30/05/2026
হার্টের কাজ:
পুরো শরীরে রক্ত পাম্প করা। হার্ট প্রতি মিনিটে প্রায় ৭২ বার পাম্প করে।
প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ বার হার্ট পাম্প করে রক্ত সারা শরীরে পৌঁছে দেয়।
হার্টের অসুখ কী?
হার্টের অসুখ বলতে বোঝানো হয় করোনারি আর্টারিতে (হার্টের ধমনী) চর্বি, কোলেস্টেরল ও ফ্যাট জমে যাওয়া।
এই জমাট বাধার ফলে ধীরে ধীরে হার্টের রক্ত সরবরাহ কমে যায়, যা হার্টের সমস্যা সৃষ্টি করে।
বর্তমানে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় হৃদরোগের অন্যতম কারণ।
হার্ট ব্লকেজ কিভাবে হয়?
ব্লকেজ বছরে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে, সাধারণত ১৮-২০ বছর বয়সের পর শুরু হয়।
ব্লকেজ ৭০-৯০% পর্যন্ত হতে ৩০-৪০ বছর সময় লাগে।
৫০% ব্লকেজ হলেও অনেক সময় কোনো সমস্যা অনুভব হয় না কারণ রক্ত সাপ্লাইয়ের জন্য বাকি ৫০% যথেষ্ট থাকে।
হার্টের রক্ত সরবরাহের চাহিদা:
বসে থাকলে হার্টের রক্তের প্রয়োজন হয় মোটের ১০%।
হাঁটার সময় প্রায় ২০% প্রয়োজন।
দৌড়ানোর সময় প্রায় ৩০% প্রয়োজন।
এই কারনে ব্লকেজ ৭০% না হওয়া পর্যন্ত মানুষ হার্টের সমস্যার কোনো লক্ষণ দেখতে পায় না।
ব্লকেজের লক্ষণ:
দৌড়ানোর সময় বুকে ব্যাথা হলে ব্লকেজ প্রায় ৭০% হয়ে গেছে।
হাঁটার সময় ব্যাথা হলে ব্লকেজ ৮০%।
সামান্য হাঁটলেই ব্যাথা হলে ব্লকেজ ৯০% বা তার বেশি।
হাঁটতে গেলে বুকে ব্যাথা অনুভব করা হয়, যাকে বলে "এনজাইনা"।
হার্ট অ্যাটাক (Heart Attack) কী?
ব্লকেজ বাড়তে বাড়তে আর্টারির দেয়ালে একটি পাতলা পর্দা (প্লাক ক্যাপ) তৈরি হয়।
এই পর্দা চাপের কারণে একসময় ছিঁড়ে যেতে পারে।
ছিঁড়ে যাওয়া পর্দার নিচের রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্যকারী কেমিক্যাল রক্তে মিশে রক্ত জমাট বাঁধে (ক্লট তৈরি হয়)।
ক্লট পুরোপুরি রক্ত চলাচল বন্ধ করে দেয়।
এতে হার্টে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, যা হার্ট অ্যাটাক নামে পরিচিত।
হার্ট ব্লকেজ নির্ণয়ের আধুনিক পদ্ধতি:
এনজিওগ্রাফি (Angiography) দ্বারা ব্লকেজের শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।
তবে শতাংশ ফলাফল প্রায়শই গোলাকৃতি (৭০%, ৮০%, ৯০%) দেয়া হয়, যা সম্পূর্ণ সঠিক নয়।
কিছু উন্নত পদ্ধতি যেমন Fractional Flow Reserve (FFR) কিংবা Intravascular Ultrasound (IVUS) দিয়ে ব্লকেজের প্রকৃত প্রভাব নির্ণয় করা যায়।
হার্ট অ্যাটাক থেকে বাঁচার উপায়:
1. ব্লকেজ বাড়ার গতি ধীর করার চেষ্টা করুন।
2. নিয়মিত প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০-৪০ মিনিট হাঁটুন।
3. চর্বি ও কোলেস্টেরল কমানোর জন্য ডায়েট সচেতন হন— বিশেষ করে তেল, মিষ্টি, ভাত, রুটি কম খান।
4. ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ও কোলেস্টেরল নিয়মিত নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
5. ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
6. ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন ও নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
7. ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করুন।
8. সময়মতো হার্ট পরীক্ষা (ইকোকার্ডিওগ্রাম, স্ট্রেস টেস্ট) করান।
জরুরি পরামর্শ:
বুকে ব্যাথা বা অসুবিধা হলে দেরি না করে ডাক্তার দেখান।
হার্ট ব্লকেজ ও হার্ট অ্যাটাক রোধে সময়মতো চিকিৎসা খুবই জরুরি।
#কোরবানী