migraine trigger control, sleep routine, preventive medicine ও lifestyle advice প্রয়োজন হতে পারে। Johns Hopkins vestibular therapy-কে BPPV, vestibular neuritis ও vestibular migraine-সহ বিভিন্ন vestibular সমস্যায় dizziness কমাতে ব্যবহৃত rehabilitation হিসেবে বর্ণনা করেছে। (Hopkins Medicine⁠)

মনে রাখবেন

ভার্টিগো বারবার হলে শুধু “gas”, “pressure” বা “cervical” বলে অবহেলা করবেন না। সঠিক diagnosis হলে অনেক vertigo রোগী ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকেন। বিশেষ করে vertigo-এর সঙ্গে neurological symptom থাকলে দ্রুত neurologist দেখানো জরুরি।

Neuro Global
Dr Joydeep Mukherjee, DM Neurology, NIMHANS Bangalore
যোগাযোগ: 8910026113
ঠিকানা: 166/2, Jessore Road, Sarat Colony Bus Stop, Kolkata 700081
Near Kolkata Airport Metro Station
Website:

30/08/2026

Neuro Global রোগী সচেতনতা

মাথাব্যথার বিভিন্ন ধরন কীভাবে চিনবেন?

মাথাব্যথা খুব সাধারণ সমস্যা, কিন্তু সব মাথাব্যথা একরকম নয়। ব্যথার জায়গা, ব্যথার ধরন, কতক্ষণ থাকে, বমি/আলোতে কষ্ট/চোখ লাল হওয়া/ঘাড় ব্যথা/জ্বর—এসব দেখে মাথাব্যথার ধরন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। সঠিক রোগনির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি। International Classification of Headache Disorders-এ migraine, tension-type headache ও cluster headache-কে প্রধান primary headache-এর মধ্যে রাখা হয়েছে। (ichd-3.org⁠)

১. মাইগ্রেন

মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণত মাথার এক পাশে বেশি হয়, ধুকপুক বা পালসের মতো অনুভূত হতে পারে, মাঝারি থেকে তীব্র হয় এবং হাঁটাচলা বা কাজ করলে বাড়তে পারে। অনেকের বমি বমি ভাব, বমি, আলো বা শব্দে অস্বস্তি হয়। কারও কারও ব্যথার আগে চোখে ঝলকানি, দাগ, অস্পষ্ট দেখা, হাত-মুখে ঝিনঝিন বা কথা আটকে যাওয়ার মতো aura হতে পারে। (ichd-3.org⁠)

রোগী সাধারণত বলেন:
“আলো সহ্য হচ্ছে না”, “শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করছে”, “মাথা ধুকপুক করছে”, “বমি বমি লাগছে।”

২. টেনশন টাইপ মাথাব্যথা

এটি সাধারণত মাথার দুই পাশে চাপধরা বা ব্যান্ডের মতো ব্যথা। ব্যথা মাইগ্রেনের মতো খুব ধুকপুক করে না, সাধারণত হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার হয়। ঘাড়-কাঁধের পেশি শক্ত লাগতে পারে। দৈনন্দিন কাজ করলে সাধারণত খুব বেশি বাড়ে না। আলো বা শব্দে সামান্য অসুবিধা থাকতে পারে, কিন্তু বমি সাধারণত থাকে না। (Mayo Clinic⁠)

রোগী সাধারণত বলেন:
“মাথায় চাপ চাপ লাগছে”, “মাথার চারদিকে টাইট ব্যান্ড বাঁধা”, “ঘাড়-কাঁধ শক্ত।”

৩. ক্লাস্টার হেডেক

ক্লাস্টার হেডেক খুব তীব্র, সাধারণত এক চোখের চারপাশে বা কপালের এক পাশে হয়। ব্যথা হঠাৎ শুরু হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যে অসহ্য হতে পারে। একই পাশে চোখ লাল/জল পড়া, নাক বন্ধ বা জল পড়া, চোখের পাতা ফুলে যাওয়া বা নেমে যাওয়া হতে পারে। রোগী শুয়ে থাকতে পারেন না, অস্থির হয়ে হাঁটাহাঁটি করেন। (Mayo Clinic⁠)

