WBJDF - West Bengal Junior Doctors' Front

WBJDF - West Bengal Junior Doctors' Front This is the official page of West Bengal Junior Doctors' Front (WBJDF). All the official updates and announcements will be notified here.
(4)

৯ ই আগস্ট, সারা রাজ্য যখন আর জি কর হাসপাতালের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ২ বছরের বিচারহীনতায় পথে, ঠিক অন্য দিকে, মালদা জেলার রত...
12/08/2026

৯ ই আগস্ট, সারা রাজ্য যখন আর জি কর হাসপাতালের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ২ বছরের বিচারহীনতায় পথে, ঠিক অন্য দিকে, মালদা জেলার রতুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে যে ভয়াবহ ও বর্বরোচিত সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হলো, তা রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির কঙ্কালসার নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে ফের উন্মোচিত করেছে।

মাত্র ৩০ টি শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন ক্ষমতার দুই থেকে তিন গুণ ইনডোর রোগীর চাপ সামলাতে হয়। আউটডোর, ইমার্জেন্সি, ইনডোর ও লেবার রুম—সব বিভাগে পরিষেবা চালু থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও পরিকাঠামোর চরম ঘাটতি রয়েছে। সেই চরম প্রতিকূলতার মধ্যেই জীবন বাজি রেখে কর্মরতের ওপর নেমে আসে হিংস্র হামলা। আক্রান্ত চিকিৎসকরা সময়মতো ঘটনাস্থল থেকে সরে যেতে না পারলে প্রাণহানি পর্যন্ত ঘটতে পারত। ঘটনার পর কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের দাবি করা হলেও এফআইআর-এর স্পষ্ট বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি, এমনকি পুলিশি হস্তক্ষেপের পরও হাসপাতালে স্থায়ী নিরাপত্তার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এত বড় আতঙ্ক ও প্রাণের ঝুঁকির মধ্যেও আমাদের সহযোদ্ধারা পরিষেবা স্তব্ধ করেননি—জীবনের তোয়াক্কা না করে চিকিৎসা চালিয়ে গেছেন। কিন্তু প্রতিনিয়ত রক্ত ঝরিয়ে পরিষেবা দেওয়া সম্ভব নয়।

আমাদের জরুরি ও সর্বসম্মত দাবিসমূহ:
১. স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি ও ২৪ ঘণ্টার নিরাপত্তা বলয়:
• হাসপাতালের প্রধান প্রবেশপথ বা জরুরি বিভাগের নিকটবর্তী দৃশ্যমান স্থানে অবিলম্বে একটি স্থায়ী Police Outpost (পুলিশ ফাঁড়ি) স্থাপন করতে হবে।
• সেখানে ২ জন সশস্ত্র (armed) পুলিশ ও ২ জন সিভিক ভলান্টিয়ার ২৪ ঘণ্টা উপস্থিত থাকবেন।
• একজন রোগীর সাথে সর্বাধিক ২ জন পরিদর্শকের (visitor/attendant) প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব থাকবে এই বাহিনীর ওপর। অনুমতি মিললেই কেবল প্রবেশ সম্ভব হবে।
• সার্বক্ষণিক প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশি নজরদারির মাধ্যমে হাসপাতালের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।
২.সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও নিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ:
• হাসপাতাল চত্বরের সম্পূর্ণ পরিধি ঘিরে উপযুক্ত উচ্চতার boundary wall বা নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণ এবং বিদ্যমান জীর্ণ প্রাচীর অবিলম্বে মেরামত করতে হবে।
• সুনির্দিষ্ট প্রবেশ ও প্রস্থান পথ তৈরি করে সেখানে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন রাখতে হবে।
৩.জরুরি সুরক্ষা প্রযুক্তি ও অবকাঠামোগত সংস্কার:
• জরুরি বিভাগে অন্তত ৪টি বেডের সুব্যবস্থা করে ইমার্জেন্সি সম্প্রসারণ করতে হবে, যাতে তাৎক্ষণিক ভর্তি বা রেফার করার আগে প্রয়োজনীয় clinical observation রাখা যায়।
• সেখানে কাজ করার পরিবেশ উন্নত করতে এসি ও অতিরিক্ত ফ্যানের ব্যবস্থা করতে হবে।
• পুরো হাসপাতালে প্যানিক অ্যালার্ম, সিসিটিভি নজরদারি এবং দ্রুত সাড়া প্রদানকারী ‘অ্যান্টি-ভায়োলেন্স রেসপন্স সিস্টেম’ চালু করতে হবে।
৪.রোগীর পরিজন নিয়ন্ত্রণ ও পাস ব্যবস্থা:
• ওয়ার্ড ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ বন্ধ করতে visitor pass বা attendant identification ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
৫.আউটডোর ও চিকিৎসকদের কক্ষের নিরাপত্তা:
• Duty/On-duty doctors' room-এর বাইরে সার্বক্ষণিক সিভিক ভলান্টিয়ার বা নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করতে হবে, যাতে অননুমোদিত প্রবেশ, অনভিপ্রেত চাপ বা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দেওয়া যায়।
• আউটডোরের দীর্ঘ লাইন সামলানো এবং বিশৃঙ্খলা এড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত কর্মীবাহিনী নিযুক্ত করতে হবে।
৬.দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তি:
• হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও মেডিকেয়ার সুরক্ষা আইন অনুযায়ী দ্রুত কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
৭.পরিকাঠামো ও চিকিৎসক বৃদ্ধি:
• শূন্যপদ পূরণ করে রোগীর বিপুল চাপ অনুযায়ী অবিলম্বে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করতে হবে।

