28/05/2026
আজ একটু অন্যরকম দিন ছিল।
সকালে কেমো ওয়ার্ড ও ইনপেশেন্টদের রাউন্ড নেওয়ার পর ও opd শুরু করার আগে গেছিলাম আজ গিয়েছিলাম NHPC-র কলকাতা অফিসে।
একটাই উদ্দেশ্য ছিল।
সাধারণ মানুষের কাছে একটা জরুরি কথা পৌঁছে দেওয়া —
ক্যান্সার আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সম্পর্ক।
🎤 হলঘরে যখন বসলাম, দেখলাম উৎসুক মুখ।
এঁরা ডাক্তার নন, রোগী নন।
এঁরা সাধারণ কর্মজীবী মানুষ।
ঠিক এই মানুষগুলোর জন্যই এই কথাগুলো বলা দরকার।
💬 বললাম — জানেন কি, পৃথিবীতে প্রতি ৫টি ক্যান্সারের মধ্যে ১টি হয় শুধু জীবাণু সংক্রমণের কারণে?
ঘরে একটু নড়াচড়া হলো।
অনেকেই ভাবেন ক্যান্সার মানেই ভাগ্যের ব্যাপার।
কিন্তু সত্যিটা হলো — অনেক ক্যান্সারই প্রতিরোধযোগ্য।
🦠 H. pylori ব্যাকটেরিয়া দূষিত জল আর খাবার থেকে আসে।
সেখান থেকে হতে পারে পেটের ক্যান্সার।
HPV ভাইরাস থেকে জরায়ুমুখের ক্যান্সার।
হেপাটাইটিস B ও C থেকে লিভার ক্যান্সার।
এগুলো ঠেকানো যায় — টিকায়, সচেতনতায়, অভ্যাসে।
🦷 দাঁতের যত্নের কথা বলতেই হাসি পেল কয়েকজনের।
কিন্তু আমি বললাম — এটা হাসির বিষয় নয়।
মাড়ির রোগ, ঠিকমতো ব্রাশ না করা —
এগুলো ফুসফুস ও মুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
তামাক, গুটখা, পান-সুপারি?
এগুলো ছাড়ুন — এটাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
🍽️ খাবারের কথা বললাম।
ছাতাপড়া চাল, ডাল, বাদাম থেকে তৈরি হয় অ্যাফ্লাটক্সিন — যা যকৃতের ক্যান্সারের কারণ।
কাঁচা বা আধসেদ্ধ মাছ, অজানা উৎসের জল — এগুলোও বিপজ্জনক।
ফোটানো জল, ঢাকা খাবার, ভালো করে ধোয়া শাকসবজি —
এই ছোট্ট অভ্যাসগুলোই বড় ঢাল।
😷 কেমোথেরাপির সময়ের কথা বলতে গিয়ে হলঘর চুপ হয়ে গেল।
বললাম — কেমো চললে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তলানিতে নামে।
তখন সামান্য জীবাণুও জীবন কেড়ে নিতে পারে।
২০ সেকেন্ড হাত ধোয়া, মাস্ক পরা, সদ্য রান্না করা খাবার —
এগুলো তখন ওষুধের মতোই জরুরি।
আর ৩৮°C-এর বেশি জ্বর হলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারকে জানান।
এক মুহূর্ত দেরি নয়।
🌟 বক্তৃতা শেষে অনেকে প্রশ্ন করলেন, ধন্যবাদ জানালেন।
MBBS, MD (Internal Medicine) from Manipal University