রোগী সাধারণত বলেন:
“চোখের ভিতর ছুরি ঢুকছে”, “এক পাশে চোখ-নাক দিয়ে জল পড়ছে”, “ব্যথার সময় স্থির থাকতে পারি না।”

৪. সাইনাস বা নাক-সংক্রান্ত মাথাব্যথা

কপাল, গাল, নাকের দুপাশে ভারী ব্যথা হতে পারে। নাক বন্ধ, ঘন সর্দি, জ্বর, মুখ নিচু করলে চাপ বাড়া—এসব থাকলে sinus infection-এর কথা ভাবা যায়। তবে অনেক “সাইনাস মাথাব্যথা” আসলে মাইগ্রেন হতে পারে, তাই বারবার হলে চিকিৎসকের মূল্যায়ন দরকার।

৫. ঘাড় থেকে মাথাব্যথা

ঘাড়ের পেশি, cervical spine বা posture-এর সমস্যা থেকে মাথার পেছন দিকে ব্যথা উঠতে পারে। দীর্ঘক্ষণ মোবাইল/কম্পিউটার, ভুল pillow, বাইক চালানো, কুঁজো হয়ে বসা—এসবের সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে। ঘাড় নাড়ালে ব্যথা বাড়ে বা কাঁধে টান লাগে।

৬. নার্ভের ব্যথা বা Neuralgia

কখনও মাথা বা মুখে বিদ্যুৎ চমকের মতো, কয়েক সেকেন্ডের তীব্র খোঁচা ব্যথা হয়। মুখ ধোয়া, চিবানো, কথা বলা, দাঁত মাজা বা মাথার চামড়া ছোঁয়ার সঙ্গে ব্যথা উঠতে পারে। এটি সাধারণ painkiller দিয়ে সবসময় কমে না এবং neurological evaluation দরকার।

৭. ওষুধ বেশি খাওয়ার জন্য মাথাব্যথা

মাথাব্যথার জন্য বারবার painkiller খেলে পরে painkiller-ই মাথাব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে। মাসে অনেক দিন ব্যথার ওষুধ খেতে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে prevention treatment দরকার।

মাথাব্যথার বিপদের লক্ষণ

নিচের যেকোনোটি থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:

* জীবনের সবচেয়ে তীব্র ও হঠাৎ শুরু হওয়া মাথাব্যথা
* মাথাব্যথার সঙ্গে হাত-পা দুর্বলতা, মুখ বেঁকে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, খিঁচুনি বা অজ্ঞান হওয়া
* জ্বর, ঘাড় শক্ত, বারবার বমি
* মাথায় আঘাতের পরে মাথাব্যথা
* ক্যান্সার, ইমিউনিটি কম, গর্ভাবস্থা বা বয়স্ক বয়সে নতুন মাথাব্যথা
* চোখ লাল, চোখে ব্যথা, আলোতে halo বা দৃষ্টি কমে যাওয়া
* আগের মাথাব্যথার ধরন হঠাৎ বদলে যাওয়া

NICE guidance মাথাব্যথার সঙ্গে painful red eye, neurological symptoms, sudden severe onset বা secondary cause-এর লক্ষণ থাকলে সতর্ক মূল্যায়নের কথা বলে। (Nice⁠)

Neuro Global-এ কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়?