প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার যেমন রয়েছে, চিকিৎসকদেরও নিরাপদ পরিবেশে কাজ করার মৌলিক অধিকার রয়েছে। 'অভয়া' হত্যার পর টাস্ক ফোর্সের সুপারিশ আজও কাগজে-কলমে বন্দী। আর কত রক্তপাতের পর প্রশাসন জাগবে?
West Bengal Junior Doctors' Front স্পষ্ট ভাষায় জানাচ্ছে, নিরাপত্তা কোনো অনুগ্রহ নয়, নিরাপদ স্বাস্থ্যব্যবস্থার অপরিহার্য শর্ত।

হাসপাতালে হিংসার বিরুদ্ধে ZERO TOLERANCEএখনই নিশ্চিত করতে হবে!

বেশ কিছুদিন ধরে অনেক নাটকীয় পটভূমিকার পর নর্থ বেঙ্গল লবির থ্রেট কালচারে দাগি অভিক দে ঘনিষ্ঠ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের সু...
12/08/2026

বেশ কিছুদিন ধরে অনেক নাটকীয় পটভূমিকার পর নর্থ বেঙ্গল লবির থ্রেট কালচারে দাগি অভিক দে ঘনিষ্ঠ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের সুপারের বদলির ঘটনা সামনে আসে। এখন তা নিয়ে বিরোধিতায় নেমেছে স্থানীয় শাসক দলের নেতৃত্ব। west bengal junior doctors’ front এই অনৈতিক কার্যকলাপের তীব্র প্রতিবাদ জানায় ও রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় থ্রেট কালচারের পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই অপচেষ্টাকে ধিক্কার জানায়।

আপনারা ইতিমধ্যেই অবগত অভিক দে ঘনিষ্ঠ বর্ধমানের সুপার, ডাঃ তাপস ঘোষ - এর বিরুদ্ধে ছাত্রদের অনৈতিক ভাবে নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ও অভিযোগ সামনে আসার পরও তাঁকে আরও অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করার অর্ডার সামনে আসে। এরপরে তড়িঘড়ি রবিরার দিনের বারবেলার অর্ডারে তাঁকে বদলি করা হয় কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজে।

ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য দফতরের উদ্যোগে অভিক দের PG Seat নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে, যেখানে স্পষ্টত অভিযোগ তাকে এই seat পেতে প্রত্যক্ষ আধিকারিক সুবিধে দিয়েছিলেন এই অভিযুক্ত সুপার। বর্ধমান হাসপাতালের anamoy Superspeciality Wing হাসপাতালে ডিউটি না করেই তাকে সার্ভিস কোটায় PGSeat অন্যায্য ভাবে পাইয়ে দিতে সাহায্য করে এই সুপার।
এ ছাড়াও অভিক দের জন্মদিনে অভিযুক্ত সুপার তাকে নিজের অফিসে ডেকে কেক খাওয়ানোর ছবি বহু আলোচিত হয়।
২০২৪ সালে এই সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল ৫ জন তৃণমূল ঘনিষ্ঠ উত্তরবঙ্গ লবির ছাত্রকে গ্র্যান্ড অনার্স পাওয়ানোর জন্য তিনি নানা ভাবে শিক্ষক দের উপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং নম্বর বাড়িয়ে তাদের অনার্স পাকা করেন।
সম্প্রতিকালে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তিনি একজন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপিকা কে আবারও চাপ দিয়ে ৬ জন ফেল করা ছাত্রদের পাস করিয়েছেন। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন সেই অধ্যাপিকা।
বর্ধমানের নতুন আগত অধ্যক্ষ কিছুদিন আগে এক প্রতিবেদনে এও স্বীকার করেছেন যে এই সুপার তাকে চাপ দিয়েছেন বর্তমান Dean শিক্ষককে কে সরানোর জন্য এবং বলেছেন এই নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, DM ও SP স্বয়ং তাঁকে নাকি দিয়েছেন।
ইতিমধ্যে রবিবার এই বিতর্কিত সুপার এর বদলির নির্দেশ জারি করে স্বাস্থ্য ভবন।
তারপরই আমরা তথ্য প্রমাণ সহ জানতে পারি, এই দাগি সুপারের বদলির নির্দেশকে প্রত্যাহার এর জন্য স্থানীয় শাসক দলের বেশ কিছু নেতৃত্ব স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে চিঠি দিয়ে তাঁর স্মরণাপন্ন হয়েছে।

ইতিমধ্যেই পাহাড় প্রমাণ আর্থিক দুর্নীতি, থ্রেট কালচারের পরোক্ষ সহযোগিতা আর অভয়া কাণ্ডে বেশ কিছু প্রমাণ লোপাটে অভিযুক্ত নারায়ণ স্বরূপ নিগমের মতন মুখ্য স্বাস্থ্য সচিবকে এক পদে বহাল রাখা নিয়ে আমরা বারবার সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্ঠা করেছি, এবারে বর্ধমানের ক্ষেত্রেও হাসপাতালের অভিযুক্ত সুপারকে যথা স্থানে রেখে দুর্নীতি ও থ্রেট কালচারের স্বজনপোষণ করার রাজনৈতিক অভিসন্ধিকে আমরা তিব্র ধিক্কার জানাই।

তাই west bengal junior doctors’ front স্পষ্টত জানাতে চায় যে যদি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে হলে হাসপাতালে অভিযুক্তদের যথাস্থানে বহাল না রেখে দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন ও রাজনৈতিক স্বার্থ ব্যতিরেখে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন।

৯ আগস্ট। অভয়ার স্মরণে, মানুষের পাশে এবং ন্যায়ের দাবিতে।আজ ৯ আগস্ট, সকালে আর জি কর হাসপাতাল সংলগ্ন খালপারের বস্তি এলাকায় ...
09/08/2026

৯ আগস্ট। অভয়ার স্মরণে, মানুষের পাশে এবং ন্যায়ের দাবিতে।

আজ ৯ আগস্ট, সকালে আর জি কর হাসপাতাল সংলগ্ন খালপারের বস্তি এলাকায় ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট (WBJDF)-এর উদ্যোগে আয়োজিত হলো বিশেষ ‘অভয়া ক্লিনিক’। অভয়ার স্মৃতিকে শুধু স্মরণে নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে ধারণ করাই ছিল এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

এই এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠিন। অপর্যাপ্ত শৌচালয়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে বহু মানুষ চর্মরোগে ভুগছেন। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, দীর্ঘদিনের বিভিন্ন অসুখ, হাঁটু ও গাঁটের ব্যথার মতো সমস্যা নিয়েও বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য এসেছেন।

ক্লিনিকে রক্তচাপ, রক্তে শর্করাসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং রোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় ওষুধ। তবে এই ক্লিনিক শুধুমাত্র চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার কর্মসূচি ছিল না। প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাঁদের সঙ্গে কথা বলা এবং তাঁদের মনে এই বিশ্বাস তৈরি করা যে স্বাস্থ্যসেবা তাঁদেরও অধিকার, সেটাও ছিল আমাদের দায়িত্বের অংশ।

চিকিৎসা মানুষের জন্য। অভয়ার স্মৃতিও মানুষের মধ্যেই বেঁচে থাকুক।

তার সাথে দু বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও বিচারব্যবস্থা, তদন্তকারী এজেন্সি আর প্রশাসনের ব্যর্থতায় অভয়া যে আজও বিচার পেলোনা তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের একটা মাধ্যম ও বটে এই অভয়া ক্লিনিক।।

এরপর পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, দুপুর ২টায় কলেজ স্কোয়ার থেকে ধর্মতলা ন্যায়ের দাবিতে প্রতিবাদী মিছিল।

দু'টো বছর পেরিয়ে গেছে। সময় এগিয়েছে, কিন্তু বিচার কতটা এগিয়েছে?

