24/04/2026
হাম (Measles) শিশুদের একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি সাধারণত 'মরবিলিভাইরাস' (Morbillivirus) নামক ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও টিকা না দিলে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এই পর্যন্ত ১৩৫৮ জন শিশু এই বছর হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং ১২৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিচে শিশুদের হামের লক্ষণ, চিকিৎসা, জটিলতা এবং টিকা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
# # ১. হামের লক্ষণ (Symptoms)
হামের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করার সাধারণত ১০ থেকে ১৪ দিন পর লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করে।
* **প্রাথমিক লক্ষণ:** তীব্র জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া।
* **কোপ্লিক স্পট (Koplik's Spots):** জ্বরের ২-৩ দিন পর মুখের ভেতর গালের ভেতরের দিকে ছোট ছোট সাদাটে দানার মতো দেখা যায়।
* **শরীরে র্যাশ বা দানা:** জ্বরের ৩-৫ দিন পর কান ও মুখমণ্ডল থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ ছড়িয়ে পড়ে।
* **শারীরিক দুর্বলতা:** শিশু অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং খাবারের প্রতি অনীহা দেখা দেয়।
# # ২. হামের চিকিৎসা (Treatment)
হাম মূলত একটি ভাইরাসজনিত রোগ, তাই এর কোনো সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো উপসর্গগুলো উপশম করা এবং জটিলতা রোধ করা।
* **বিশ্রাম ও তরল খাবার:** শিশুকে পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে পানি, ফলের রস ও তরল খাবার খাওয়াতে হবে।
* **জ্বর নিয়ন্ত্রণ:** চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল সিরাপ দিয়ে জ্বর ও শরীরের ব্যথা কমানো যায়।
* **ভিটামিন-এ (Vitamin A):** বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, হাম আক্রান্ত শিশুদের নির্দিষ্ট মাত্রায় ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ালে রোগের তীব্রতা এবং মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
* **চোখ ও নাকের যত্ন:** হালকা গরম পানি দিয়ে চোখ ও নাক পরিষ্কার রাখতে হবে।
# # ৩. সম্ভাব্য জটিলতা (Complications)
হাম থেকে মুক্তি পেলেও অনেক সময় এটি শরীরে মারাত্মক কিছু জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে:
* **নিউমোনিয়া:** হামের পর শিশুদের ফুসফুসে সংক্রমণ বা নিউমোনিয়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
* **ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা:** দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়ার ফলে শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগতে পারে।
* **কানের সংক্রমণ:** অনেক সময় মধ্যকর্ণে সংক্রমণ ঘটে, যা থেকে শিশু শ্রবণশক্তি হারাতে পারে।
* **মস্তিষ্কের প্রদাহ (Encephalitis):** খুব কম ক্ষেত্রে হাম থেকে মস্তিষ্কে সংক্রমণ হতে পারে, যা স্থায়ী ক্ষতি বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
* **অন্ধত্ব:** ভিটামিন-এ এর অভাবে এবং হামের প্রভাবে শিশু অন্ধ হয়ে যেতে পারে।
# # ৪. হামের টিকা (Vaccination)
হাম প্রতিরোধের একমাত্র এবং সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো **হাম ও রুবেলা (MR)** টিকা।
* **টিকার সময়সূচী:** সরকারি টিকাদান কর্মসূচি (EPI) অনুযায়ী শিশুকে সাধারণত দুটি ডোজে এই টিকা দেওয়া হয়।
***প্রথম ডোজ:** শিশুর ৯ মাস পূর্ণ হলে।
***দ্বিতীয় ডোজ:** শিশুর ১৫ মাস পূর্ণ হলে।
***টিকার গুরুত্ব:** এই টিকাটি অত্যন্ত নিরাপদ এবং এটি শিশুকে সারাজীবনের জন্য হামের হাত থেকে সুরক্ষা দেয়।হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ছয় মাস বয়স থেকে ছয় বছর পর্যন্ত সকল শিশুকে হামের টিকা দিতে। যারা আগে ২ ডোজ টিকা দিয়েছেন তাদেরকেও অতিরিক্ত একটি ডোজ নিতে হবে।
# # ৫. প্রতিরোধ ও সচেতনতা
* হাম আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা (Isolation) রাখতে হবে যাতে রোগটি না ছড়ায়।
* শিশুর ব্যবহৃত কাপড় ও অন্যান্য সামগ্রী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
* হামের লক্ষণ দেখা মাত্রই নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে।
**পরিশেষে,** সঠিক সময়ে হামের টিকা দান এবং আক্রান্ত শিশুর সঠিক পরিচর্যাই পারে শিশুকে এই মারাত্মক রোগের হাত থেকে রক্ষা করতে। আপনার শিশুকে সময়মতো সব টিকা দিন এবং সুস্থ রাখুন।
Address: 571,Lift-7,ECB Chattar,Dhaka Cantonment,Dhaka-1206
Contact: 01774-910791
Website: www.shonobangladesh.com
#হাম