Neuro Global-এ মাথাব্যথার ধরন বোঝার জন্য ব্যথার ইতিহাস, trigger, ঘুম, stress, ওষুধের ব্যবহার, BP, চোখ-নাক-ঘাড়ের লক্ষণ এবং neurological examination করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী MRI/CT, চোখের পরীক্ষা, blood tests বা অন্য investigation পরামর্শ দেওয়া হয়। সব মাথাব্যথায় scan দরকার হয় না; diagnosis অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। NICE guidance-এ বলা হয়েছে, tension-type headache, migraine বা cluster headache নিশ্চিত হলে শুধু reassurance-এর জন্য neuroimaging করার দরকার নেই। (Nice⁠)

মনে রাখবেন

মাথাব্যথা লুকিয়ে বা শুধু painkiller খেয়ে দীর্ঘদিন চালাবেন না। মাথাব্যথার ধরন ঠিকভাবে চিনলে সঠিক চিকিৎসা, trigger control, preventive medicine এবং lifestyle advice দিয়ে অনেক রোগীর জীবনযাত্রা ভালো রাখা যায়।

Neuro Global
যোগাযোগ: 8910026113
ঠিকানা: 166/2, Jessore Road, Sarat Colony Bus Stop, Kolkata 700081
Near Kolkata Airport Metro Station
Website: www.neuroglobal.co.in

Have Peace
23/08/2026

Have Peace

23/08/2026

# আলঝাইমার রোগে বাড়িতে স্মৃতিচর্চা ও মেমরি এক্সারসাইজ

আলঝাইমার রোগে স্মৃতিশক্তি ধীরে ধীরে কমে যায়। মেমরি এক্সারসাইজ রোগ পুরোপুরি সারায় না, কিন্তু নিয়মিত অনুশীলন করলে রোগীর আত্মবিশ্বাস, দৈনন্দিন কাজের ক্ষমতা, মনোযোগ, ভাষা, সামাজিক যোগাযোগ এবং মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। পরিবারের সদস্যরা ধৈর্য নিয়ে সহজভাবে এগুলো করালে রোগী বেশি উপকার পান।

# # ১. দৈনিক রুটিন তৈরি করুন

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠা, খাওয়া, ওষুধ, হাঁটা, ব্যায়াম, স্নান এবং ঘুমের অভ্যাস রাখুন।
রোগীর সামনে একটি বড় ক্যালেন্ডার ও ঘড়ি রাখুন। সকালে তাকে তারিখ, বার, মাস, সময় এবং দিনের পরিকল্পনা ধীরে ধীরে মনে করিয়ে দিন।

**উদাহরণ:**
“আজ সোমবার। সকাল ৯টা। এখন নাস্তা, তারপর ওষুধ, তারপর ১০ মিনিট হাঁটা।”

# # ২. Reality orientation বা বাস্তবতা মনে করানো

প্রতিদিন কয়েকবার শান্তভাবে রোগীকে নিজের নাম, বাড়ির ঠিকানা, পরিবারের সদস্যদের নাম, দিন-তারিখ ও বর্তমান স্থান মনে করিয়ে দিন। ভুল করলে বকবেন না। একই কথা বারবার জিজ্ঞেস করলে বিরক্ত না হয়ে ছোট উত্তর দিন।

**যেমন:**
“আপনি এখন বাড়িতে আছেন। আমি আপনার ছেলে/মেয়ে। এখন দুপুর। আমরা খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

# # ৩. ছবি দেখে স্মৃতি চর্চা

পুরনো পারিবারিক ছবি, বিয়ের ছবি, সন্তানের ছবি, পুরনো বাড়ি বা কর্মস্থলের ছবি দেখিয়ে কথা বলুন।
প্রশ্নগুলো সহজ রাখুন।

**প্রশ্ন করতে পারেন:**
“এই ছবিতে কে আছে?”
“এটা কোন অনুষ্ঠানের ছবি?”
“এই সময় আপনার কী মনে পড়ছে?”

রোগী ভুল বললে সরাসরি “ভুল” বলবেন না। বরং আলতোভাবে ঠিক তথ্য বলুন।

# # ৪. নাম ও মুখ চেনার অনুশীলন

পরিবারের সদস্যদের বড় ছবি নিয়ে নিচে নাম লিখে রাখুন। প্রতিদিন ৫–১০ মিনিট ছবি দেখিয়ে নাম বলার অনুশীলন করান। একসঙ্গে অনেক ছবি দেবেন না। ৩–৪টি ছবি দিয়ে শুরু করুন।

