19/10/2026
ডেঙ্গু কী, কেন হয়, কী কী পরীক্ষা করতে হয় এবং কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?
ডেঙ্গু হলো ডেঙ্গু ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট একটি সংক্রামক রোগ। এই ভাইরাস মূলত সংক্রমিত Aedes প্রজাতির মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। সাধারণত দিনের বেলায় এই মশা বেশি কামড়ায়, বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের দিকে।
বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতেও এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। যেমন—ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার, পানির ড্রাম ও ছাদে জমে থাকা পানি।
ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণ:
🔹 হঠাৎ তীব্র জ্বর
🔹 প্রচণ্ড মাথাব্যথা
🔹 চোখের পেছনে ব্যথা
🔹 শরীর, হাড় ও পেশিতে ব্যথা
🔹 বমি বমি ভাব বা বমি
🔹 ত্বকে লালচে র্যাশ
🔹 দুর্বলতা ও ক্লান্তি
ডেঙ্গু শনাক্ত করতে কী কী পরীক্ষা করা হয়?
১. NS1 Antigen Test: জ্বরের প্রথম দিকে, সাধারণত প্রথম ৭ দিনের মধ্যে, ডেঙ্গু শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
২. Dengue IgM Antibody Test: সাধারণত জ্বর শুরু হওয়ার ৪–৫ দিন পর থেকে শনাক্ত হতে পারে।
৩. CBC (Complete Blood Count): রক্তের প্লেটলেট, হেমাটোক্রিট ও অন্যান্য রক্তকণিকার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করে।
ডেঙ্গুর বিপজ্জনক লক্ষণ:
🔴 তীব্র পেটব্যথা
🔴 বারবার বমি
🔴 নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত
🔴 রক্তবমি বা কালো পায়খানা
🔴 শ্বাসকষ্ট
🔴 অস্বাভাবিক দুর্বলতা, অস্থিরতা বা অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব
🔴 হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া বা প্রস্রাব কমে যাওয়া
ডেঙ্গু হলে কী করবেন?
পর্যাপ্ত তরল পান করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলুন। জ্বরের জন্য সাধারণত প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যায়, তবে সঠিক মাত্রা চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের কাছ থেকে জেনে নিন।
অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন ও অন্যান্য NSAID জাতীয় ব্যথানাশক এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক বা স্টেরয়েড গ্রহণ করবেন না।
সচেতন হোন, নিরাপদ থাকুন। অন্যদেরও সচেতন করুন।
#ডেঙ্গু #স্বাস্থ্যসচেতনতা #ডেঙ্গুপ্রতিরোধ #স্বাস্থ্যতথ্য