সরকার পরিবর্তনের আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্তের ক্ষেত্রে সিবিআইয়ের তদন্তকারী দলের রদবদল এবং কয়েকজন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের সাসপেনশন ছাড়া দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। নতুন SIT গঠিত হয়েছে, তদন্তের দায়িত্বে থাকা সীমা পাহুজাকে সরানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্নটা একই:

বিচার কোথায়?

সঞ্জয় রাই ছাড়া আজ পর্যন্ত আর কেউ গ্রেফতার হয়নি। এখনও জমা পড়েনি কোনও সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট।

যাঁদের ভূমিকা নিয়ে শুরু থেকেই গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত কতদূর এগোল? কেন তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে স্পষ্টতা নেই? এবং তার চেয়েও বড় কথা এত এত তদন্তের ফলাফল টা কী হচ্ছে? নাকি বিচার শুধুই খবরের চ্যানেলের রোমাঞ্চকর হেডলাইন এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ?

আর জি করের ঘটনা শুধু একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড নয়, এর সঙ্গে উঠে এসেছে গভীর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগও। সেই অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায় নির্ধারণে দীর্ঘসূত্রিতা স্বাভাবিকভাবেই মানুষের আস্থা ও বিচারব্যবস্থার প্রতি প্রশ্ন তৈরি করছে।

পুরানো শাসক দলের থ্রেট কালচারের বহু মাথা রাই সময় সুযোগ বুঝে নতুন শাসক দলের ঘনিষ্ঠ হয়েছেন, যে ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা পুরানো সরকারকে গদি থেকে ছুঁড়ে ফেলে নতুন সরকারকে নির্বাচিত করল, সেই আকাঙ্ক্ষার সম্মান রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। ফলেই স্বাস্থ্যব্যবস্থার ঘুঘুর ভাষা না ভেঙে সেই একই কাঠামো দিয়ে যদি গোটা ব্যবস্থা টা চলে তা এই আকাঙ্ক্ষার প্রতি অপমান। সন্দীপ ঘোষ গ্যাং এর অসংখ্য দুর্নীতি ও অপরাধের সরাসরি পৃষ্ঠপোষক স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের মতো উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরাও বহাল তবিয়তে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার শীর্ষে বসে আছেন। ভাবার কোনো কারণ নেই যে সাধারণ মানুষ এগুলো লক্ষ্য করছেন না বা খুব ভালোভাবে বিষয়গুলো দেখছেন।

প্রতিবাদী মিছিলে উঠে এল এই বক্তব্যগুলোই স্লোগানে, বক্তব্যে, পথচলায়।

দাবি স্পষ্ট। প্রশ্ন স্পষ্ট। উত্তর এখনও অধরা।

ধর্মতলায় মিছিল শেষে ডোরিনা ক্রসিং এ সহযোদ্ধা সংগঠন অভয়া মঞ্চের প্রতিবাদী জমায়েতে যোগদান করে আমাদের প্রতিনিধিরা সেখানে বক্তব্য রাখেন।

৯ আগস্ট আমাদের কাছে শুধু একটি তারিখ নয়। ভুলতে বা ভোলাতে না দেওয়ার অঙ্গীকারের দিন।

অভয়ার জন্য বিচার চাই। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ভিতরের দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই। দোষীদের শাস্তি চাই। বিচারহীনতার অবসান চাই। আর একটাও অভয়া যাতে না হয় তা সুনিশ্চিত হওয়া চাই।

দাবি আদায় অবধি লড়াই চলবে।

07/08/2026

দেখা হচ্ছে রাজপথে।

৯ই আগষ্ট, রবিবার, দুপুর ১:৩০টা

কলেজ স্কোয়ার থেকে ধর্মতলা, অভয়ার ন্যায়বিচারের দাবিতে প্রতিবাদী মিছিল!