# # ৫. সহজ শব্দ ও ভাষা চর্চা

রোগীকে পরিচিত জিনিসের নাম বলতে বলুন। যেমন—চামচ, কাপ, চশমা, ঘড়ি, কলম, দরজা, জানালা।
তারপর ছোট বাক্য বানাতে বলুন।

**উদাহরণ:**
“এটা কাপ।”
“আমি কাপে জল খাই।”

এতে ভাষা, মনোযোগ ও স্মৃতি একসঙ্গে চর্চা হয়।

# # ৬. ছোট তালিকা মনে রাখার খেলা

প্রথমে ২টি জিনিস বলুন, পরে রোগীকে বলতে বলুন।

**যেমন:**
“চা আর বিস্কুট।”
তারপর ১ মিনিট পরে জিজ্ঞেস করুন, “আমি কী বলেছিলাম?”

রোগী পারলে ধীরে ধীরে ৩টি জিনিসে যান। না পারলে চাপ দেবেন না।

# # ৭. দৈনন্দিন কাজের স্মৃতি ব্যবহার

রোগীকে ছোট ছোট নিরাপদ কাজে যুক্ত করুন। যেমন কাপ সাজানো, ফুলে জল দেওয়া, কাপড় ভাঁজ করা, ডাইনিং টেবিল গুছানো।
কাজের ধাপ খুব সহজ করে বলুন।

**যেমন:**
“প্রথমে কাপটা ধরুন।”
“এবার টেবিলে রাখুন।”
“খুব ভালো হয়েছে।”

# # ৮. গান, কবিতা ও প্রার্থনা

পুরনো গান, কবিতা, শ্লোক বা প্রার্থনা অনেক সময় দীর্ঘদিন মনে থাকে। রোগীর পছন্দের গান শুনতে দিন এবং সঙ্গে গাইতে উৎসাহ দিন। এতে স্মৃতি, আবেগ ও মন ভালো থাকে।

# # ৯. সংখ্যা ও সহজ হিসাব

রোগীর ক্ষমতা অনুযায়ী সহজ গণনা করান। যেমন ১ থেকে ২০ বলা, ১০ থেকে ১ উল্টো বলা, বা ২ টাকা + ৫ টাকা = কত।
হিসাব কঠিন হলে বন্ধ করুন। উদ্দেশ্য পরীক্ষা নেওয়া নয়, মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখা।

# # ১০. Orientation board ব্যবহার করুন

রোগীর ঘরে একটি বোর্ড রাখুন যেখানে লেখা থাকবে:

* আজকের তারিখ
* বার
* সময়
* দিনের প্রধান কাজ
* ওষুধের সময়
* পরিবারের যোগাযোগ নম্বর

লেখা বড় অক্ষরে ও পরিষ্কার হওয়া উচিত।

# # ১১. Memory notebook

একটি ছোট খাতা রাখুন। তাতে প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা লিখে রাখুন। যেমন কে এসেছিল, কী খেয়েছেন, কোথায় গিয়েছিলেন, ডাক্তার কী বলেছেন।
পরিবারের কেউ রোগীকে নিয়ে প্রতিদিন ৫ মিনিট খাতা পড়ে শোনাতে পারেন।

# # ১২. নিরাপত্তা-ভিত্তিক স্মৃতি সহায়তা

আলঝাইমার রোগীর ক্ষেত্রে শুধু স্মৃতি বাড়ানো নয়, নিরাপত্তাও জরুরি।

বাড়িতে এগুলো করুন:

* দরজায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখুন
* গ্যাস, আগুন, ইলেকট্রিক সুইচ ব্যবহারে নজর রাখুন
* ওষুধ আলাদা বাক্সে সাজিয়ে দিন
* রোগীর পকেটে নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর লিখে রাখুন
* একা বাইরে যেতে দেবেন না, বিশেষ করে রোগ বাড়লে

