23/05/2026
এই গরম শুধু গরম নয়—এটা পৃথিবীর কান্না
আজ যে রোদে মাটি পুড়ে যাচ্ছে, বাতাস যেন আগুন হয়ে শরীরে লাগছে, বাচ্চারা বাইরে খেলতে পারছে না, বৃদ্ধরা হাঁপিয়ে উঠছেন—এটা শুধু গ্রীষ্মকাল নয়, এটা প্রকৃতির নীরব আর্তনাদ। পৃথিবী আজ আমাদের দিকে তাকিয়ে যেন বলছে, “তোমরা আমাকে এত কষ্ট দিলে কেন?” আমরা গাছ কেটেছি, পুকুর ভরাট করেছি, নদী নষ্ট করেছি, বাতাসে বিষ ঢেলেছি—আর আজ সেই অন্যায়ের ফল আমাদের ঘরে ঘরে ফিরে আসছে।
এই অসহ্য গরমের পেছনে বড় কারণ গ্লোবাল ওয়ার্মিং, আর সবচেয়ে কষ্টের কথা হলো—এটা কোনো অচেনা শত্রু করেনি, করেছি আমরা মানুষই। যে পৃথিবী আমাদের জল দিয়েছে, বাতাস দিয়েছে, ছায়া দিয়েছে, ফসল দিয়েছে—সেই পৃথিবীকেই আমরা দিনের পর দিন আঘাত করেছি। আজ তাই প্রকৃতি রাগ করছে না, প্রকৃতি কাঁদছে।
কিন্তু এখনও সব শেষ হয়ে যায়নি। মানুষ যদি ধ্বংস করতে পারে, মানুষই আবার বাঁচাতেও পারে। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটা সহজ কিন্তু শক্তিশালী প্রতিজ্ঞা করি—প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি করে গাছ লাগাবো এবং শুধু লাগিয়েই ভুলে যাব না, তার যত্নও নেব। কারণ গাছ লাগানো শুধু ছবি তোলার কাজ নয়, গাছকে বাঁচিয়ে বড় করা আসল দায়িত্ব।
যদি আমাদের প্রত্যেক পরিবার প্রতি সপ্তাহে একটি করে গাছ লাগায়, পাড়ার মানুষ যদি একসাথে সবুজ ফিরিয়ে আনে, স্কুল-কলেজ-মসজিদ-মন্দির-ক্লাবের পাশে যদি গাছের ছায়া তৈরি হয়—তাহলে এক বছরের মধ্যেই আমাদের চারপাশের পরিবেশ অনেকটা বদলাতে শুরু করবে। গরমের তীব্রতা কমবে, বাতাস পরিষ্কার হবে, পাখি ফিরবে, মাটি বাঁচবে, আর আমাদের সন্তানরা পাবে একটু বেশি শ্বাস নেওয়ার মতো পৃথিবী।
আজ যদি আমাদের সন্তানরা একদিন প্রশ্ন করে—“বাবা, তোমরা যখন বুঝেছিলে পৃথিবী মরছে, তখন কী করেছিলে?”—তখন যেন আমরা বলতে পারি, আমরা শুধু কথা বলিনি, আমরা গাছ লাগিয়েছিলাম, আমরা পৃথিবীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলাম।
তাই আসুন, আজ থেকেই শুরু করি—প্রতি সপ্তাহে একটি গাছ, প্রতিদিন একটু যত্ন, আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ পৃথিবী।