আবারও একটা ৯ই আগস্ট। আরও একটা বছর। তবু অভয়ার বিচার আজও অধরা।দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আজও সি.বি.আই.-এর চার্জশিট নেই। নতুন এ...
06/08/2026

আবারও একটা ৯ই আগস্ট। আরও একটা বছর। তবু অভয়ার বিচার আজও অধরা।

দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আজও সি.বি.আই.-এর চার্জশিট নেই। নতুন এস.আই.টি. গঠিত হয়েছে, কিন্তু সংবাদমাধ্যমের চটকদার শিরোনাম ছাড়া তদন্তের বাস্তব অগ্রগতির কোনও স্পষ্ট চিহ্ন আমরা দেখতে পাচ্ছি না।

বিচারের অপেক্ষা দীর্ঘ হতে পারে, কিন্তু ন্যায়বিচারের দাবি কখনও পুরোনো হয় না।

আসুন, বিচারহীনতার বিরুদ্ধে আবারও পথে নামি।

৯ই আগস্ট, দুপুর ১:৩০টা কলেজ স্কোয়ার থেকে ধর্মতলা।

অভয়ার বিচার চাই।

আজ যৌথ ভাবে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট (WBJDF) ও জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অব ডক্টরস (JPD)-এর পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য ভব...
04/08/2026

আজ যৌথ ভাবে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট (WBJDF) ও জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অব ডক্টরস (JPD)-এর পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য ভবনে ডিএমই (DME) ও ডিএইচএস(DHS)-এর কাছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ডেপুটেশন দেওয়া হয় এবং সেগুলির দ্রুত ও ন্যায্য সমাধানের দাবি জানানো হয়।

১. বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে সম্প্রতি জারি হওয়া সেই অগণতান্ত্রিক বিজ্ঞপ্তি, যেখানে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বা প্রতিবাদের উপর কার্যত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, তা নিয়ে আমরা তীব্র আপত্তি জানাই। যেকোন গণতান্ত্রিক পরিবেশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এক মৌলিক অধিকার—তাই এই ধরনের নির্দেশিকা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। মৌখিক ভাবে আশ্বাস দিয়েছেন নোটিশ প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। লিখিত ভাবে অফিসিয়ালি নোটিশ প্রত্যাহার কত দ্রুত হয় আমরা তা নজরে রাখব।

২. বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের আরেকটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয়ও উত্থাপিত হয়। অভিযোগ করেছেন বিভাগীয় প্রধানের নিজেই যে তার উপর চাপ সৃষ্টি করে ফেল করা কয়েকজন শিক্ষার্থীর নম্বর বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য, যার বিরুদ্ধে এই ভয় প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে সেই অভিযুক্ত হাসপাতাল সুপার (MSVP)কে নিজস্ব পদে বহাল রেখে স্বচ্ছ তদন্ত কোন ভাবে সম্ভব নয় বরং তাতে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে। নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করতে নতুন কমিটি গঠন করে দ্রুত তদন্ত শেষ করার দাবি জানানো হয়েছে।

৩. গতকাল ২০২১ - ২৪ ব্যাচের শূন্যপদ বেরিয়েছে, তা যথেষ্ট ভাবে আপডেটেড নয়, এ বাদে ২০২২ - ২০২৫ ব্যাচের শূন্যপদ এখনও দেওয়া হয়নি, কাউন্সেলিং তো দূরের কথা। এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবিও জানানো ও দ্রুত শূন্যপদ ( ভ্যাক্যান্সি) আপডেট করার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়।

৪. এছাড়াও, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য ভবনে ডিটেলমেন্টে কর্মরত মেডিক্যাল অফিসারদের (MO-SUPY) নিয়মিত পোস্টিংয়ের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। আমরা মনে করি, তাদের দ্রুত পোস্টিং ফিরিয়ে দেওয়া হলে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও শক্তিশালী হবে।DHS sir জানান , ইতিমধ্যেই পোস্টিং প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, আমরা তা আরও দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছি।DHS জানিয়েছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।

চিকিৎসক সমাজের ন্যায্য অধিকার, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে এই দাবিগুলির দ্রুত বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। আমরা এই বিষয়গুলির অগ্রগতির উপর নজর রাখব এবং প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও একইভাবে চিকিৎসক সমাজের স্বার্থে সোচ্চার থাকব।

Today, the West Bengal Junior Doctors' Front (WBJDF) and the Joint Platform of Doctors (JPD) jointly submitted a deputation to the Director of Medical Education (DME) and the Director of Health Services (DHS), raising several urgent issues and demanding their prompt and fair resolution.

1. We strongly objected to the recent undemocratic notice issued by Burdwan Medical College, which effectively seeks to restrict peaceful protests and demonstrations within the campus. The right to peaceful protest is a fundamental democratic right, and such directives are unacceptable. We have been verbally assured that necessary steps will be taken to withdraw the notice. We will closely monitor how soon the withdrawal is officially notified in writing.