# # ১৩. কীভাবে অনুশীলন করাবেন

প্রতিদিন ১৫–২০ মিনিট করে ১–২ বার অনুশীলন করান। রোগী ক্লান্ত হলে বন্ধ করুন। ভুল করলে বকবেন না। হাসিমুখে উৎসাহ দিন। রোগী যা পারেন সেটাই বারবার করান। নতুন কঠিন কাজ দেওয়ার চেয়ে পরিচিত কাজ বেশি উপকারী।

# # ১৪. যেগুলো করবেন না

* রোগীকে পরীক্ষা নেওয়ার মতো করে প্রশ্ন করবেন না
* “তুমি কিছুই মনে রাখতে পারো না” বলবেন না
* একসঙ্গে অনেক তথ্য দেবেন না
* ভুল করলে রাগ করবেন না
* ক্লান্ত, ঘুমঘুম বা বিরক্ত অবস্থায় অনুশীলন করাবেন না
* রোগীকে একা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে দেবেন না

# # মনে রাখবেন

আলঝাইমার রোগে মেমরি এক্সারসাইজের মূল উদ্দেশ্য হলো রোগীকে সক্রিয় রাখা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো, দৈনন্দিন কাজ সহজ করা এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা। ভালোবাসা, ধৈর্য, নিয়মিত রুটিন, নিরাপদ পরিবেশ এবং চিকিৎসকের follow-up—এই সব মিলিয়েই রোগীর জীবনযাত্রার মান ভালো রাখা


23/08/2026

# স্ট্রোক রোগীকে বাড়িতে কীভাবে যত্ন করবেন

স্ট্রোকের পরে বাড়ির যত্ন খুব গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পরিচর্যা করলে রোগীর হাঁটা-চলা, কথা বলা, খাওয়া, স্মৃতি, মনোবল এবং দৈনন্দিন কাজের ক্ষমতা ধীরে ধীরে উন্নত হতে পারে। পরিবারের ধৈর্য, নিয়মিত ওষুধ, ব্যায়াম এবং নিরাপদ পরিবেশ—এই চারটি বিষয় সবচেয়ে জরুরি।

# # ১. ওষুধ নিয়মিত দিন

ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে দিন। রক্তচাপ, সুগার, কোলেস্টেরল, রক্ত পাতলা করার ওষুধ বা স্ট্রোক প্রতিরোধের ওষুধ নিজে থেকে বন্ধ করবেন না। ওষুধ বাদ গেলে আবার স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

# # ২. রক্তচাপ ও সুগার নজরে রাখুন

বাড়িতে নিয়মিত BP মাপুন। ডায়াবেটিস থাকলে সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখুন। খুব বেশি বা খুব কম BP/Sugar হলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। খাবার, ওষুধ এবং follow-up ঠিকভাবে মেনে চলা জরুরি।

# # ৩. খাওয়ানোর সময় সাবধান থাকুন

স্ট্রোকের পরে অনেক রোগীর গিলতে সমস্যা হয়। রোগী ঘুমঘুম, অজ্ঞান বা কাশি হলে খাওয়াবেন না। সবসময় সোজা বসিয়ে, অল্প অল্প করে, ধীরে খাওয়ান। পাতলা জল অনেক সময় বিপজ্জনক হতে পারে। কাশি, গলার ভেজা আওয়াজ, দমকষ্ট বা জ্বর হলে খাওয়ানো বন্ধ করে ডাক্তারকে জানান।

# # ৪. ফিজিওথেরাপি ও ব্যায়াম চালিয়ে যান

প্রতিদিন নিয়মিত physiotherapy করান। হাত-পা নাড়ানো, বসা, দাঁড়ানো, balance training, হাঁটার অনুশীলন—সবই ধীরে ধীরে করতে হয়। জোর করে টানাটানি করবেন না। ভুলভাবে ব্যায়াম করালে ব্যথা, কাঁধের সমস্যা বা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

