24/07/2026
🚨 কোলেস্টেরল চিকিৎসার ইতিহাসে বিগত কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম বড় একটি সুখবর!
রক্তে কোলেস্টেরল উচ্চ মত্রায় থাকলে সেখান থেকে হার্টের রক্ত নলিতে ব্লকেজ হয়ে হার্টের কার্যকারিতা বিঘ্নিত হতে পারে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্ট্যাটিন গ্রুপের ঔষধ ব্যবহার করা হয়। কোলেস্টেরল কমানোর এই ট্যাবলেটও অনেকের রক্তের চর্বি নিয়ন্ত্রণে আসে না । তখন তাদেরকে পিসিএসকে ৯ ইনহিবিটর গ্রুপের ইনজেকশন দিয়ে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়। অনেক রোগীরা ইনজেকশন নিতে সাচ্ছন্দবোধ করেন না । তাই তাদের জন্য ট্যাবলেট আবিষ্কারের লক্ষ্যে গবেষণা চলছিলো ।
সাম্প্রতিক সময়ে, আমেরিকান ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ওই ইনজেকশনের পরিবর্তে, মুখে খাওয়ার জন্য একটি ট্যাবলেটের অনুমোদন দিয়েছে।
এটি নাম হলো ইনক্লিসিডাইড যা মুখের খাওয়ার প্রথম PCSK9 ইনহিবিটর। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে, এটি কোলেস্টেরল মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রক্তে সক্ষম হয় এবং হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে পারে।
উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে শুধু জীবনযাত্রার পরিবর্তন, ডায়েট এবং স্ট্যাটিন (statins) ওষুধ ব্যবহার করে গাইডলাইন অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো সবসময় সম্ভব হয় না। অতিরিক্ত চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে।
উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের শরীরে যখন LDL এবং ApoB এর মাত্রা কম থাকে, তখন হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে এবং তারা দীর্ঘায়ু হন।
ফেজ-৩ ‘CORALreef Lipids’ ট্রায়ালে দেখা গেছে এটি:
📉 LDL-C কমায় ৫৭-৬০%
📉 ApoB কমায় প্রায় ৫০%
📉 Lp(a) কমায় প্রায় ২৮%
অর্থাৎ, ইনজেকশনের মাধ্যমে নেওয়া PCSK9 ইনহিবিটরগুলোর মতোই এটি অত্যন্ত কার্যকরভাবে LDL কোলেস্টেরল কমাতে পারে।
তাহলে সবচেয়ে বড় পার্থক্যটা কোথায়?
💊 এটি ইনজেকশনের বদলে দিনে মাত্র একবার খাওয়ার একটি বড়ি (পিল)। তবে গবেষণার প্রমাণ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে রাখা ভালো। ইভোলকুম্যাব (evolocumab) এবং অ্যালিরোকুম্যাব (alirocumab) এর মতো ইনজেকশন PCSK9 ইনহিবিটরগুলো ইতিমধ্যেই FOURIER এবং ODYSSEY Outcomes-এর মতো বড় বড় ট্রায়ালে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর প্রমাণ দেখিয়েছে।
এনলিসিটাইড (Enlicitide) এখনও চূড়ান্তভাবে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর সরাসরি প্রমাণ দেখায়নি, কারণ এটি নিয়ে মূল ট্রায়ালটি এখনও চলমান আছে। তবে আমাদের কাছে দশকের পর দশক ধরে চলা গবেষণার প্রমাণ রয়েছে যে, শরীরে LDL-C এবং ApoB এর মাত্রা যত বেশি কমবে, হৃদরোগের ঝুঁকিও ততটাই হ্রাস পাবে।
মনে রাখবেন, এটি কিন্তু স্ট্যাটিন (statins) ওষুধের বিকল্প নয়। লিপিড বা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে স্ট্যাটিন এখনও মূল ভিত্তি এবং বেশিরভাগ রোগীর জন্য এটিই প্রথম সারির চিকিৎসা হওয়া উচিত।
বরং, এনলিসিটাইড উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রটিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।