2. We also raised another serious concern from Burdwan Medical College. The Head of the Department has alleged that they were pressured to increase the marks of students who had initially failed. Although an inquiry committee has been formed, we made it clear that a fair and impartial investigation cannot be ensured while the accused MSVP continues in office, as this may influence the inquiry. We demanded the constitution of a fresh, independent committee and a time-bound investigation.

3. While the vacancy list for the 2021-24 batch was published yesterday, it is still not adequately updated. Furthermore, the vacancies for the 2022-25 batch have not yet been released, let alone counselling. We urged the authorities to immediately update all vacancies and expedite the counselling process.

4. We also highlighted the long-pending issue of Medical Officers (MO-SUPY) working on detainment at Swasthya Bhavan without regular postings. We believe that restoring them to regular postings at the earliest will strengthen the state's healthcare system. The DHS informed us that the posting process has already begun. We welcomed this development while urging that it be completed without further delay. The DHS also assured us that the matter would be discussed with the competent authorities for necessary action.

Protecting doctors' rights, ensuring transparent administration, and preserving a democratic work environment remain our collective priorities. We will continue to monitor the progress of these issues and remain committed to raising our voice whenever required in the interest of the medical fraternity.

The brutal crime that took place on 9 August within the premises of a government hospital and educational institution re...
01/08/2026

The brutal crime that took place on 9 August within the premises of a government hospital and educational institution remains without justice. Time has passed, calendars have changed, yet justice continues to elude us.

Although a considerable period has elapsed since the investigation began, many public questions about its progress remain unanswered. A chargesheet has been filed, but the pace of the judicial process has yet to meet the expectations of the people. In the meantime, there have been significant administrative and political changes. Governments have changed, fresh assurances of a fair investigation have been made, a new Special Investigation Team (SIT) has been announced, and senior investigating officers have been replaced. Yet one question remains unchanged:

Where is the justice?

Governments have changed. Political colours have changed. Promises have changed. What has not changed is the reality of justice delayed. For two long years, people have carried anger, grief, disappointment, and a growing sense of uncertainty. This is not merely the struggle of one family. It is a question of public safety, institutional accountability, and society's faith in the rule of law.

With this conviction, the West Bengal Junior Doctors' Front calls upon citizens to join a protest march on Sunday, 9 August, at 1:30 PM, from College Street to Dharmatala.

This march is not a celebration of political change. It is a collective demand for justice. It is an act of remembrance, resistance, and accountability. It is a reaffirmation that no matter how much time passes, this struggle will continue until justice is delivered.

We appeal to everyone who believes in democracy, justice, and human dignity to stand with us. Your presence will send a clear message: we have not forgotten, we have not compromised, and we will not remain silent until justice is served.

9 August is not just another date on the calendar. It is a test of our collective conscience.

Our journey will not end until justice is done.

সরকারি হাসপাতাল তথা শিক্ষাপ্রাঙ্গণের বুকে সংঘটিত ৯ আগস্টের সেই নৃশংস অপরাধ আজও বিচারহীন। সময় পেরিয়েছে, ক্যালেন্ডারের প...
31/07/2026

সরকারি হাসপাতাল তথা শিক্ষাপ্রাঙ্গণের বুকে সংঘটিত ৯ আগস্টের সেই নৃশংস অপরাধ আজও বিচারহীন। সময় পেরিয়েছে, ক্যালেন্ডারের পাতা বদলেছে, কিন্তু ন্যায়বিচারের পথ আজও অধরা।

তদন্তভার গ্রহণের পর দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে মানুষের অসংখ্য প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি। চার্জশিট দাখিল হয়েছে, কিন্তু বিচারের বাস্তব অগ্রগতি এখনও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ইতিমধ্যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে নানা পরিবর্তন এসেছে। ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, নতুন করে তদন্তের আশ্বাস এসেছে, নতুন বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের ঘোষণা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদেরও বদলি করা হয়েছে। কিন্তু এতসব পরিবর্তনের পরেও মূল প্রশ্নটি একই রয়ে গেছে।

বিচার কোথায়?