# # ৫. পড়ে যাওয়া ঠেকান

বাড়ির মেঝে শুকনো রাখুন। বাথরুমে anti-slip mat ব্যবহার করুন। বিছানার পাশে পর্যাপ্ত আলো রাখুন। রোগী একা উঠে হাঁটতে গেলে পড়ে যেতে পারেন, তাই প্রথম দিকে সহায়তা ছাড়া হাঁটতে দেবেন না। চশমা, লাঠি বা walker দরকার হলে ব্যবহার করুন।

# # ৬. বিছানায় থাকা রোগীর যত্ন

রোগী বেশি সময় বিছানায় থাকলে প্রতি ২ ঘণ্টা অন্তর পাশ ফিরিয়ে দিন। পিঠ, কোমর, নিতম্ব ও গোড়ালিতে pressure sore হচ্ছে কিনা দেখুন। ত্বক পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন। হাত-পা শক্ত হয়ে যাওয়া ঠেকাতে নিয়মিত passive movement করান।

# # ৭. কথা বলা ও বোঝার অনুশীলন

কিছু রোগীর কথা জড়িয়ে যায় বা কথা বুঝতে অসুবিধা হয়। রোগীর সঙ্গে ধীরে, পরিষ্কারভাবে, ছোট বাক্যে কথা বলুন। উত্তর দেওয়ার জন্য সময় দিন। বকাবকি করবেন না। ছবি, অঙ্গভঙ্গি, লেখা বা সহজ শব্দ ব্যবহার করতে পারেন।

# # ৮. মন ভালো রাখুন

স্ট্রোকের পরে রোগীর মন খারাপ, রাগ, কান্না, ভয় বা হতাশা হতে পারে। এগুলো অবহেলা করবেন না। রোগীকে পরিবারের কাজে মানসিকভাবে যুক্ত রাখুন। ছোট উন্নতিও প্রশংসা করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে depression বা sleep-এর চিকিৎসা দরকার হতে পারে।

# # ৯. পুষ্টি, জল ও পায়খানার যত্ন

সুষম খাবার দিন—ডাল, মাছ/ডিম/প্রোটিন, শাকসবজি, ফল এবং পর্যাপ্ত জল। তবে গিলতে সমস্যা থাকলে খাবারের ঘনত্ব চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হবে। কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয় সেদিকে নজর দিন। প্রস্রাব-পায়খানার নিয়মিততা দেখুন।

# # ১০. বিপদের লক্ষণ চিনুন

নিচের লক্ষণগুলির কোনওটি হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন বা জরুরি বিভাগে যান—

* হঠাৎ আবার মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত-পা দুর্বল হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া
* শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
* খাওয়ার পর বারবার কাশি, জ্বর বা বুকের সংক্রমণ
* খিঁচুনি
* খুব বেশি ঘুমঘুম ভাব বা নতুন বিভ্রান্তি
* বারবার পড়ে যাওয়া
* পায়ে অতিরিক্ত ফোলা, ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট

# # ১১. নিয়মিত follow-up করুন

স্ট্রোকের পরে follow-up খুব জরুরি। চিকিৎসক রোগীর ওষুধ, BP/Sugar control, হাঁটা-চলা, গিলতে পারা, ভাষা, স্মৃতি, মনোভাব এবং পুনর্বাসনের অগ্রগতি দেখে চিকিৎসা বদলাতে পারেন।

# # মনে রাখবেন

স্ট্রোকের পরে উন্নতি ধীরে ধীরে হয়। প্রথম কয়েক মাস rehabilitation-এর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। রোগীকে নিরাপদে রাখুন, নিয়মিত ওষুধ দিন, ব্যায়াম চালিয়ে যান, গিলতে সমস্যা থাকলে সাবধান থাকুন এবং পরিবারের সমর্থন বজায় রাখুন। সঠিক যত্নে অনেক রোগী আগের তুলনায় অনেক ভালোভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।

Call now to connect with business.

23/08/2026

# ইডিওপ্যাথিক পার্কিনসন রোগের স্বাভাবিক রোগ-ইতিহাস

ইডিওপ্যাথিক পার্কিনসন রোগ সাধারণত ধীরে ধীরে শুরু হয় এবং বহু বছর ধরে অগ্রসর হয়। শুরুতে রোগী বা পরিবারের লোকেরা খুব সূক্ষ্ম কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করেন—এক হাতে সামান্য কাঁপুনি, হাঁটার সময় এক হাত কম দোলা, শরীর ধীর হয়ে যাওয়া, মুখের অভিব্যক্তি কমে যাওয়া, হাতের লেখা ছোট হয়ে যাওয়া, বা দৈনন্দিন কাজ করতে আগের চেয়ে বেশি সময় লাগা। অনেক সময় রোগের আগের পর্যায়ে ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, ঘুমের মধ্যে হাত-পা ছোড়াছুড়ি করা, অবসাদ বা উদ্বেগের মতো উপসর্গও থাকতে পারে।

রোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাঁপুনি, stiffness বা শক্তভাব, bradykinesia বা নড়াচড়ার ধীরতা এবং হাঁটার সমস্যা স্পষ্ট হয়। সাধারণত এক দিক থেকে শুরু হলেও পরে দুই দিকেই উপসর্গ দেখা যায়। রোগী ছোট ছোট পায়ে হাঁটতে পারেন, শরীর সামনের দিকে ঝুঁকে যেতে পারে, চেয়ার থেকে উঠতে বা বিছানায় পাশ ফিরতে অসুবিধা হতে পারে। কথা ধীরে বা নিচু স্বরে হতে পারে, মুখে লালা জমা, গিলতে অসুবিধা, হাত-পায়ে ব্যথা বা অস্বস্তিও দেখা দিতে পারে।

প্রথম কয়েক বছর ওষুধে সাধারণত ভালো সাড়া মেলে। Levodopa বা অন্যান্য পার্কিনসন ওষুধে নড়াচড়া, stiffness এবং দৈনন্দিন কাজের ক্ষমতা অনেকটাই ভালো হয়। তবে রোগ দীর্ঘদিন চললে ওষুধের প্রভাব ওঠানামা করতে পারে—কখনও ওষুধ কাজ করছে, কখনও কাজ কমে যাচ্ছে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত অতিরিক্ত নড়াচড়া বা dyskinesia হতে পারে।

পরবর্তী পর্যায়ে balance-এর সমস্যা, পড়ে যাওয়া, freezing of gait, গিলতে অসুবিধা, ঘুমের সমস্যা, প্রস্রাবের তাড়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, রক্তচাপ কমে মাথা ঘোরা, স্মৃতিশক্তি বা চিন্তাশক্তির সমস্যা এবং hallucination দেখা দিতে পারে। তবে সব রোগীর রোগের গতি একরকম নয়। কারও রোগ খুব ধীরে এগোয়, কারও তুলনামূলক দ্রুত। নিয়মিত চিকিৎসা, ব্যায়াম, ফিজিওথেরাপি, পুষ্টি, ঘুমের যত্ন এবং পরিবারের সহায়তা রোগীর জীবনযাত্রার মান দীর্ঘদিন ভালো রাখতে সাহায্য করে।

23/08/2026

# আলঝাইমার রোগের স্বাভাবিক রোগ-ইতিহাস

আলঝাইমার রোগ সাধারণত ধীরে ধীরে শুরু হয় এবং বহু বছর ধরে অগ্রসর হয়। শুরুতে রোগী বা পরিবারের লোকেরা খুব সূক্ষ্ম কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করেন—সাম্প্রতিক ঘটনা ভুলে যাওয়া, একই কথা বারবার জিজ্ঞেস করা, জিনিসপত্র কোথায় রাখা হয়েছে ভুলে যাওয়া, নতুন তথ্য মনে রাখতে অসুবিধা, বা দৈনন্দিন কাজের পরিকল্পনা করতে সমস্যা। অনেক সময় রোগী নিজের ভুল বুঝতে পারেন না, কিন্তু পরিবারের লোকেরা পরিবর্তনটি আগে বুঝতে পারেন।