দল বদলেছে, রং বদলেছে, প্রতিশ্রুতির ভাষা বদলেছে। বদলায়নি শুধু বিচারহীনতার বাস্তবতা। দীর্ঘ দুই বছর ধরে মানুষের বুকে জমে আছে ক্ষোভ, বেদনা, হতাশা এবং এক গভীর অনিশ্চয়তা। এই বিচারহীনতা কেবল একটি পরিবারের নয়। এটি সমগ্র সমাজের নিরাপত্তাবোধ, রাষ্ট্রের জবাবদিহি এবং ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থার প্রশ্ন।

এই কারণেই West Bengal Junior Doctors’ Front আগামী ৯ আগস্ট (রবিবার), দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে, কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত একটি প্রতিবাদী পদযাত্রার আহ্বান জানাচ্ছে।

এই মিছিল কোনো রাজনৈতিক পালাবদলের উদ্‌যাপন নয়। এটি বিচারহীনতার বিরুদ্ধে নাগরিকের কণ্ঠস্বর। এটি স্মরণ, প্রতিবাদ এবং জবাবদিহির দাবি। এটি সেই অঙ্গীকার, যা বলে, সময় যতই পেরিয়ে যাক, বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না।

আমরা সকল শুভবুদ্ধিসম্পন্ন, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী মানুষকে আহ্বান জানাই, এসে দাঁড়ান এই প্রতিবাদী পদযাত্রায়। আপনার উপস্থিতিই প্রমাণ করবে, আমরা ভুলিনি। আমরা আপস করিনি। আমরা বিচার না হওয়া পর্যন্ত নীরব থাকব না।

৯ আগস্ট শুধু একটি তারিখ নয়। এটি আমাদের বিবেকের পরীক্ষা।

বিচার না হওয়া পর্যন্ত পথ চলা থামবে না।

কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, ভয়হীন কাজের পরিবেশ অভয়া আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ দাবি। বিগত বছরগুলোতে আমরা দেখেছি বারবার নিজে...
30/07/2026

কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, ভয়হীন কাজের পরিবেশ অভয়া আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ দাবি। বিগত বছরগুলোতে আমরা দেখেছি বারবার নিজেদের কর্মক্ষেত্রে, হাসপাতালে নিগৃহীত হতে হয়েছে চিকিৎসক - নার্স - স্বাস্থ্যকর্মীদের, অনেক ক্ষেত্রেই চরম শারীরিক নিগ্রহের শিকার হয়ে রক্তাক্ত হয়েছি আমরা। কিন্তু কোনও ক্ষেত্রেই দৃষ্টান্ত মূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, শাস্তি পায়নি অপরাধীরা। সরকার বদলের পর আমাদের আশা ছিল পরিস্থিতি বদলাবে, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে, ভয়হীন পরিবেশে কাজ করতে পারব আমরা। কিন্তু সরকার বদল হলেও পরিস্থিতি বদলাল না। পুঞ্চা থেকে জঙ্গিপুর - বারবার আক্রান্ত হয়েছেন চিকিৎসক-চিকিৎসকর্মীরা।

পেপার লিক এর প্রতিবাদে হওয়া আন্দোলনের সময় ধর্মতলায় নিগৃহীত হন কিছু সাংবাদিক। মুখ্যমন্ত্রী তৎক্ষণাৎ গ্রেফতারির নির্দেশ দেন, বিধায়করা মিছিল করেন, সংবাদ মাধ্যমে হেডলাইন হয় সেই খবর। প্রায় একই সময়ে জঙ্গিপুরে আক্রান্ত হন এক চিকিৎসক, মারের চোটে মাথা ফেটে রক্তপাত হয় তার। কিন্তু সেই নিয়ে প্রশাসনের তরফ থেকে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয় না, কোনও গ্রেফতারি হয় না, বড় মিডিয়া গুলোতে সে খবর আসেনি বললেই চলে, কোনও মন্ত্রী বা বিধায়ক এই ঘটনার বিরুদ্ধে ন্যূনতম কোনও বক্তব্যই রাখেননি। বারবার চিকিৎসক নিগ্রহ নিয়ে প্রশাসনের এই ঔদাসীন্য, নিরাপত্তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়া, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করা - এ সবই আমাদের হতাশ করে, আহত করে।

নিরাপত্তাহীন পরিবেশে, যেকোন মুহূর্তে আক্রান্ত হওয়ার উদ্বেগ নিয়ে কেউই নিজের কাজ ভালোভাবে করতে পারেন না। চিকিৎসা এমন একটি পেশা যাতে মানুষের জীবন বাঁচানোর, মানুষকে সুস্থ করার লড়াই চলে প্রতি মুহূর্তে। মানুষের শরীরের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া বহুক্ষেত্রেই খুব জটিল, চিকিৎসা বিজ্ঞানের অনেক অগ্রগতি সত্ত্বেও অনেক রোগের ব্যাপারে সবকিছু এখনও জানিনা আমরা। তার মধ্যেও বহুক্ষেত্রেই অপ্রতুল পরিকাঠামোয়, সীমিত লোকবল নিয়ে মানুষকে সুস্থ করার জন্য লড়াই করি আমরা, চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীরা। সে লড়াইতে সবক্ষেত্রে জিততে পারি না, অনেক ক্ষেত্রেই হার হয় আমাদের। কিছুক্ষেত্রে আমাদের ভুল ও হয়, আমরাও মানুষ। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই যথাসম্ভব চেষ্টা করেও হেরে যেতে হয় আমাদের। এই হেরে যাওয়া আমাদের কষ্ট দেয়, অনেক ক্ষেত্রেই হতাশা নিয়ে আসে।

কিন্তু যথাযথ চেষ্টার পরও যদি গাফিলতির আঙুল ওঠে আমাদের দিকে, নেমে আসে শারীরিক অত্যাচার - তাহলে সে কষ্ট, সে বেদনার কোনও তুলনা হয় না। রোগীর জীবন - মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে প্রাণ বাঁচানোর জন্য শেষ চেষ্টা হিসেবে আমরা সি পি আর দিই, আড্রেনালীন ইনজেকশন দিই; কোনও ক্ষেত্রে আমরা সফল হই, কোনও ক্ষেত্রে ব্যর্থ। কিন্তু সেই সিপিআর দেওয়ার পর নিজেকে আক্রান্ত হয়ে রক্তাক্ত হতে হলে, আড্রেনালিন ইনজেকশন দিয়ে জীবন বাঁচানোর চেষ্টাকে ভুল ইনজেকশনে রোগী মৃত্যু হিসেবে অভিহিত হতে দেখলে যে আঘাত পাই - তার চিকিৎসা আমাদের জানা নেই। রোগী এবং চিকিৎসক - কোনও যুযুধান পক্ষ নয়, চিকিৎসার কাজে দুজনেরই লক্ষ্য এক - রোগের নিরাময়, না হলে অন্তত রোগীর কষ্টলাঘব। কোনও চিকিৎসকই, আবার বলি কোনও চিকিৎসকই চান না এই লক্ষ্য পূরণ না হোক, কোনও চিকিৎসক ই চান না চিকিৎসা না পেয়ে বা ভুল চিকিৎসায় তার রোগী মারা যাক। বর্তমানের রোগী এবং চিকিৎসকের আস্থার সম্পর্কের অবনতিতে দুই পক্ষেরই কিছু ভূমিকা আছে হয়তো, কিন্তু তার থেকে অনেক বড় ভূমিকা আছে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর যাদের প্রচারে প্রভাবিত হয়ে যে কোন মৃত্যুই চিকিৎসার গাফিলতির কারণে হয়েছে বলে আজ আমরা মত দিই।

পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাসের এই বাতাবরণ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে, হাসপাতাল - নার্সিংহোমে এই হিংস্রতা আমাদের আটকাতে হবে। যেকোন পেশার মানুষের মত আমাদের ও ভুল হয়, কাজে গাফিলতি থাকতে পারে। গাফিলতি মনে হলে তার বিরুদ্ধে আইনি পথে অভিযোগ হোক, যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা হোক। কিন্তু হাসপাতালে হিংস্রতা দেখিয়ে, চিকিৎসক - স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর আক্রমণ চালিয়ে, কর্মক্ষেত্রে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে কোনও সুরাহা হয় না, বরং ভয় এবং উদ্বেগের পরিবেশে ব্যাহত হয় চিকিৎসা, হাসপাতালে তাণ্ডব চালানো কিছু দুষ্কৃতীর কুকর্মের ফল ভোগ করেন রোগী-চিকিৎসক। রোগীর সুস্থতার জন্য, সঠিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে সুস্থ কাজের পরিবেশ, চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদ কর্মক্ষেত্র অত্যন্ত জরুরি। হাসপাতালে নিরাপদ, ভয়হীন কাজের পরিবেশের জন্য সরকার দায়বদ্ধ হোক, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার দাবিতে রোগী এবং চিকিৎসক মানুষ হয়ে মানুষের পাশে এসে দাঁড়াক।

Address

Satara

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when WBJDF - West Bengal Junior Doctors' Front posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to WBJDF - West Bengal Junior Doctors' Front:

Shortcuts

Share