প্রথম দিকে পুরনো স্মৃতি তুলনামূলকভাবে ভালো থাকে, কিন্তু নতুন স্মৃতি ধরে রাখতে সমস্যা হয়। রোগী ওষুধ খাওয়া, বাজার করা, টাকা-পয়সার হিসাব রাখা, রান্না করা, ফোন ব্যবহার করা বা পরিচিত জায়গায় পথ খুঁজে পেতে অসুবিধায় পড়তে পারেন। ভাষা ব্যবহারে সমস্যা হতে পারে—ঠিক শব্দ খুঁজে না পাওয়া, কথা বলতে গিয়ে থেমে যাওয়া বা কথার ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেলা। কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া, বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, বিরক্তি বা সন্দেহপ্রবণতাও দেখা দিতে পারে।

রোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিভ্রংশ আরও স্পষ্ট হয়। রোগী তারিখ, সময়, স্থান বা পরিচিত মানুষের নাম ভুলতে পারেন। পোশাক পরা, স্নান করা, খাওয়া, ওষুধ নেওয়া ইত্যাদি দৈনন্দিন কাজে সাহায্য প্রয়োজন হতে পারে। আচরণগত পরিবর্তন যেমন অকারণ রাগ, অস্থিরতা, রাতে ঘুম কমে যাওয়া, ঘোরাঘুরি করা, ভুল ধারণা বা hallucination কিছু রোগীর ক্ষেত্রে দেখা যায়।

পরবর্তী পর্যায়ে রোগী নিজের পরিচর্যার জন্য পরিবারের উপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। গিলতে অসুবিধা, হাঁটাচলার সমস্যা, পড়ে যাওয়া, প্রস্রাব-পায়খানার নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়া, ওজন কমে যাওয়া এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। শেষ পর্যায়ে রোগী কথা বলা, চলাফেরা এবং খাওয়ার ক্ষমতাও অনেকটাই হারাতে পারেন।

আলঝাইমার রোগের গতি সবার ক্ষেত্রে একরকম নয়। কারও রোগ ধীরে এগোয়, কারও তুলনামূলক দ্রুত। নিয়মিত চিকিৎসা, স্মৃতিচর্চা, নিরাপদ পরিবেশ, ঘুম ও পুষ্টির যত্ন, শারীরিক ব্যায়াম, সামাজিক যোগাযোগ এবং পরিবারের সহানুভূতিশীল সহায়তা রোগীর জীবনযাত্রার মান দীর্ঘদিন ভালো রাখতে সাহায্য করে। ওষুধ রোগ পুরোপুরি সারায় না, তবে উপসর্গ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং রোগী ও পরিবারের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করতে সাহায্য করতে পারে।

Call now to connect with business.

স্নায়বিক ব্যথা বনাম অস্থি সংক্রান্ত ব্যথা
08/06/2026

স্নায়বিক ব্যথা বনাম অস্থি সংক্রান্ত ব্যথা

08/06/2026

বাইক চালকদের পিঠে ব্যথা
08/06/2026

বাইক চালকদের পিঠে ব্যথা

Address

166/2, Jessore Road, Sarat Colony Bus Stop, Near Kolkata Airport Metro Station, PS/Kolkata Airport, PIN
Kolkata
700081

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Neuro Global - Dr. Joydeep Mukherjee, DM Neurology - Nimhans, Bangalore posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Neuro Global - Dr. Joydeep Mukherjee, DM Neurology - Nimhans, Bangalore:

Shortcuts

Share